Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল ৯ বাংলাদেশির

উদ্ধার আরও ২১

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল ৯ বাংলাদেশির

Advertisement

দালালদের খপ্পরে পড়ে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার ৯ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, যাত্রা শুরুর পর ৬ দিন খাদ্য ও পানি ছাড়া সমুদ্রে ভেসে থাকতে থাকতে ২২ অভিবাসীর প্রাণ গেছে। এ সময় সেখান থেকে ২১ বাংলাদেশিসহ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গ্রিস কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ক্রেটা দ্বীপের কাছ থেকে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে। পরে জানানো হয়েছে, জীবিতদের মধ্যে ২১ বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদান ও একজন চাদের নাগরিক।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা মারা গিয়েছিলেন তাদের লাশ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, পাচারকারীদের নির্দেশেই এই কাজ করা হয়েছে। এ সময় দুজন গুরুতর অসুস্থ যাত্রীকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, নৌকাটি ২১ মার্চ তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে তারা দিক হারিয়ে ফেলে। জাহাজটি ৬ দিন ধরে খাদ্য ও পানি ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ দুজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিককে আটক করেছে। তাদের মানব পাচারকারী হিসাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, নৌকাটি ক্রেটা দ্বীপের দক্ষিণে লেরপেটরা থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ৫৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৭ জন।

কোস্ট গার্ডের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নৌকাটি ক্রেটের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে ৫৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য ও পানি সংকটের কারণে তাদের যাত্রা কঠিন হয়ে উঠে। তিনি বলেন, জীবিতদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার দুই পাচারকারীর নির্দেশেই লাশগুলো সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, জগন্নাথপুরের মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান, টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়েক মিয়া, ইছগাঁও গ্রামের মো. আলী, বাউরি গ্রামের মো. সুহানুর ও জগন্নাথপুর পৌরসভাধীন কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম।

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, দিরাইয়ের মারা যাওয়া চার যুবক হলেন-উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না, মৃত কারি ইসলাম উদ্দীনের ছেলে সাহান, আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান ও রন্নারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান। উপজেলার চার যুবকের মৃত্যুর খবর শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় ও উপজেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তবে কবে নাগাদ তাদের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই নৌকায় থাকা (বর্তমানে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে অবস্থানরত) তারাপাশা গ্রামের অপর একজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাদের লাশগুলো সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

৯ মাসে ৬৬ হত্যা, আতঙ্কের নগরী খুলনা

৯ মাসে ৬৬ হত্যা, আতঙ্কের নগরী খুলনা

ঋণের জটিল ফাঁদ

ঋণের জটিল ফাঁদ

একান্ত সাক্ষাৎকারে আইজিপি জনবান্ধব পুলিশ গড়াই প্রধান লক্ষ্য

জনবান্ধব পুলিশ গড়াই প্রধান লক্ষ্য

মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার সাংবাদিক ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর গুলি করে হত্যা

ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর গুলি করে হত্যা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম