সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্তমান পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জন করেছে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গত ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার সফল হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ আরও জনবান্ধব হয়েছে এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় অপরাধের হারও কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ (শাস্তি ও পুরস্কার) নীতিতে বিশ্বাসী। এ নীতির আলোকে নৈতিক মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি ও মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারের এই প্রক্রিয়া পুলিশ সদস্যদের আরও কর্তব্যপরায়ণ, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে অনুপ্রাণিত করবে।
সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দেশব্যাপী আলোচিত তিনটি ঘটনায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া তিনজন নৌপুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ প্রদান করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিক মনোবল বৃদ্ধি ও নৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি আইনানুগ ব্যবস্থা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার সফল হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ আরও জনবান্ধব হয়েছে এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় অপরাধের হারও কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
টিআইবির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা কোনো সরকারি সংস্থা নয় এবং মাঠপর্যায়ে তদন্ত ছাড়াই সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি সংবাদ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
তদন্ত ও পোস্টমর্টেমে বরাদ্দ সীমিত থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম ও পুলিশি টহল আরও কার্যকর করতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
পলাতক বা শৃঙ্খলাভঙ্গকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনুকম্পা দেখানো হবে না। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাদের আদালতের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
পুরস্কারের আওতায় থাকা তিনটি ঘটনা হলো-পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌপুলিশের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ক্লুলেস কিশোরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন।
রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত আসামি গ্রেফতার, ডিএনএ পরীক্ষা, পোস্টমর্টেম ও তদন্ত কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার জন্য পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন, এসআই অহিদুজ্জামানসহ মিরপুর জোনের নয়জন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আগুনের ঝুঁকিতে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাস খালি করে অন্তত ৫০ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখার জন্য মাদারীপুরের চরজানাজাত ও কলাতলা নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোহাম্মদ আবুজার গিফারীসহ তিনজন নৌপুলিশ সদস্যকে সম্মাননা ও আইজি ব্যাজ দেওয়া হয়।
এছাড়া গজারিয়ায় নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক কিশোরীর লাশের পরিচয় শনাক্ত, এক দিনের মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং চার আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে জবানবন্দি নিশ্চিত করার জন্য পিবিআই মুন্সীগঞ্জের এসআই রনি দেবনাথসহ তিনজন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
