Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

চট্টগ্রামে ছয় হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

তিন স্থানে জরিমানা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে ছয় হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

ড্রামে অবৈধভাবে মজুত ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দের পর পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় -যুগান্তর

Advertisement

চট্টগ্রাম, শেরপুর, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে অবৈধভাবে ডিজেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার লিটার ডিজেল ভর্তি ৩০টি ড্রাম জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে ডিজেল মজুত করায় শ্রীমঙ্গলে দুই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা, শেরপুরে এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা এবং গোমস্তাপুরে একটি ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সম্পর্কে ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর :

চট্টগ্রাম : পতেঙ্গা এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডিজেলভর্তি ড্রামগুলো জব্দ করা হয়। জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও গোয়েন্দা সংস্থার এ বিশেষ অভিযান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার পরিচালনা করেন। ডিজেল লোডিং ও আন লোডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত তিনটি পাম্পেও অভিযান চালানো হয়।

জেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়-অসাধু লোকজন বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। শুক্রবার পতেঙ্গায় অভিযান চালিয়ে ৩০টি ড্রামে মজুত ছয় হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার ডিজেল পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। তবে কাউকে আসামি করা হয়নি। চক্রের সদস্যদের নাম-পরিচয় উদ্ঘাটনের পর তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত প্রতিরোধের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে সব তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও তেল কারবারিরা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির আওতায় রয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র জানায়, সমুদ্রগামী জাহাজ ও ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পরিবহণের সময় অসাধু চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি তেল অপসারণ করে তা ড্রামে মজুত করে। পরে তা চড়া দামে বিক্রি করা হয়।

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার বিকালে উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ী শান্ত সরকার ও সত্যজিৎ সরকারকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুবিল্লাহ আকন্দ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাস মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ কারণে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জব্দ অতিরিক্ত তেল ও এলপিজি গ্যাস ফায়ার সার্ভিসের জিম্মায় রাখা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন তেলের পাম্প ও ডিপোতে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শেরপুর : শেরপুর শহরে পাঁচতলা আবাসিক ভবনের নিচতলায় ট্যাংক বানিয়ে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল মজুত করায় ব্যবসায়ী তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে একদিনের মধ্যে ডিজেল ও ট্যাংক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শহরের গোপালবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স শিমলা ট্রেডার্সকে জরিমানা ও নির্দেশনা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান।

সূত্র জানায়, আবাসিক ভবনের নিচতলায় তেলের ট্যাংক বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ডিজেল মজুত করে ব্যবসা করছিলেন তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলাল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় শেরপুর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় অবৈধভাবে আবাসিক বাসার নিচে ডিজেলের মজুত করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একদিনের মধ্যে তেল ও ট্যাংক সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জানান, নিয়ম না মেনে দাহ্য পদার্থ বিক্রির অপরাধে মেসার্স শিমলা ট্রেডার্সকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ডিজেল সরিয়ে নিতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : গোমস্তাপুর উপজেলায় গ্রাহককে তেল না দিয়ে মজুত করার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকার মেসার্স বার্দাস অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনে মজুত পরীক্ষা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল ও ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেনের সন্ধান পায়। অথচ তেল নেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সির বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম