Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

সংসদের প্রথম অধিবেশন

বিরোধী দলের প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান নিয়ে উষ্মা

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিরোধী দলের প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান নিয়ে উষ্মা

Advertisement

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময়ে বিরোধী দলের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, স্লোগান ও ওয়াকআউটের ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউটসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদের ভাষা রয়েছে। তবে প্রথম অধিবেশনেই যেভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দেওয়া হয়েছে তা দৃষ্টিকটু ছিল। অবশ্য প্রতিবাদ সহিষ্ণু হওয়া ইতিবাচক বলে মনে করেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও অন্যান্য কমিটি নির্বিঘ্নভাবে গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকা ইতিবাচক ছিল। তবে বৈশ্বিক সংকট বিবেচনায় সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি। জাতীয় ইস্যুতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে সংসদ কার্যকর হবে না এবং দেশের যে অর্থনৈতিক সংকট চলছে তা আরও বাড়বে বলে তারা মনে করেন। তাদের মতে, এর সুযোগ নিতে পারে ষড়যন্ত্রকারীরা। শনিবার যুগান্তরকে দেওয়া ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক এবং সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার এসব মতামত ব্যক্ত করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন বিকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণের জন্য স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আমন্ত্রণ জানালে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মুহূর্তেই বিরোধী দলের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে পড়েন। বিরোধী বেঞ্চ থেকে তখন ‘লজ্জা, লজ্জা’, ‘গেট আউট’, ‘স্বৈরাচারের দালালরা, হুঁশিয়ার সাবধান’-এমন স্লোগান ধ্বনিত হতে থাকে। স্পিকার বারবার শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ওয়াকআউটের ঘোষণা দিলে বিরোধী দলের সব সদস্য একযোগে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। এর আগে সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গঠন করা হয় দুটি কমিটিও।

সংসদের প্রথম অধিবেশন সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়ে ড. মাহবুব উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, আশা-নিরাশা দুটোই আছে। আশার দিক হচ্ছে, চমৎকার পরিবেশে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন এবং শোক প্রস্তাবে সব পক্ষ অংশ নেয়। আর নিরাশার দিক হচ্ছে, বিরোধী দলের ওয়াকআউট। তিনি বলেন, এই ওয়াকআউট কতটুকু যৌক্তিক হয়েছে তা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। তবে সংসদ অধিবেশনের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বেশ কিছু লোকজনের জড়িত হওয়ার বিষয়টি দেখে মনে হচ্ছে অতীতের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। একসময় আওয়ামী লীগও সংসদ থেকে বেরিয়ে সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দেশে কিছু রাজনৈতিক সমস্যা আছে। সংবিধান অনুযায়ী সবকিছুই হচ্ছে এমন নয়। অনেক কিছু সংবিধান অনুযায়ী হচ্ছে। আবার অনেক কিছু সংবিধানের বাইরে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই, দেশে যেসব সমস্যা আছে তা নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলোচনা করে সমাধান করুক। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংকট চলছে, এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অনৈক্য তৈরি হলে তা দেশের জন্য ভালো হবে না। গণতন্ত্রবিরোধী ও ষড়যন্ত্রকারীরা এই অনৈক্যের সুযোগ নেবে।

সংসদে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান অশোভনীয় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তিনি বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মতো কাজগুলো রুটিনওয়ার্ক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব রুটিন কাজগুলো নির্বিঘ্নে হয়েছে, যা ভালো দিক। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময়ে বিরোধী দল যেভাবে স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড দেখিয়েছে, তা শোভনীয় ছিল না। সাধারণত জাতীয় প্রেস ক্লাব বা শাহবাগ মোড়ে এ ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায়, এখন আমরা তা সংসদে দেখলাম। তিনি বলেন, হয়তো সংসদের প্রথম দিকে, তাই তারা এটা অনুধাবন করতে পারেননি। পরে হয়তো তারা অনুধাবন করবেন। তখন প্রতিবাদের ভাষা হয়তো ভিন্নরকম হবে।

প্রতিবাদ সংসদীয় গণতন্ত্রের ভাষা বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, বিরোধী দল স্লোগান দিয়েছে, প্ল্যাকার্ড দেখিয়েছে। তবে তারা এমন কোনো আচরণ করেননি যা ভয়াবহ শত্রুতাপূর্ণ পরিস্থিতির তৈরি করে। বলতে গেলে, সংসদের প্রথম অধিবেশন অনেকটা নির্ঝঞ্ঝাট কেটেছে। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ মানুষের বিনোদনের খোরাক ছিল। তিনি আরও বলেন, যাদের কারণে ও অবদানে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন, তার মুখ দিয়ে তাদেরই বিষোদ্গার হয়েছে। যেই ব্যক্তি বিএনপির চরম বিরোধী ছিলেন, বিএনপি নেতাদের চরিত্র হনন করেছেন, তিনিই আবার সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপির প্রশংসা করেছেন। তার এই ধরনের বক্তব্য মানুষের আনন্দের খোরাক জুগিয়েছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক না থাকলে এই সংসদের পরিণতি ভালো হবে না বলে জানান ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, অতীতে যেসব দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিরোধী দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা করেছে, সেসব সংসদের শেষ পরিণতি ভালো ছিল না। আমি আশা করি, এবার সরকারি দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বিরোধী দলকে নিয়ে সংসদ পরিচালনা করবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম