নতুন অর্থবছরের বাজেট
দাম বাড়বে রড সিগারেটের, কমবে স্বর্ণ-প্রসাধনীর
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়াতে কিছু পণ্য ও সেবার শুল্ক-কর বাড়ানো হয়। আবার সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক-কর কমানো হয়। এ কারণে বাজারে সেসব পণ্যের দাম বাড়ে-কমে। আগামী বাজেটে ভ্যাট ও শুল্ক হার পরিবর্তনের কারণে দাম বাড়তে পারে রড-সিগারেটের। দাম কমতে পারে স্বর্ণ-প্রসাধনী সামগ্রীর। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সিগারেট থেকে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়। এবারও সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হচ্ছে। এতে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়বে। সবচেয়ে বেশি দাম বাড়বে প্রিমিয়াম সিগারেটের। সিগারেট ছাড়াও আধুনিক তরুণদের কাছে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই দুই পণ্য থেকে আগামী অর্থবছরে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায় করতে চায় সরকার। বাজেটে ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কসহ মোট ৬২ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। ফলে এই পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এছাড়া দাম বাড়তে পারে দেশি মদ-বিয়ারের। কেননা দেশি মদ-বিয়ার উৎপাদনে এতদিন মাদক শুল্ক ছিল, আগামী বাজেটে লিটারে ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা হতে পারে।
গৃহনির্মাণের প্রধান উপকরণ রডের দামও বাড়তে পারে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পর এবার বাজেটে এমএস রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ শিটের সুনির্দিষ্ট কর টনপ্রতি ৩০০ টাকা এবং এমএস পণ্যের কর ৪০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা মাছের দামও বাড়তে পারে। কারণ তাজা, ঠান্ডা ও হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। সুগন্ধি ও ওষুধ তৈরি, কীটপতঙ্গ ও ছত্রাক বিনাশ অথবা সমজাতীয় কাজে ব্যবহৃত তাজা. শুকনা, চূর্ণ বা গুঁড়া অবস্থায় আমদানিকৃত বৃক্ষ বা বৃক্ষের অংশ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
ঢাকার যানজট এড়াতে হেলিকপ্টার সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাজেটে হেলিকপ্টারের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নে ১০ লাখ টাকা উৎসে কর আরোপ করা হচ্ছে। এতে হেলিকপ্টার ভাড়া বাড়তে পারে। বাস ভাড়াও বাড়তে পারে। কেননা বাসের অগ্রিম আয়কর বাড়ানো হচ্ছে।
দাম কমতে পারে : অবশ্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে অনেক পণ্য ও সেবার ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো হচ্ছে। এতে দাম কমতে পারে ওইসব পণ্যের। যেমন-নারীদের পছন্দের স্বর্ণালংকার বিক্রিতে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, যা বিক্রীত মূল্যের ওপর আদায় করা হয়। বাজেটে ৫ শতাংশের পরিবর্তে ভরিপ্রতি আড়াই হাজার টাকা সুনির্দিষ্ট কর বসানো হয়েছে। এতে স্বর্ণালংকারের দাম কমবে। সিমকার্ড ও ই-সিম কার্ড সেবার বিপরীতে ৩০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর ছিল। এর পরিবর্তে সিমের দামের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। এতে সিমের দাম কমতে পারে। দেশে ফ্রিজ-রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। এটি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হতে পারে। এতে বাজারে দেশি ফ্রিজের দাম কমতে পারে।
চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে। ফলে এই দুটি পণ্যের দাম কিছুটা হলেও কমবে। মৃতদেহ সংরক্ষণে মর্চুয়ারি আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। ক্যানসারের ৯ ধরনের ওষুধ আমদানিতে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত বালাইনাশক উৎপাদনের ৩৬ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে। ফ্রুটব্যাগ আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। সার ও কীটনাশকের সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে।
সৌরবিদ্যুতের প্যানেল ও ব্যাটারির কাঁচামাল উৎপাদন-আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সেমি কন্ডাক্টর খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর অব্যাহতির সুবিধা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে। টাগবোট আমদানিতে শুল্ক-কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। ১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) প্রত্যাহার হতে পারে। কম্পিউটার, প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি, কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হতে পারে।
প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল সরবরাহের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশ হতে পারে। লোশন, ফেসক্রিম, ফেসওয়াশ আমদানিতে কেজিপ্রতি শুল্ক ২০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭ ডলার করা হতে পারে, যার ফলে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে। ফ্লোট গ্লাসের ৫ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমে ১৫ শতাংশ হতে পারে। সিনথেটিক ওভেন ফ্যাব্রিক্সের ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে।
এছাড়া দাম কমতে পারে-দেশে উৎপাদিত ত্বক ফর্সাকারী প্রসাধনী সামগ্রী; সানস্ক্রিন বা স্যানট্যাগ সামগ্রী; হাত, নখ বা পায়ের প্রসাধনী সামগ্রী; পাউডার; লিপস্টিক; আইলাইনার।
