Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত সরকার

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত সরকার

সংসদে বুধবার প্রশ্নোত্তরপর্বে জবাব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -পিআইডি

Advertisement

দেশে চলমান জ্বালানি তেলসহ যে কোনো সংকট উত্তরণে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যে কোনো ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকুক না কেন, দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের পক্ষ থেকে আমি বলতে পারি, দেশ ও দেশের মানুষের কোনো বিষয় যদি আমাদের সামনে কেউ উপস্থাপন করেন, মানুষের স্বার্থের ব্যাপারে কেউ কোনো প্রস্তাবনা দেন, আলোচনার পরামর্শ দেন, সুপারিশ দেন-সেই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সব সময় প্রস্তুত। আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেন, সব সময় সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে এবং আলোচনা করতে রাজি আছি।

বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি সংকট তুলে ধরে এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি সরকারকে কিছু প্রস্তাবনা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। বুধবার সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আনা ৬৮ বিধিতে ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন সংসদ-সদস্য। সংসদে আনা নোটিশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমানে সারা দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। পাম্পগুলোয় দীর্ঘ সারি এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মানুষ জ্বালানি পাচ্ছে না, যে কারণে জনজীবনে বহুমাত্রিক সংকট দেখা যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক বিষয়-সারা দেশে যখন জ্বালানির জন্য হাহাকার চলছে, তখন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সংকটের কথা অস্বীকার করে বিভ্রান্তিকর দাবি জানাচ্ছেন। সরকারের এই বাস্তবতাবিবর্জিত ও অস্বীকারের প্রবণতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ করে তুলছে। তাই বর্তমান সংকটের প্রকৃত তথ্য প্রকাশপূর্বক এই সংকট নিরসনে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত সমাধান জরুরি।’

এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা যেই সংসদে দাঁড়িয়ে আছি এই সংসদটি বহু শহীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ সংসদটি দেশের মানুষের আগামী দিনের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে হয়তোবা আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে নিঃসন্দেহে কেউই আমরা অস্বীকার করছি না এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে আমি মনে করি, আজকের এই সংসদের প্রত্যেক সদস্য, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল আমরা মনে হয় একটি জায়গায় উপনীত হয়েছি। আমাদের আর যা কিছুর ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকুক না কেন, দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে আমাদের কোনো মতপার্থক্য নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব দিয়েছেন যে, আমরা বিরোধী দল-সরকারি দল সবাই মিলে কেন আলোচনা করতে পারি না? আমি সংসদকে অবহিত করতে চাই, অবশ্যই আমরা বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ জানাব। আমাদের অবস্থান থেকে আমরা বসব, আমরা আলোচনা করব। আমরা উনাদের প্রস্তাব দেখব। যদি উনাদের প্রস্তাবে বাস্তবতার নিরিখে কোনো কিছু থাকে যেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব, অবশ্যই আমরা তা করব। তিনি আরও বলেন, যে আলোচনা করলে মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে, যে কাজ করলে মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে, ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই সে কাজ করব।

তার এ বক্তব্যের আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আসেন আমরা ঠেলাঠেলির রাজনীতি বন্ধ করি। একে অপরকে গালি দেওয়া বা দোষারোপ করা নয়, বরং গঠনমূলক সমালোচনা করি। জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের শর্ট টার্ম, মিড টার্ম এবং লং টার্ম স্ট্র্যাটেজি (পরিকল্পনা) থাকতে হবে। যদি সরকারি দল মনে করে একটি কমন বা যৌথ কমিটি করা দরকার, তবে আমরা তাতে সাড়া দেব। আমাদের কাছে কিছু প্রপোজাল (প্রস্তাবনা) আছে, যা আমরা সরকারের হাতে তুলে দিতে চাই।’

এর আগে বিরোধী দলের নোটিশের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিশ্বব্যাপী সংকট চলছে। যে কারণে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবার এ নিয়ে অসাধুমহলের অপতৎপরতা চলছে। তারপরও সরকারের পদক্ষেপে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেছে। সরকার জনগণের স্বার্থে ও কৃষকের ভর্তুকি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এরপরও জ্বালানি সংকট নিরসনে কোনো সুপারিশ থাকলে তা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও তার টিমকে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর দপ্তরে আলোচনার আমন্ত্রণ জানান তিনি।

বর্তমানে জ্বালানি তেলের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাকে ‘সংকট’ বলতে রাজি নন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আমি এটাকে সংকট বলতে চাই না। বিরোধীদলীয় নেতা দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের কথা বলেছেন, কিন্তু আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, জ্বালানির কারণে কি বোরো চাষ ব্যাহত হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সহনীয় মাত্রায় জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। যদি সংকটই হতো, তবে কি কোনো মিল-ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়েছে? চাষাবাদ, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য তো সবকিছুই স্বাভাবিক চলছে। তাহলে সংকট কোথায়?’

জ্বালানি তেলের কালোবাজারি ও মজুত প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোথাও কালোবাজারি বা মজুত হলে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলোই (র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি) খুঁজে বের করছে। অনলাইনে তেল বিক্রির কালোবাজারি চক্রকেও ধরা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিন-রাত মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে এবং প্রতিটি ডিপো ও পাম্পে রুটিনমাফিক তদারকি করা হচ্ছে।

সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্ডার এলাকায় দাম কম থাকলে কিছু পাচারের প্রবণতা থাকে। তবে সরকার সফলভাবে জ্বালানি তেল বা সিলিন্ডার পাচার রোধ করতে সক্ষম হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কৃতিত্ব অনেকে স্বীকার করতে চান না। কিন্তু আমরা সফলভাবে পাচার ঠেকিয়ে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে আমরা যে পুলিশ কাঠামো পেয়েছি, তাকে রাতারাতি পালটে ফেলা সম্ভব নয়। তবে আমরা তাদের মোরালি স্ট্রং (মানসিকভাবে শক্তিশালী) করছি এবং জনবান্ধব বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। বাংলাদেশে আর কোনো ‘মব কালচার’ থাকবে না। অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব না হলেও আমরা একটি নজির স্থাপন করতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করে চলেছি। আগামী শনিবারও এরকম একটি বৈঠকের দিন নির্ধারিত রয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত প্রত্যেকের বুদ্ধি নিচ্ছি, পরামর্শ নিচ্ছি। পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাশ আমরা চালু করেছি ঢাকায়। আমরা যেটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, প্রত্যেকটা জেলা শহরে কিন্তু জ্বালানির ব্যবস্থাপনার চিত্র অনেক উন্নত হয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের এলাকায় ফুয়েল পাশ চালু করে কিন্তু এ ব্যাপারে তারা সুফল লাভ করেছে। আমি নিশ্চিত আগামী শুক্র-শনিবারে আমরা অধিকাংশ নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ফেরত যাব। নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ফিরে গিয়ে যদি আমরা স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বাস্তব চিত্র সম্পর্কে জানব। আপনাদের কাছ থেকে যদি পরামর্শ থাকে আমরা সে পরামর্শ নিয়ে নিশ্চয়ই আগামী সপ্তাহে এই চিত্র আরও পালটাব।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম