ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী
জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র সরব না
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকায় মঙ্গলবার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আগত নারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -পিআইডি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের ২১ দিনের মাথায় মঙ্গলবার রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইরান যুদ্ধের জেরে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো ক্ষেত্রে শুধু কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান তিনি। ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশ গড়ার আহ্বান রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাইলটিং পর্যায়ে প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলার ৩৭ হাজার জন ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এসেছেন।
মঙ্গলবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে মঞ্চে ওঠার আগেই তিনি সোজা চলে যান মাঠে অপেক্ষমাণ নারীদের কাছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নারীরা। নানা স্লোগান দেন তারা। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে। পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন, বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল পাঠের পর বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সতেরোটি পরিবারের ১৭ জন নারী প্রধানের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। কার্ড তুলে দেওয়ার পরপরই সরকারপ্রধান ল্যাপটপে একটি বাটন প্রেস করেন। সঙ্গে সঙ্গে উপকারভোগীদের কাছে নগদ অর্থ চলে যায়। এ সময় তুমুল করতালিতে মুখর হয়ে উঠে অনুষ্ঠানস্থল।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। সরকারের ভাবনা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যদি এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে পেছনে রাখা হয়, শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করা না হয়, তাহলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, সে সময় সমগ্র বাংলাদেশে তিনি নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা স্কুল পর্যায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজ আমরা অর্থনৈতিকভাবে ইম্পাওয়ার (ক্ষমতায়ন) করতে চাই। তাদের সচ্ছলভাবে গড়ে তুলতে চাই। সরকার গঠনের আগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে কীভাবে নারীদের আমরা ক্ষমতায়ন করব। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করে গড়ে তুলব। তারই অংশ হিসাবে আজ এই ফ্যামিলি কার্ড আমরা সমগ্র বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমিকভাবে দেওয়া শুরু করলাম।
প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের কিছু নিয়মনীতি আছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সেসব নিয়মনীতির মধ্যে দিয়ে আমাদের কাজ শুরু করতে হয়। সেই নিয়মনীতির অংশ হিসাবে প্রথমেই পাইলট প্রজেক্ট করতে হয়। সমগ্র বাংলাদেশে ১৪টি জায়গায় বা ১৪টি উপজেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশগ্রহণ করেছেন। কড়াইল, ভাষানটেক, সাতলা এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমিকভাবে বাংলাদেশে যে চার কোটি পরিবার রয়েছে সেই পরিবারের যারা নারীপ্রধান তাদের কাছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হব।
তারেক রহমান বলেন, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। নির্বাচনে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের ওয়াদা দিয়েছিলাম। এক মাসের আগেই আমরা তা পূরণ করতে পেরেছি। সেই জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। আজকের দিনটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ, স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন। কারণ, আপনাদের প্রত্যক্ষ ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমরা জবাবদিহি করতে বাধ্য। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের যদি ক্ষমতায়ন না করা যায়, তবে দেশ সামনের দিকে এগোবে না।
তারেক রহমান বলেন, ৩৭ হাজার নারীর কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। আগামী মাসের ভেতরে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হব। কৃষকদের কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা হয়েছে। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, দেশের পরিবর্তন হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটি আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক, সেটি আমরা বুঝতে পারি। আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।
ফ্যামিলি কার্ড চালুকে ‘ঐতিহাসিক ও আবেগঘন’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বহু বছর ধরে আমরা বসে বসে এই পরিকল্পনা করেছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমতে আজ সেই দিনটি উপস্থিত, যেদিন আমরা এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি। এজন্যই আজকের দিনটি আমার জন্য আবেগঘন। আমি মনে করি, আমার সরকার এবং আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও একটি ইমোশনাল দিন আজকে।
বক্তব্যের শেষে তিনি তার নির্বাচনি স্লোগান মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রত্যেকটি নির্বাচনি জনসভায় একটি কথা আমার বক্তব্যের শেষে আমি তুলে ধরতাম। সেই কথাটি ছোট্ট একটি স্লোগানের মাধ্যমে আপনাদের সবার কমবেশি জানা আছে, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্লোগানটি পৌঁছে গেছে। আজকে সেই স্লোগানটি দিয়েই আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই, সেই স্লোগানটি ছিল: ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, এমপি, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, এই ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এটা নিয়ে যেন কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। দলমত নির্বিশেষে সবাই এই কার্ড পাবেন, কিন্তু সবাই টাকা পাবেন না। টাকা পাবেন শুধু হতদরিদ্ররা। বাকি যারা টাকা পেলেন না, তারা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ডোনেট করলেন।
ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে উচ্ছ্বসিত নারীরা : এদিকে ফ্যামিলি কার্ড ও আর্থিক সুবিধা পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন উপস্থিত নারীরা। অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ব্যক্ত করেন প্রতিক্রিয়া। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী প্রথম কার্ডটি তুলে দেন কড়াইল এলাকার বাসিন্দা মোছা. পারভিন বেগমের হাতে। এরপর পর্যায়ক্রমে বেগম বাসুদা, বেগম পারভিন, বেগম স্বর্ণা, বুকনা বেগম, বেগম জোসনা, মোছাম্মৎ তাসলিমা আক্তার, বেগম রাশিদা আক্তার, বেগম হোসনা আক্তার, রিনা বেগম, বেগম শামসুন্নাহার, রোকসানা আক্তার, মোসাম্মৎ মারফুজা, বেগম রিনা আক্তার, মোসাম্মৎ সুমি খাতুন, আকলিমা বেগম ও মিনারা বেগমের হাতে কার্ড তুলে দেন।
কার্ড পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করেন রিনা বেগম। তিনি জানান, তার তিন ছেলেমেয়ে। বড় মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। মেজো ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জীবনে কল্পনাও করিনি এই কার্ডটি পাব। কার্ডটি আমার কাছে স্বপ্নের মতো। কার্ডটি পেয়ে আমি অনেক খুশি। আমার অনেক উপকার হবে। এই টাকায় আমি ছেলেমেয়েদের খাতা-কলম, পরিবারের বাজার যেমন চাল-ডাল, তরিতরকারি কিনতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বেগম রাশিদা আক্তার বলেন, ‘আমি ভাষানটেক বস্তি থেকে এসেছি। ভাষানটেক বস্তিবাসীদের কার্ড দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি বাটনে চাপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার অ্যাকাউন্টে টাকা চলে এসেছে। টাকা পেয়েছি। এতে আমার খুব উপকার হবে। স্বামীর একার আয়ে আমরা চলতে পারি না। এই টাকা দিয়ে আমি কিছুটা হলেও প্রতি মাসে স্বামীর পাশে দাঁড়াতে পারব। প্রধানমন্ত্রী, আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা দান করুন। আপনার মঙ্গল কামনা করি, আপনার পরিবারের মঙ্গল কামনা করি।’
এ নিয়ে ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
ঠাকুরগাঁও : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমরা আমাদের কথা রেখেছি। এই কার্ড প্রতিটি ঘরে পৌঁছাবে, এটি এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।’
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ইউআই আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসার ২২ দিনের মাথায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ১৬ তারিখ থেকে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে, যার মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে খরা মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া প্রত্যেক কৃষককে ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচের সুবিধা ভোগ করবেন।
রহিমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ-সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম ও ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। পরে মন্ত্রী গড়েয়ায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামেও বিএনপির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে পাঁচ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার সকালে তার নির্বাচনি এলাকা বন্দর-পতেঙ্গা আসনের বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ-সদস্য আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
দিরাই (সুনামগঞ্জ) : বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে আরও একটি প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে সেটি হলো খাল খনন কর্মসূচি।
মঙ্গলবার দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ জুনিয়র বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে এবং ইউআরসি হরি মোহন রায়ের পরিচালনায়, বক্তৃতা করেন দিরাই-শাল্লা আসনের সংসদ-সদস্য নাছির চৌধুরী, কলিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, কামরুজ্জামান কামরুল এমপি, এম কয়ছর আহমেদ এমপি, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার।
বান্দরবান ও লামা : মঙ্গলবার সকালে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের সংসদ-সদস্য সাচিং প্রু জেরী, জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক মিল্টন মুহুরী, লামা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজা, লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আমির হোসেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মিঠুন, জাহাঙ্গীর আলম ও জসিম উদ্দিন তুষার।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) : ভৈরবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করলেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের তুলাকান্দি গ্রামের ১০১০ জন দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, শিমুলকান্দি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আল-আমিন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল ৮৬টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের ৮৬ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ-সদস্য জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
কার্ড বিতরণ উপলক্ষ্যে বাঞ্ছারামপুর পৌর শহরের জগন্নাথপুর আধুনিক অডিটোরিয়ামে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ-সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এমএ খালেক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক একেএম মুসা।
ভোলা ও চরফ্যাশন : মঙ্গলবার ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ২৩৩ জন নারী প্রধান পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন। উপজেলা পরিষদের হলরুমে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কায়ছার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা এসি ল্যান্ড এমাদুল ইসলাম।
খুলনা : সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠান মঙ্গলবার খালিশপুর হাজী শরিয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তৃতা করেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কেএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম জামশেদ খোন্দকার, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হোসেন জামান। স্বাগত বক্তৃতা করেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়।
বগুড়া : বগুড়ায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গোপালবাড়ি গ্রামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল ওয়াজেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। স্বাগত বক্তৃতা করেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক রকনুল হক। বক্তৃতা করেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ উন নবী সালাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল।
রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত হয়ে পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে ১ হাজার ২০১ পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’র মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পেল। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পাংশা উপজেলা পরিষদে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন- রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ-সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম ও রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ-সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন-সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ আলী আহসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাবু ও সদস্য সচিব কামরুল আলম।
