বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
দেশের ভূখণ্ডের ২৫ ভাগ বনভূমি আজও কল্পনায়
বসতবাড়ি, কৃষিজমির প্রয়োজনেও উজাড় হয়েছে অনেক বনভূমি
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ-এমন কথা বলা হলেও দেশে বনভূমির হাল খুবই নাজুক। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ বনভূমি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরেকটু কমিয়ে ১২ শতাংশও বলেন বনভূমির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
যদিও বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের হিসাবমতে দেশে বনভূমি ২.৫৭ মিলিয়ন হেক্টর। যা দেশের মোট এলাকার প্রায় ১৭.৩ শতাংশ। শুধু তাই নয় বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ঘনত্বের দেশ যেখানে মাথাপিছু বনভূমির পরিমাণও অত্যন্ত কম।
পরিবেশবিদরা বলেন, একটি দেশে পরিবেশগত ভারসাম্য, ভালো আবহাওয়া, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার জন্য দেশের মোট আয়তনের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশের বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার জন্য বসতবাড়ি, খাদ্য উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত জমি এবং নানা কারণে বন উজাড় করার কারণে মোট ভূখণ্ডের ২৫-৩০ শতাংশ বনভূমি এখন অনেকটাই অকল্পনীয়।
এমনই বাস্তবতায় নানা আয়োজনে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দেশের আয়তনের তুলনায় বনভূমি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভুটানে দেশটির আয়তনের প্রায় ৭১-৭২ শতাংশ বনভূমি।
যা ভুটানকে বিশ্বের অন্যতম বনভূমির দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে নেপালে আছে ৪৬%, শ্রীলংকায় ৩৪.১% এবং ভারতে ২৪.৬২% বনভূমি। তবে বাংলাদেশের তুলনায় কম বনভূমি আছে পাকিস্তানে ৫.২%। মালদ্বীপে আছে ৩.৩% এবং আফগানিস্তানে মাত্র ২.৮%।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, কাগজে-কলমে বই-খাতায় বর্তমানে আমাদের বনভূমি দেশের মোট ভূখণ্ডের ১৭ শতাংশ বলা হলেও আমাদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে তা ১১-১২ শতাংশ। তবে এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত কোনো ডাটা নেই।
দেশে বনের যে নিধন সেটি পুরোপুরি ইচ্ছাকৃতভাবে হচ্ছে এমনটা নয়। দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের জন্য বাড়তি উৎপাদনের জন্য আরও কৃষি জমি, বসতবাড়ির জন্য জমির প্রয়োজন হয়েছে। দেশে শিল্পায়নের জন্যেও নতুন নতুন জমির প্রয়োজন হয়েছে। যে কারণ অনেক বনভূমি উজাড় হয়েছে। তবে গত ১৫-২০ বছরে গাছপালা রোপণের প্রবণতাও মানুষের মধ্যে বেড়েছে। সরকারেরও নানা উদ্যোগ আছে।
সরকার চাচ্ছে আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি গাছ রোপণ করতে। কিন্তু তারপরও সব দিক বিবেচনায় দেশের বনভূমি মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশে উন্নীত করা যাবে বলে মনে করি না।
তিনি বলেন, শুধু গাছ রোপণ করলে বা বনায়ন বাড়ালেই প্রাকৃতিক নানা বিপর্যয় বন্যা, খরা, চরম আবহাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এমনটাও নয়। কারণ এখানে বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের নানা বিষয়গুলো জড়িত। তবে সাধারণভাবে মানুষ পরিবেশ নিয়ে অনেক সচেতন সেটি বলারও কোনো উপায় নেই। তবে সরকারিভাবে গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও বনভূমির আয়তন বাড়ানোর বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এদিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত। যত নতুন চর জাগবে সেখানে গাছ লাগিয়ে বনভূমির আয়তন বাড়ানো যেতে পারে।
নানা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত দুই দশকে বাংলাদেশে প্রায় ৮,৩৯০ হেক্টর প্রাথমিক বনভূমি হ্রাস পেয়েছে। যা এই ধরনের প্রাকৃতিক বনভূমির মোট পরিমাণের প্রায় ৮.৭ শতাংশ।

