Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

জাতীয় সংসদ অধিবেশন

জ্বালানি সংকট নিয়ে জামায়াত আমির ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিতর্ক

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি সংকট নিয়ে জামায়াত আমির ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব ইস্যুতে সোমবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে প্রাণবন্ত বিতর্ক হয়ে গেল। শফিকুর রহমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবের নোটিশ দিলে প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে সংসদে মন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার পর নতুন করে আলোচনার গুরুত্ব রাখে কি না-জানতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যদিও তিনি সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করেননি। বিরোধিতা করেন কোন বিধিতে আলোচনা হবে তা নিয়ে। এ নিয়ে সংসদে বিতর্ক জমে ওঠে। একপর্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৬৮ বিধিতে আলোচনার প্রস্তাব দিলে বিরোধীদলীয় নেতা তা লুফে নেন। তবে তিনি আলোচনার সময় বৃদ্ধি এবং সংসদ নেতার উপস্থিতিতে আলোচনার দাবি জানান। পরে ডেপুটি স্পিকারের কথায় বিরোধীদলীয় নেতা আজ ৬৮ বিধিতে নোটিশ দেবেন বলে সংসদকে জানান।

সংসদে ৭১ বিধির নোটিশ নিষ্পত্তির পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধীদলীয় সদস্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নুরুল ইসলামের ৬২ বিধির দুটি প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তোলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। দুটি প্রস্তাবের বিষয়বস্তু প্রায় একই ধরনের উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবটি পড়ে শোনান। বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাবটি ছিল ‘দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট এবং এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় সৃষ্ট অচলাবস্থাসহ জনজীবনের বহুমাত্রিক সংকট সম্পর্কে আলোচনা।’ ৬৩ বিধিতে নোটিশটি নাকচ করেন ডেপুটি স্পিকার।

এ সময় ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি জাতীয় জীবনে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য অব্যাহত আছে। এটা থাকবে এবং চলবে। কিন্তু এই বিষয়টাকে নিয়ে আমরা আরও দুই-একবার নোটিশে আনার চেষ্টা করেছি। ৭১ বিধিতে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হলে জনগণের জন্য কি এখানে আমরা সবাই মিলে আলোচনা করতে পারব না? আমরা কি একটু সুযোগ সৃষ্টি করব না? আমরা তো কাউকে দোষারোপ করার জন্য এই আলোচনায় যাচ্ছি না। বাস্তব অবস্থাটা জেনে করণীয় বিষয়েই আমরা কথা বলতে চাচ্ছি।

ডেপুটি স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি বিবৃতির (৩০০ বিধিতে মন্ত্রীর বিবৃতি) কথা বলেছেন। মন্ত্রীর বিবৃতির বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল খুঁজে পাইনি। একদিকে বলা হচ্ছে-তেলের কোনো সংকট নেই। আরেকদিকে বাস্তবে যেটা ঘটছে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই নিয়ে মানুষের মধ্যে দারুণ অসন্তোষ। কিন্তু আমাদের নোটিশগুলোর কোনোটাই যদি বিবেচনায় না নেন তাহলে এখানে (সংসদে) থাকব কেন? আমরা কী জন্য এসেছি-প্রশ্ন রাখেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, এই মুহূর্তের সবচেয়ে বার্নিং সমস্যা যদি আলোচনা করতে না দেন, তাহলে কি আমরা আপনার কাছ থেকে জাস্টিস পেলাম?

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি অবশ্যই আলোচনার যোগ্য। জাতীয় জীবনে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বটে। আপনি (ডেপুটি স্পিকার) তো আলোচনার বিষয়টি নাকচ করেননি। সিদ্ধান্ত দিয়েছেন অন্যভাবে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। সংসদ অধিবেশন মুলতবি না করে অন্য কোনোভাবে আলোচনার সুযোগের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে খুব বেশি হলে দুই-চারবার এসব মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমান সংসদের দুটি বৈঠকে একই সেশনে দুইটা মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এটা ইতিহাসে অনন্য নজির। এই সংসদের আরও একটা বৈঠকে আরও একটি মুলতবি অ্যালাউ করা হলে প্রিসিডেন্টটা একটু অন্যরকম হয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ অধিবেশনগুলোতে এই রেওয়াজ অনুসরণ করার চেষ্টা হবে। কাজেই আমরা চাই বিষয়টি আলোচনা হোক। এটা ৭১ বিধিতে নোটিশ দিয়ে তার ভিত্তিতে মন্ত্রী আরেকটি বিবৃতি দেবেন। তখন সম্পূরক প্রশ্নও করা যাবে। আর ৬৮ বিধি অনুসারেও সংক্ষিপ্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। সেখানে মন্ত্রীও বিবৃতি দেবেন। আমরাও দু’চার কথা কন্ট্রিবিউট করতে পারব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদের বাইরে বিরোধীদলীয় নেতা বিভিন্ন জায়গা সফর করছেন। উনি ওখানে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। বলছেন যে, সংসদে তো সব তেল আছে। বাইরে তেল নেই। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার, তিনি বলেছেন পত্রিকায় আসছে আমরা পড়ি!

জ্বালানিমন্ত্রীর বিবৃতির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার পর মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করে সংসদের বৈঠক মুলতবি রেখে আলোচনার জন্য এই বিষয়টি গুরুত্ব রাখে কি না? আমাদের দেশে জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের কোনো সংকট নেই। সেটা আমরা পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছি। মন্ত্রী দেখিয়েছেন। এখন কিছু কিছু বিষয়ে আমার না বললেই নয়। টলারেবল মাত্রা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, শৃঙ্খলায় আনার জন্য বা পাচার হওয়াটা বন্ধের জন্য জ্বালানির মূল্য কিঞ্চিত বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। সুতরাং মুলতবি রেখে সংসদের অধিবেশন এই আলোচনাটা করার প্রয়োজন নেই। ৬৮ বিধিতে নোটিশ দিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। আপনি (ডেপুটি স্পিকার) চাইলে এই প্রস্তাবটি বিরোধীদলীয় নেতাকে দিতে পারেন। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুব সুন্দর করেই বলেছেন-কোনো সংকট নেই। এটা আসলে সংসদের ভেতরে নেই। সংকটটা সংসদের বাইরে। সংকট আছে বলে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে হাইকোর্টের মতো খুবই স্পর্শকাতর জায়গায় দুই দিন ভার্চুয়ালি কোর্ট বসছে। সংকট নেই বলে এটা হয়েছে-এটা জাস্ট একটা উদাহরণ।

শফিকুর রহমান বলেন, উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) অনেক কথা বলেছেন-আমি এগুলোর রিপ্লাই দিতে যাব না। সংকটটা এই সরকারের সৃষ্টি নয়। একটা গ্লোবাল ম্যাটার। যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে-এগুলো বুঝি। আমরা চাই সবাই মিলে কন্ট্রিবিউট করতে। চাপটা কমাতে। পরিস্থিতিটা সহজ করতে। সব দায়িত্বই যদি এককভাবে সরকারি দল পালন করে, আমরা কোনো সুযোগ পাব না। জনপ্রতিনিধি বাদ দিলেও দেশের নাগরিক হিসেবেও আমাদের কিছু দায় আছে। আমরা ওই পজিটিভ অ্যাটিচিউডের জায়গা থেকে এই আলোচনাটা দরকার বলে মনে করি। ধন্যবাদ জানাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উনি ৬৮ বিধিতে নোটিশ দেওয়ার কথা বলেছেন। আমি সেই নোটিশটা দিতে পারি। কিন্তু ওখানে তো আধা ঘণ্টা সময়। এই সময়ের মধ্যে সরকারি দল বলবে কতটুকু? আমি বলব কতটুকু? আমি আবার অনুরোধ করব এটাকে ডিসপোজ অফ না করে সংসদ নেতার উপস্থিতিতে বিষয়টা আলোচনার জন্য আগামী তিন দিনের মধ্যে সময় নির্ধারণ করতে পারেন।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, এখানে বিষয়টি হচ্ছে আলোচনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আলোচনা করতে চান। কিন্তু বিষয়টি হচ্ছে এই আলোচনা সংসদের বৈঠক মুলতবি করে হবে কি না? বিধিগতভাবে চিন্তা করছি বিকল্প উপায়ে আলোচনার সুযোগ আছে কি না? একটি হারমোনিয়াস পরিবেশে আজকে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো আলোচনা অলরেডি হয়ে গেছে। এই আলোচনাটাই কন্টিনিউ আমরা করতে পারি আরেকটা বিধিতে। সংসদকে মুলতবি করে আলোচনা না করে আমরা সংসদ চলমান অবস্থায় সাধারণ আলোচনা নিয়ে যেতে পারি। আমরা আধা ঘণ্টার জায়গায় এক ঘণ্টা বা দেড় ঘণ্টায় নিয়ে যেতে পারি। কিন্তু মুলতবি না রেখে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব গ্রহণ করে বলেন, আপনার বুলিতে চন্দন ফুটুক। ফুল ফুটুক। আপনি শেষে বলেছেন দেড় ঘণ্টা। আমি মেনে নিলাম। আপনারটাই কবুল। ইনশাআল্লাহ কালকে (আজ) নোটিশ দেব।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী নেতাকে নোটিশ দিয়ে সংসদ নেতার উপস্থিতিতে আলোচনা হবে। তবে আপনি বিধিভঙ্গ করবেন না। এক ঘণ্টার জন্য আলোচনার সুযোগ দিতে পারেন।

আলোচনা এক ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সুন্দর করে কথা বলার পরও কি মন গলাইতে পারলাম না? আর কোন ভাষায় বললে মন গলবে? ঠিক আছে আপনি (স্পিকার) যেটা সর্বোত্তম মনে করেন সেটাই আমরা আশা করব। আপনার ওপর ভার ছেড়ে দিলাম। তবে আমরা অর্থবহ আলোচনা করতে চাই।

স্পিকার বলেন, আধা ঘণ্টার মতো আলোচনা অলরেডি হয়ে গেছে। আপনি (বিরোধীদলীয় নেতা) নোটিশটা দেন আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নেব। অর্থবহ আলোচনার জন্য যা করণীয় সংসদ তাই করবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম