Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যবসাবান্ধব বাজেট হচ্ছে

Advertisement

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যবসাবান্ধব বাজেট হচ্ছে

Advertisement

অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে এবারের বাজেটে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সবার জন্য এমন সুবিধা তৈরি করা হবে, যেখানে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারেন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি বা কোনো বিদেশি নাগরিক যদি দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসেন, তাহলে তাকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের শূন্য পদগুলোয় যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, তার সরকার নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগামী ৫ বছরের জন্য মেগা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যদের এলাকায়ও সমান উন্নয়ন হবে।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে : আবুল কালামের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে প্রতিরোধ ও দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসাবে অনুসরণ করতে হবে। সরকারি সেবা প্রদান ব্যবস্থা যেন হয়রানিমুক্ত, বিলম্বমুক্ত এবং স্বচ্ছ থাকে, সেজন্য কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতেও জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫ শতাংশ প্রণোদনা : মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি বা কোনো বিদেশি নাগরিক যদি দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসেন, তাহলে তাকে ওই বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ৯ শতাংশ সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এই তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাইছি তা নয়, দেশীয় বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করতে চাইছি। এজন্য আমরা ডিরেগুলেশন (নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ) পদ্ধতির মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন সমীকরণ আছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সুদের হার কমালে যদি দেখা যায় যে এটি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এবং দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে, তবে সরকার নিশ্চয়ই সেটি গ্রহণ করবে। তবে এখনো এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মেগা কর্মপরিকল্পনা : শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে ইতোমধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার/প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিকে মাসিক সম্মানি ভাতা দিচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে ই-হেলথ কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলায় (খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী) ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু হবে।

৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত : সংসদ নেতা বলেন, সরকার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরে শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও আগামী অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং পর্যায়ক্রমে ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হবে।

বিরোধী দলের সদস্যদের এলাকায়ও সমান উন্নয়ন হবে : জামায়াতের ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। তাই সরকারি দলের সংসদ-সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে উন্নয়নকাজ করা হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ-সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মপরিধি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, সরাসরি নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের নির্দিষ্ট আসন থাকলেও নারী সংসদ-সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের কাজের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নারী সংসদ-সদস্য উভয়েরই কাজ করার অধিকার রয়েছে।

সবার জন্য ব্যবসার সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি : মো. মোবাশ্বের আলমের প্রশ্নের জবাবে সবার জন্য সুন্দরভাবে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের জন্য এমন সুবিধা তৈরি করা হবে, যেখানে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারেন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন। সেইভাবেই আমরা এবারের বাজেট তৈরি করতে চেষ্টা করছি। তারই অংশ হিসাবে বাংলাদেশ সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম