সংসদ অধিবেশন বসছে আজ
গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে ছড়াতে পারে উত্তাপ
Advertisement
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঈদের বিরতির পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতুবি অধিবেশন বসছে আজ। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা ৩টায় অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যরা এতে অংশ নেবেন। এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন নিয়েও অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। গণভোট হয়েছে যে অধ্যাদেশে, সেই ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে। বিরোধী দল জামায়াতসহ তাদের জোটের সদস্যরা এ নিয়ে আলোচনার দাবি তুলবেন। ইতোমধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একাধিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
এবারের অধিবেশন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এর আগে ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অধিবেশনের প্রথম দিন নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। এরপর ১৩ দিনের জন্য অধিবেশন মুলতুবি রাখা হয়। প্রথম দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ওইদিনই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির ১১ সদস্য বিএনপির। তিনজন জামায়াতের। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি জাতীয় সংসদে পাশ করায় ইতোমধ্যে একমত হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল। ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এখনো একমত হতে পারেনি বিশেষ কমিটি। আজ রাতে এই কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাশ না হলে তা বাতিল হয়ে যাবে। তাই ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাশ হতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদ-সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দ্বৈত শপথ, গণভোটের বাস্তবায়ন ও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ-এ তিন ইস্যুতে এবারের অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠেতে পারে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে রাজপথে নামার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে বিদ্যমান সংবিধান মেনে চলার শর্ত। সব মিলিয়ে এটিই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে। ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা শপথ নেন। বিদ্যমান সংবিধানে না থাকায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নেয়নি বিএনপি ও তাদের শরিকরা। অন্যদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে থাকায় একই সঙ্গে দুই শপথ নিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট। বিষয়টি নিয়ে দুই জোটের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে এবারের অধিবেশন উত্তপ্ত হতে পারে। এ নিয়ে দুই জোটের সংসদ-সদস্যরা প্রস্তুতিও নিয়েছেন।
