Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

হামের প্রাদুর্ভাব রাজশাহীতে শুরু জানুয়ারিতেই

Advertisement

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হামের প্রাদুর্ভাব রাজশাহীতে শুরু জানুয়ারিতেই

Advertisement

রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় গত জানুয়ারিতেই হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। প্রথমদিকে রাজশাহী ও পার্শ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে শিশুরা আসতে শুরু করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় সারা দেশে। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথমে হামের প্রাদুর্ভাব ঘটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। এই জেলায় হামে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বেশি।

স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগে সরকারি হিসাবে হামে আক্রান্ত হয়ে সাড়ে তিন মাসে মোট ৮৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুরা এর মধ্যে আসেনি। উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা আরও শতাধিক বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের জেলাগুলোতে নিবিড় চিকিৎসায় হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা কমে এসেছে। গত দুই সপ্তাহে এ বিভাগের কোনো জেলায় বা হাসপাতালে হাম আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। আক্রান্তের হারও কিছুটা কমে এসেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে হাম নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছেন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান শুক্রবার জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেই হামের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল বলে আমরা ধারণা করি। কিন্তু কিছুটা স্বস্তির বিষয় হচ্ছে দুই সপ্তাহে হামে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। জরুরি মেডিকেল টিম কাজ করছে সব জেলা হাসপাতালে।

এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাসের পাঠানো হালনাগাদ হাম তথ্য প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ৪ শিশু নতুন করে ভর্তি হয়েছে মেডিকেলে। এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে ১৪ শিশু। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুর সংখ্যা ৭২।

অন্যদিকে দেশের সর্বাধিক হাম উপদ্রুত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাবুদ্দিন শুক্রবার জানান, এ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৫৬ শিশু। তাদের মধ্য থেকে সরকারি হিসাবে ৭ শিশু মারা গেছে। ২৪ ঘণ্টায় জেলা হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেলে আরও ১৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দাবি জানুয়ারিতেই হামের প্রাদুর্ভাব ঘটে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। কিন্তু বাবা-মায়েদের অসচেতনতায় বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরে আসে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। বর্তমানে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বিভাগের আট জেলায় ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৮০ শিশু। এর মধ্যে রাজশাহীতে ২, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬, নওগাঁয় ২, নাটোরে ৬, বগুড়ায় ১০, সিরাজগঞ্জে ২৫, পাবনায় ১৭ শিশু নতুন করে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

অন্যদিকে বিভাগের আট জেলায় এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৭০। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা শিশুর সংখ্যা ৫ হাজার ৩৮৮। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বাধিক ১ হাজার ৪৫৬, রাজশাহীতে ২২০, নওগাঁয় ৩৯৪, নাটোরে ৩৪৮, জয়পুরহাটে ১৮৯, বগুড়ায় ৪৮৯, সিরাজগঞ্জে ৬৭০ ও পাবনায় ১ হাজার ২৭ শিশু রয়েছে। এছাড়া বিভাগের বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে এসেছে হাম আক্রান্ত আরও ১ হাজার ৪৪ শিশু। শুক্রবার পর্যন্ত হামে আক্রান্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩২৫ শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। তবে গত চব্বিশ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়া ১১১ শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সুস্থ হয়েছে ৫ হাজার ৫ শিশু।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম