Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

নাজাতের দশ দিন

মুক্তির আশায় জেগে উঠেছে মুমিনের হৃদয়

Advertisement

Icon

মুফতি ফখরুল ইসলাম ফয়সাল

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তির আশায় জেগে উঠেছে মুমিনের হৃদয়

নাজাতের দশ দিন: মুক্তির আশায় জেগে উঠেছে মুমিনের হৃদয়। ফাইল ছবি

Advertisement

রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা লাভের এক মহিমান্বিত মাস। এ মাসে মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অসংখ্য দুয়ার খুলে দেন। প্রতিটি দিন ও রাতই বরকতপূর্ণ হলেও রমজানের শেষ দশক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ সময়টিই মূলত নাজাত বা জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের পর্ব, যা একজন মুমিনের জীবনে গভীর আত্মিক পরিবর্তনের সুযোগ এনে দেয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশককে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। তিনি এ সময় ইবাদত-বন্দেগিতে অধিক মনোযোগী হয়ে উঠতেন এবং নিয়মিত আমলগুলো আরও বৃদ্ধি করতেন।

সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা অনুযায়ী, শেষ দশক শুরু হলে তিনি যেন সম্পূর্ণভাবে ইবাদতের পরিবেশে নিজেকে নিবিষ্ট করে দিতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) যখন রমজানের শেষ দশকে প্রবেশ করতেন, তখন তিনি ইবাদতের জন্য নিজেকে দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত করতেন, সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে দিতেন, যাতে তারাও ইবাদতে অংশ নিতে পারে।

রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইতিকাফ। ইতিকাফ অর্থ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে নিমগ্ন থাকা। এটি একান্তভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করার এক অনন্য সুযোগ। মহানবী (সা.) নিয়মিত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ আমল অব্যাহত রেখেছিলেন। বর্ণিত আছে, তাঁর ইন্তিকালের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। এতে বোঝা যায়, এ আমলের গুরুত্ব কত গভীর।

এ সময়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়ালের প্রথম দিনে ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের মাধ্যমে রোজার সমাপ্তি ঘটে। তার আগে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ওয়াজিব। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাদারকে অনর্থক ও অশালীন কথাবার্তা থেকে পবিত্র করার জন্য এবং দরিদ্র মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে।

রমজানের শেষ দশকের সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা। এ মহিমান্বিত রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। হাদিসে রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে। কারণ এ রাতেই মানুষের ভাগ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় এবং এ রাতের ইবাদত অগণিত সওয়াবের উৎস হয়ে ওঠে।

সুতরাং রমজানের শেষ দশক একজন মুমিনের জন্য আত্মসমর্পণ, তওবা ও অধিক ইবাদতের এক সোনালি সুযোগ। নবীজি (সা.)-এর অনুসরণে এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলেই রমজানের প্রকৃত কল্যাণ ও মুক্তির বার্তা অর্জন করা সম্ভব।

লেখক : গবেষক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম