তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী
রাজনীতির ধূমকেতু থালাপতি বিজয়ের শপথ
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর থালাপতির হাত উঁচিয়ে বিজয় উদযাপন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর -এএফপি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তামিল রূপালি পর্দার সুপারস্টার থেকে রাজনীতির ময়দানে ধূমকেতুর মতোই উত্থান ঘটেছে থালাপতি বিজয়ের। ২০২৪ সালের শুরুতে নিজের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) ঘোষণার মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তিনি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। খবর এনডিটিভি, ইনডিয়া টুডের।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত বিজয় রোববার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে সই করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা এবং নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনী গঠন। এছাড়া রাজ্যের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরতে শিগগিরই তিনি একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
এর আগে উৎসবমুখর পরিবেশে সমর্থকদের উল্লাস ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয়। সেখানে বন্দনাগীতি ‘বন্দে মাতরম’র পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর তামিল ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন থালাপতি বিজয়। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। এরপর মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন বিজয়ের বিশ্বস্ত সহযোগী আধব অর্জুন। টিভিকের মুখ্য সমন্বয়ক সেঙ্গোত্তাইয়ান, সাধারণ সম্পাদক আনন্দ, ময়িলাপুরের বিধায়ক ভেঙ্কটরামনন, বিজেপি ছেড়ে টিভিকেতে যোগ দেওয়া নির্মলকুমার, কীর্তনা, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব রাজমোহন, চিকিৎসক থেকে রাজনীতিতে আসা কেটি প্রভু এবং সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা অরুণরাজ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং কংগ্রেস সংসদ-সদস্য রাহুল গান্ধী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং টিভিকের জোটসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে বিজয়ের দল টিভিকে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাকে কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হয়। বিজয় দুটি আসনে জয় পাওয়ায় টিভিকের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। ৫টি আসনে জয় পাওয়া কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার পর তাদের মোট আসন দাঁড়ায় ১১২। কিন্তু সরকার গঠন করার জন্য বিধানসভার মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে প্রয়োজন ছিল অন্তত ১১৮টি আসন।
শুক্রবার দুই বাম দল সিপিএম ও সিপিআই টিভিকের প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করে। এই দুই দলের চার আসন মিলিয়ে সংখ্যাটি ১১৬ তে গিয়ে ঠেকে। কিন্তু আরও দুই আসনের ঘাটতি রয়েই যায়।
শনিবার দ্রাবিড় তামিল জাতীয়তাবাদী দল ভিডুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) টিভিকের প্রতি শর্তহীন সমর্থন জানায়। বিধানসভায় এই দুই দলের প্রত্যেকের দুটি করে আসন থাকায় তাদের সমর্থনে টিভিকের নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন ১২০টিতে পৌঁছে যায়। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮-এর ‘ম্যাজিক ফিগার’ পার হয়ে যায় তারা। এর মধ্য দিয়ে চার দিন ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হয়। টিভিকে প্রধান রাজ্যপাল আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে ১২০ বিধায়কের সমর্থনের চিঠি উপস্থাপন করেন। আর এরপর সব উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে টিভিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাজ্যপাল।
এর আগে বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পরপর তিন দিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন বিজয়, কিন্তু আরলেকার বিধানসভায় টিভিকের প্রয়োজনীয় প্রতিনিধিত্ব নেই জানিয়ে তার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
