জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীতে আলোচনা
সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে: প্রধানমন্ত্রী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে’ বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। এই কঠিন সময়ে হেসেখেলে চললে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হবে। রোববার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে দলের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ধীরে ধীরে পরিকল্পনা করে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। একই ভাবে সেই পথনির্দেশিকা মেনেই কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। সরকার তখনই সফল হবে যখন দলের লোকজন সরকারকে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের মন্ত্রীরা পরিশ্রম করলেই সফলতা আসবে না। এক্ষেত্রে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের ইশতেহার ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ছিল বিএনপির, এখন সেটি জনগণের। যারা এর পক্ষে রায় দিয়েছেন তাদের আশা-ভরসা পূরণ করতে হবে। বিএনপি সরকার জিয়াউর রহমানের দর্শন থেকেই দেশ পরিচালনা করছে এবং করবে। আর ইশতেহারেও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে। আমরা মনে করি জনগণের দৃষ্টিতে সফল হতে হলে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।’ বাবার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দিয়েই বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনত। বাংলাদেশ মানেই তাকে বুঝত অনেকে। একজন সন্তান হিসাবে এটি আমাকে গর্বিত করে।’
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এছাড়া অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন জিয়াউর রহমানের জীবন ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী পালিত : ঢাকাসহ সারা দেশে শনিবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালন করেছে বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ উপলক্ষ্যে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ১৬টি স্থানে দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর টি অ্যান্ড টি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাঙলা কলেজ, পল্লবী মেট্রোস্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড, ফুজি ট্রেড সেন্টার, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাংলাবাজার, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন স্থানে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।
এর আগে বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ড্যাব, অ্যাব, ওলামা দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সন্ধ্যায় গুলশানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব অংশ নেন।
জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভোরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোয় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
মুসল্লিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় : ঈদুল আজহার নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় শেষে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে তিনি হাত মেলান ও কোলাকুলি করেন। সরকার প্রধানকে কাছে পেয়ে সাধারণ জনগণের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গেও তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
