Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি পুলিশ চিহ্নিত করতে আইজিপির নির্দেশ

Advertisement

নেসারুল হক খোকন

নেসারুল হক খোকন

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি পুলিশ চিহ্নিত করতে আইজিপির নির্দেশ

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

Advertisement

মাদক ও জুয়ায় আসক্ত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার জারিকৃত এক চিঠিতে তিনি বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। 

আইজিপি স্বাক্ষরিত চিঠির শিরোনাম ‘জুয়া খেলা ও মাদকাসক্তে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গ’। এতে বলা হয়, ‘লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কতিপয় পুলিশ সদস্যদের মাঝে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ জুয়া খেলার প্রবণতা দৃশ্যমান হচ্ছে। জুয়া খেলা ও মাদক সেবনের ভিডিও করা হচ্ছে। মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যমে এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে বিষয়টিকে উপজীব্য করে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও ইমেজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় সুনিবিড় মনিটরিং, প্রণোদনা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।’

কঠোর নির্দেশনা দিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘‘বিভাগীয় মর্যাদা রক্ষার্থে প্রতিটি ইউনিট চিফ এ সংক্রান্তে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনাপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নির্দেশনা অমান্যকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিট, থানা ও ফাঁড়িসহ সব ক্ষেত্রে ‘ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা’ মনোনয়নপূর্বক দায়িত্ব প্রদান করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ‘ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা’ এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’’ 

এদিকে আইজিপির এমন নির্দেশনার খবর দুপুরের পর পুরো পুলিশ বাহিনীতে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে পুলিশের অনেক সদস্যকে বলতে শোনা যায়, এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। অতীতে খোদ আইজিপির স্বাক্ষরে এ ধরনের চিঠি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে বিষয়টি অবশ্যই নতুন একটি বার্তা হিসাবে সবাইকে সজাগ ও সচেতন করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। 

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, মাদক ও জুয়া সমাজে মারাত্মক অবক্ষয় তৈরি করেছে। পুলিশও তো সমাজের অংশ। যেভাবে এই অবক্ষয় বিস্তার লাভ করছে-তাতে সন্তান নিয়ে প্রত্যেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন। পুলিশ প্রধানও একজন অভিভাবক। তিনি বলেন, এত বিশাল বাহিনীর কিছু সদস্য সামাজিক এ অবক্ষয়ে জড়িয়ে যেতে পারেন। তবে এরা সংখ্যায় বেশি না। কিন্তু এদেরকে চিহ্নিত করতে না পারলে বাহিনীতেও ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই আইজিপি জুয়াড়ি ও মাদকাসক্তদের চিহ্নিত করতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবিতে কর্মরত একজন ডিসি যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যকে নজরদারির মধ্যে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বেনজীর আহমেদ যখন আইজিপি ছিলেন তখন পুলিশের সব পর্যায়ের কর্মকর্তার ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। ওই সময় কারা ডোপ টেস্ট করেছিলেন এবং তাদের রিপোর্ট কী ছিল তা সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, মাদক ও জুয়া থেকে পুলিশ মুক্ত হলে প্রতিটি নাগরিক আরও দায়িত্বশীল আচরণ পাবে।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম