Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

ড. খলিলুর রহমানের বিজয়ে গ্লোবাল স্টেজে বাংলাদেশ

কাজ করবেন বৈশ্বিক শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে * যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অভিনন্দন

Advertisement

Icon

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ড. খলিলুর রহমানের বিজয়ে গ্লোবাল স্টেজে বাংলাদেশ

Advertisement

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তার এই বিজয় বাংলাদেশের জন্য গর্বের। বিশ্বদরবারে সম্মানের সঙ্গে নতুন করে আরেকবার বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী জাতিসংঘের সভাপতিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করতে হয়। ড. খলিলুর রহমান ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি এক বছরের জন্য ছুটি নেবেন, মন্ত্রিত্ব ছাড়বেন না। ফলে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সভাপতিত্ব পালনের এই সময়ে কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন সেটি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। তবে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব হিসাবে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দুই পদেই কাজ করার নজির তৈরি করেছেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ড. খলিলুর রহমানের পদত্যাগের সম্ভাবনা কম এবং একই সঙ্গে তিনি দুটি দায়িত্বই পালন করবেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন। তবে প্রকৃতপক্ষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কারণ এই পদে মনোনয়ন থেকে শুরু করে তার জয়লাভের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে এবং সফল হয়েছে। এজন্যই অনেক বিশ্লেষক বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গ্লোবাল স্টেজে প্রবেশ করেছে এবং খলিলুর রহমান সরকারের সঙ্গেই থাকছেন।

এই বিজয়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, এই বিজয় আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের ভাবমূর্তি বাড়িয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় এটি ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত প্রোফাইলকেও উন্নত করবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মনে করেন, এই অর্জন ড. খলিলুর রহমানের অন্যতম ব্যক্তিগত প্রাপ্তি। এর মাধ্যমে তিনি নানাভাবে বাংলাদেশের জন্যও কাজ করতে পারবেন।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিনি ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় সহযোগিতাকারী দেশের জনগণ, তার টিম এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জাতিসংঘ বর্তমানে এমন এক সময়ে প্রবেশ করছে যখন বিশ্বব্যাপী সংঘাত, মানবিক সংকট, উন্নয়নগত স্থবিরতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির মতো নানা চ্যালেঞ্জ সংস্থাটির কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি আর্থিক সংকটও জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসাবে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

তিনি সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে আরও কার্যকর ও সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, ২০৩০ এজেন্ডার লক্ষ্য অর্জনে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এছাড়া এসডিজি অর্থায়ন, ঋণ ব্যবস্থাপনার স্থায়িত্ব, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচিসহ আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানান ইউএনজিএর নবনির্বাচিত সভাপতি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ হলো; সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী জাতিসংঘের প্রধান আলোচনামূলক ও নীতিনির্ধারণী সংস্থার প্রধান প্রিসাইডিং অফিসার এবং চেয়ারম্যান হিসাবে কাজ করা। এছাড়া এক বছরের মেয়াদে নির্বাচিত সভাপতি সভার নেতৃত্ব দেওয়া, বিতর্ক পরিচালনা এবং পরিষদের সামগ্রিক এজেন্ডা পরিচালনা করাও তার অন্যতম কাজ।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বর্তমান ৮০তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর এই অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন ড. খলিলুর রহমান।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এই অভিনন্দন জানান। এক বার্তায় মার্কিন দূত বলেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন।

এছাড়াও খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ অভিনন্দন জানান। পোস্টে ড. এস জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের যৌথ অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। তিনি সাইপ্রাসের বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে হারিয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হন। ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেজ কাকাউরিস পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম