Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

সংসদে শফিকুর রহমান

রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টের দোসর, মিথ্যাবাদী শপথ ভঙ্গকারী

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টের দোসর, মিথ্যাবাদী শপথ ভঙ্গকারী

ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ফ্যাসিস্টের দোসর, শপথ ভঙ্গকারী ও মিথ্যাবাদী বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার অগণিত গুম-খুনের কোনো প্রতিবাদ করেননি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সংসদে তার ভাষণ দেওয়ার এখতিয়ার নেই। এজন্যই আমরা ওয়াকআউট করে ভাষণ বর্জন করেছি। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ওয়াকআউট করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি এসব কথা বলেন।

রেওয়াজ অনুসারে দিনের সর্বশেষ এজেন্ডা হিসাবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ঘোষণা দিলেই বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তারা ফ্যাসিস্ট আমলের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ছবিসহ নানা স্লোগান লিখিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলতে চাইলেও তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে হইচই করার পরও তাকে কথা বলতে না দেওয়ায় তারা নানা স্লোগান দিতে দিতে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। বিরোধীদলীয় সদস্যদের নানা স্লোগানে সংসদ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

সংসদ থেকে বেরিয়ে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সামনে ওয়াকআউটের প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। শফিকুর রহমান বলেন, তিনটি কারণে এই রাষ্ট্রপতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শহীদদের রক্তে গঠিত এই সংসদে ভাষণ দিতে পারেন না। প্রথমত তিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার গুম, খুন ও গণহত্যার সহযোগী। তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালে সংগঠিত এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রতিবাদ করেননি, একটি কথাও বলেননি। বরং খুনের অনুমোদনকারী ছিলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। তার কাছে পদত্যাগপত্র আছে। পরবর্তী সময়ে তিনি বলেছেন, পদত্যাগের কোনো লিখিত কাগজ তার কাছে নেই। এর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে তিনি মিথ্যাবাদী। তিনি শপথ ভঙ্গ করেছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজের হাতে জুলাই সনদের অর্ডিন্যান্স জারি করেছেন। এই সংসদ অধিবেশনের আগে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে বাধ্য। কিন্তু তা না ডেকে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা কোনো অন্যায় কাজের সমর্থন দেব না। সংসদে জনগণের কথা বলব, জন-আকাঙ্ক্ষার কথা বলব। জুলাই-এর অবমাননা প্রশ্রয় দেব না। আমরা দেশবাসীর পক্ষে থাকব।

সংসদের পরের দিনের বৈঠকে যোগ দেবেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই আসব। জনগণের কথা বলার জন্যই তারা আমাদের সংসদে পাঠিয়েছেন।

উই ওয়ান্ট জাস্টিস : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে এই অভিনন্দন জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্পিকারের কাছে সরকারি ও বিরোধী দল আলাদা হবে না। স্পিকারের কাছে সুবিচার পাবেন। এবারের সংসদের অনেক তরুণ নেতা আছেন উল্লেখ করে তিনি নিজেকেও তরুণ বলে উল্লেখ করেন। স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে সংসদীয় রাজনীতি খুব কম সময় কার্যকর ছিল। বেশির ভাগ সময় দেশ ফ্যাসিবাদের কবলে ছিল এবং সংসদ ছিল কেবলই একটি ‘ডামি’ সংসদ। যারা অতীতে এই চেয়ারে বসেছেন, তারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের ওপর সুবিচার করতে পারেননি।

তিনি আরও যোগ করেন, আপনি একটি দল থেকে নির্বাচিত হয়ে এলেও স্পিকার হওয়ার পর দলীয় পদ ত্যাগ করেছেন। তাই আমরা আশা করি, আপনার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু হবে না। আপনার কাছ থেকে আমরা ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।

সংসদকে কোনো ব্যক্তির চরিত্রহননের কেন্দ্র না বানানোর অনুরোধ জানিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি জনগণের কল্যাণ নিয়ে আলোচনার চেয়ে মানুষের চরিত্রহননে বেশি সময় ব্যয় করা হয়েছে। আমি বিনীত অনুরোধ করব, এই সংসদ যেন কারও অপমানের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। এটি যেন কেবল জনকল্যাণে পরিচালিত হয়।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা আপনাকে বলব, সংসদে কথা বলার ক্ষেত্রে আমরা যেন সেই সুবিচার পাই। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

সব বিষয়ে পরামর্শ করার আহ্বান তাহেরের : সংসদ অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে জটিলতা ছিল। সংসদনেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রস্তাব করেন সংসদের সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেনের নাম। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জামান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, ড. মোশারফ একজন সজ্জন, প্রবীণ রাজনীতিক এবং সাবেক মন্ত্রী। এই সংসদ এবং দেশের জন্য গুরুত্বপুর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি কুমিল্লার মানুষ, আমার বাড়িও কুমিল্লা। এই প্রস্তাবে আমাদের সমর্থন রয়েছে। তবে এটা আমাদের সঙ্গে একটু আগে আলোচনা করে ঠিক করলে কাজটা আরও সুন্দর হতো।

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে : সংসদে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহতদের বিশেষভাবে স্মরণ করে বলেন, এই সংসদকে জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আমিসহ অনেকেই ফাঁসির সেল থেকে সংসদে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছে। অনেকে বিদেশ থেকে দেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, সত্যিকার দেশপ্রেমিক ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে একত্রে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। তাকে আমি কাছ থেকে দেখেছি। তাকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার বহু চেষ্টা হয়েছিল। জোর করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো চাপের কাছে মাথানত করেননি। এজন্যই সত্যিকার আপসহীন নেত্রী তিনি।

সংসদীয় দলের সভা : এর আগে সকালে সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিরোধী দলের সংসদীয় দলের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধী দলের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় বিরোধী দলের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হয়। ডা. শফিকুর রহমান এবং আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের নবীন সদস্যদের প্রয়েজনীয় নির্দেশনা দেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম