Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

প্রসবকালে মারা গেল স্ত্রী হাম কেড়ে নিল সন্তান

মুহম্মদ আকবর

মুহম্মদ আকবর

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রসবকালে মারা গেল স্ত্রী হাম কেড়ে নিল সন্তান

বরগুনার পাথরঘাটার দরিদ্র পরিবারে জন্ম যমজ দুই শিশু হাসান ও হোসাইনের। তারা পৃথিবীর আলো দেখার দিনই মারা যান মা সুমাইয়া। এরপর থেকে বাবা, ফুপু ও নানির স্নেহে বড় হচ্ছিল দুই ভাই। দুই সন্তানকে বুকে নিয়ে স্ত্রীর শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন বাবা সোহেল রানা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস। এবার হাম কেড়ে নিল এক সন্তানকে। ২৭ মার্চ রাতে মারা যায় আট মাসের শিশু হাসান।

ধারদেনা করে হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘুরেও সন্তানকে বাঁচাতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছেন সোহেল রানা। সর্বস্বান্ত, কর্মহীন এই অসহায় বাবার কাছে এখন একমাত্র সম্বল বেঁচে থাকা আরেক অবুঝ শিশু হোসাইন। বুকে পাহাড়সম কষ্ট চেপে নির্বাক সোহেল শুধু চান-আর কোনো বাবার বুক যেন এভাবে খালি না হয়, সন্তানের লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজিয়ে কাউকে যেন আর বাড়ি ফিরতে না হয়।

বরগুনার পাথরঘাটার ইটভাটার শ্রমিক সোহেল রানা বলেন, ‘প্রতিনিয়ত দেখি আগুন কেমন দাউ দাউ করে জ্বলে। এই আগুন এখন আমার ভেতরটারে পুড়াইতাছে। কাউরে দেখাইতে পারি না।’ এরপরই কণ্ঠ ধরে আসে তার। কিছুই বলতে পারলেন না, শুধু চোখের পানি ফেললেন।

শিশু হাসানের ফুপা মোহাম্মদ লোকমান জানান, গত রমজানের শুরুতে অসুস্থ হয় শিশু হাসান। তাকে প্রথমে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কয়েকদিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে শিশুটি। কিন্তু ঈদের (ঈদুল ফিতর) প্রায় ১০ দিন আগে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে হাসান। পরীক্ষা করে জানা যায়, সে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

লোকমান বলেন, ঈদের পরের দিন হঠাৎ ওর শ্বাসকষ্ট অনেক বেড়ে যায়। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে আমাদের উদ্বেগ। তখন হাসপাতালে কোনো ডাক্তার পাইনি, শুধু নার্স ছিল। আমরা অনেক অনুরোধ করলেও কেউ ঠিকমতো দেখতেও আসেনি। পরে শিশুটিকে বরিশালে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসকরা গুরুতর অবস্থা দেখে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী হাসানকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও ভর্তি না নিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে গিয়ে চারদিকের আহাজারিতে আমাদের মন দুর্বল হয়ে যায়। প্রতিদিনই দেখি, কোনো না কোনো মায়ের কোল খালি হচ্ছে।

লোকমান বলেন, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রথম দুদিন কিছুটা ভালো ছিল হাসান। কিন্তু তৃতীয় দিন ২৭ মার্চ রাত ১০টার দিকে হঠাৎ তার শ্বাস একদম অন্যরকম হয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সে আমাদের ছেড়ে চলে যায়। তিনি বলেন, হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে এত দৌড়াদৌড়ি, এত অর্থ ব্যয় সবকিছু ব্যর্থ হয়ে গেল। শেষে সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরল সোহেল।

জানা যায়, সোহেলের জমি ও জমানো টাকা বলতে আর কিছু নেই। বর্ষাকাল আসায় ইটভাটার কাজও বন্ধ। এখন বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন হোসাইনকে দেখভাল করেন। আর নিজের অসহায়ত্বের কথা মনে এলেই স্বজনদের ধরে আহাজারি করেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .