বাংলাদেশ-ভারত নৌচলাচল
আড়াই বছর হচ্ছে না নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠক
Advertisement
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে টানা দুই বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের এমভি গঙ্গা বিলাস ১৩ জন পর্যটক নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল। ওই বছরের মার্চে এমভি রাজারহাট-সি নামের বাংলাদেশি জাহাজ ভারতে যায়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে আর যাত্রী বা পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল করেনি। তবে মালবাহী নৌযান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ-ভারত নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠক আড়াই বছর ধরে হচ্ছে না। একইভাবে বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ নৌপথ অতিক্রমণ ও বাণিজ্য প্রটোকলের (পিআইডব্লিউটিএন্ডটি) আওতায় গঠিত স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাও হয়নি। এ দুই কমিটির সভা না হওয়ায় দুই দেশের নৌযান চলাচলসংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় ঝুলে আছে। এসব বিষয় নিষ্পত্তির জন্য দুই দেশের মধ্যে সচিব ও স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক আয়োজনে পদক্ষেপ নিতে গত ২৯ মার্চ নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানতে চাইলে নৌপরিবহণ সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সচিব পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়ে প্রস্তাব পাওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার কিছু প্রটোকল রুটে কার্যক্রম চালু আছে। কিছু রুটে চালু নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো সমস্যা হলে আমরা আলোচনা করতে পারব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ নৌপথে মালামাল পরিবহণে ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ নৌপথ অতিক্রমণ ও বাণিজ্য প্রটোকল (পিআইডব্লিউটিএন্ডটি)’ রয়েছে। এর আওতায় দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে একটি সমঝোতা স্মারক ও একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)’ রয়েছে। এসবের আওতায় অভ্যন্তরীণ রুটে দুই দেশের মধ্যে মাল ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করে আসছে। এছাড়া উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির আওতায় সমুদ্র ও নৌপথে চলাচল করার উপযোগী বড় আকারের জাহাজ চলাচল করছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারসংক্রান্ত চুক্তির আওতায় ভারত এ দুটি বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের পণ্য নৌপথে এনে সড়কপথে দেশটির অন্য প্রদেশে নেওয়ার সুযোগ পায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশের মধ্যে নৌপথে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যা সমাধানে সাধারণত প্রতিবছর স্ট্যান্ডিং কমিটি ও নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালের ১৯-২০ ডিসেম্বর ঢাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষ ২০২৪ সালে দিল্লিতে এ দুটি কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্যান্য কারণে ওই বৈঠক এখনো হয়নি। এ কারণে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ঝুলে আছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ নৌপথ অতিক্রমণ ও বাণিজ্য প্রটোকলের আওতায় দুই দেশের মধ্যে নৌপথে পণ্য পরিবাহিত হয়। প্রতিবছর এ প্রটোকলের আওতায় কমবেশি চার হাজার নৌযান ট্রিপ দিয়ে থাকে। কম খরচে পণ্য পরিবহণের কারণে এটি দুই দেশেই জনপ্রিয়। নিয়ম অনুযায়ী, এ প্রটোকলটি প্রতি পাঁচ বছর পর নবায়নের বিধান রয়েছে। এছাড়া নতুন কোনো বিধান সংযুক্ত বা বিয়োজন করা হলে সেটিও নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠকে সই করার বিধান। সবশেষ ২১ ও ২২তম স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে পিআইডব্লিউটিএন্ডটিতে পরিবর্তন আনতে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেগুলো এখনো সই হয়নি। গত ২৯ মার্চ বিআইডব্লিউটিএ এক চিঠিতে পিআইডব্লিউটিএন্ডটির আওতায় নৌযান চলাচল সহজ রাখার সুবিধার্থে দুই দেশের মধ্যে বৈঠকের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল করছে। সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঙ্গা বিলাস নামের ভারতীয় একটি জাহাজ বাংলাদেশে আসে। ওই বছরের মার্চে রাজারহাট সি নামের একটি জাহাজ পর্যটক নিয়ে ভারত যায়। এরপরই জুলাই আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন করে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কোস্টাল শিপ ওনার্স অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবীর যুগান্তরকে বলেন, উপকূলীয় জাহাজ চুক্তির আওতায় চলাচলের উপযোগী ২২০টি বাংলাদেশি জাহাজ রয়েছে। এ চুক্তির আওতায় জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। আমরা বিষয়গুলো নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে আসছি। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্বালানি সংকট। জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে পণ্য পরিবহণ মারাত্মক হোঁচট খাবে।

