Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

বাংলাদেশে পা রেখেই ‘দুই দেশকে এক’ করার বার্তা ত্রিবেদীর

Advertisement

Icon

কূটনৈতিক প্রতিবেদক ও বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে পা রেখেই ‘দুই দেশকে এক’ করার বার্তা ত্রিবেদীর

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে শুক্রবার যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে স্বাগত জানানো হচ্ছে -যুগান্তর

Advertisement

বাংলাদেশে পা রেখেই দুই দেশের জনসংখ্যা ও গণতন্ত্রকে এক করার বার্তা দিয়েছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার দুপুরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তিনি বলেন, ভারতের ১৪০ কোটি এবং বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ মিলে ১৬০ কোটির এক বৃহৎ শক্তিতে পরিণত হতে পারে। এ সময় পর্যটন ভিসা চালু এবং পুশইনসংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে তিনি দুই দেশের ‘শক্তিশালী গণতন্ত্র’ মিলে অর্থনৈতিক পরাশক্তি ও একটি যৌথ ক্রিকেট দল গঠনের মতো অভিনব মন্তব্য করেন।

একজন সাংবাদিক দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ভিসা আবার কবে চালু হবে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি একটাই কথা বলতে পারি; আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি, আর আমি কুড়ি কোটি অ্যাড করি, তাহলে ১৬০; ... তাহলে যা হবে, একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে আমি ভাবছি-আমার মনে ওইটা ঢুকছেই না। তিনি বলেন, দেখুন তো হেঁটে চলে এলাম, মনে হচ্ছে না যে আমি বাংলাদেশি না। ...সব সময় আমি বলি একই আকাশ একই বাতাস একই জল তরঙ্গ।’

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি (পর্যটন ভিসা) আমার বিবেচনায় রয়েছে এবং এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে সবাই সন্তুষ্ট হয়।

একজন সাংবাদিক ভারতকে বাংলাদেশের পাশের ‘বৃহৎ শক্তি’ হিসাবে বর্ণনা করলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘নো, নো আমাদের দুজনে মিলে শক্তি; একটা শক্তি হলে হবে না-দুজনে মিলে যা শক্তি হবে, ওইটাই আসল শক্তি। আর ওই শক্তিটা পুরো পৃথিবী যেন দেখে। আমরা মিলেমিশে একটা ক্রিকেট টিম হলে কত ভালো হবে। খেলাধুলা, হেলথ তারপরে টেকনোলজি, এডুকেশন সব মিলে আমরা একটা টিম করে...।’

ভারত অবৈধ অভিবাসী আখ্যা দিয়ে মানুষজনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেসিতে অনেক ইশুজ থাকে। আপনার একটা বাংলাদেশের স্ট্রং ডেমোক্রেসি, আমাদেরও স্ট্রং ডেমোক্রেসি; দুই ডেমোক্রেসি মিলে গেলে একটা ওয়ার্ল্ড পাওয়ার হয়ে যায়, একটা পুরো ইকোনমিক ওয়ার্ল্ড পাওয়ার হয়ে যায়। কিন্তু এই মেলামেশাটা দরকার, আর এর জন্য আমার যা দায়িত্ব আছে, আমি নিশ্চয়ই পালন করব। কিন্তু আপনার সাপোর্ট থাকা দরকার।’

নতুন হাইকমিশনার আরও বলেন, আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত।

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ত্রিবেদী শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে নিয়ে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন কুমার তুলসীদাস বাধে এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল আরিফ মাহমুদ সেখানে তাদের স্বাগত জানান। ইমিগ্রেশন ও প্রটোকলসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সেরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন দীনেশ ত্রিবেদী।

ঢাকায় ভারতীয় মিশনের দায়িত্বে প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করে আসা ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গুজরাটি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে দীনেশ ত্রিবেদী হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান। তারপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন।

স্বাগত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, ডেপুটি চিফ অব প্রোটোকল আরিফ মোহাম্মদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ প্রমুখ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম