পিকেএসএফের সভায় অর্থমন্ত্রী
সরকার ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ বাস্তবায়ন চায়
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের কামার-কুমার, তাঁতি এবং ক্ষুদ্র শিল্পীদের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ (একটি গ্রাম, একটি পণ্য) ধারণাটি বাস্তবায়ন করতে চায়। যেমন-বরিশালের শীতল পাটিকে যদি ডিজাইন সাপোর্ট, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে এটি একটি বড় জিডিপি কন্ট্রিবিউটর হবে। এছাড়া থিয়েটার, স্পোর্টস এবং মিউজিককে ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে জিডিপিতে এগুলোর অবদান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘স্টেপিং ফরওয়ার্ড : দ্য ইনঅগুরেশন অব রেইজ-২’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে কোনো প্রজেক্ট কেবল তখনই অনুমোদিত হবে, যখন সেটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগের বিপরীতে সুফল এবং পরিবেশগত সুরক্ষার শর্তগুলো পূরণ করবে। ইকোনমিক ডেমোক্র্যাটাইজেশন বা অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র কেবল রাজনীতিতে থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে জাতীয় অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেওয়া এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, অতীতে অপরিকল্পিতভাবে নেওয়া অলাভজনক প্রকল্প বর্তমানে পর্যালোচনা বা বাতিলের তালিকায় করা হচ্ছে।
আমির খসরু আরও বলেন, সরকার সরাসরি নারীদের ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবারের বাজেটরক্ষক হিসাবে নারীদের সরাসরি ক্যাশ ট্রান্সফার করার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়প্রবণতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সরাসরি ইনপুট সহায়তা এবং স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
এজন্য আগামী বাজেটে সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে এই সেবাগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসে।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ডিভিশন ডিরেক্টর ড. গাইলি এইচ মার্টিন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা, পিকেএসএফের কর্মকর্তা এবং রেইজ প্রকল্পের তৃণমূল পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা।
ব্যাংক রেজল্যুশন আইন প্রয়োজন, তবে দাতাদের শর্তে নয় : এদিন বিকালে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট। এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন কার্যকর করতে যা যা প্রয়োজন, বর্তমান সরকার তা করবে। ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী ও শৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনতে সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন আইন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন ঋণ সহায়তা নিয়েও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে বিশ্বব্যাংকের সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়ও বৈঠকে উঠে এসেছে। তবে বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
