Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

পরিবারের নামে ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আ.লীগ আমলেই ৬টি

Advertisement

Icon

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবারের নামে ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

Advertisement

বগুড়া-২ আসনের সংসদ-সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নিজ ও পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠান করার ‘শখ’ দীর্ঘদিনের। গত ২৮ বছরে এলাকায় তিনি নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ইউনিয়নকাণ্ডের পর নতুন করে আরেকটি বিদ্যালয় নিজ নামে করার প্রস্তাব করেছেন। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠায় সেই নামকরণ থেকে সরে আসতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি বগুড়া-২ আসনের শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি ইউনিয়ন গঠন ও নামকরণ করা হয়। এক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করে। শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মী। সমালোচকদের মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল লোক দেখানো। নামকরণ প্রতিমন্ত্রীর ইচ্ছায়ই হয়েছে। কারণ চারটি ইউনিয়নের নামই তার দুই সন্তান, ভাতিজা ও বাড়ির নামে।

এদিকে ইউনিয়ন চারটির নামকরণ নিয়ে সংসদে প্রতিমন্ত্রীর জবাব এবং এসব নিয়ে পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ কারণে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে শুধু ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ ও ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’র নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এলাকার কয়েকজন জানান, শুধু সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়ন পরিবর্তন করলে চলবে না। প্রতিমন্ত্রীর বাড়ির নামে নামকরণ করা ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’ ও ভাতিজির নামে ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’ নামকরণ বাতিল করতে হবে।

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ইউনিয়নকাণ্ডের রেশ না কাটতেই তিনি একটি স্কুলের নাম নিজ নামে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন। এ নিয়ে আবার আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ৫৩ বছরের পুরোনো শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে মতামত দিতে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে। এতে সাধারণ জনগণের মাঝে নতুন করে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আগে থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তার চেষ্টায় বিদ্যালয় জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নানা অবদান রাখায় ম্যানেজিং কমিটির সভায় সর্বসম্মতিতে প্রতিমন্ত্রীর নামে বিদ্যালয়ের নামকরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। তবে প্রতিমন্ত্রীর আপত্তির কারণে ওই আবেদন প্রত্যাহারের জন্য ১১ জুন মন্ত্রণালয়ে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সমালোচনার মধ্যে শুক্রবার বিকালে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ-মোকামতলা) আসনের সংসদ-সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের উদ্যোগ না নিতে শিক্ষা সচিবের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি (প্রতিমন্ত্রী) ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়েছেন।

পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে ও স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে আমার নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন। যা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমার মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রাখাই অধিকতর সমীচীন।

তিনি জানান, শিবগঞ্জ-মোকামতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি দান, নিজ অর্থে জমি ক্রয়, প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয় বহন ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছেন। তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৯৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত ২৮ বছরে এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে-মীরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৯৭), বেতগাড়ি মীরবাড়ী সরকারি এতিমখানা (২০০৪), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (২০০১), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয় (২০০৪), তিয়াইল মীর লাবণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০১২), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (২০১৩), বেতগাড়ি মীর মাহাতাব-শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা (২০২৩), মোকামতলা মীর শাহে আলম-ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয় (২০২৩), কিচক মীর শাহে আলম কলেজ (২০২৩) এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট (২০২৫)।

পত্রের শেষে প্রতিমন্ত্রী অনুরোধ করেন, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব যেন গ্রহণ বা অনুমোদন না দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্বের নাম ও পরিচিতি সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে শনিবার বিকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম যুগান্তরকে বলেন, নিজেদের জমি ও অর্থ দিয়ে গড়া ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আওয়ামী লীগের সময় ছয়টি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ সরকার এমপিও দেয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পান না। বর্তমানে বিএনপি সরকারের সময় এমপিও করার প্রক্রিয়া চলছে। এখন আমাকে নিয়ে আলোচনা ও লেখার কিছু নেই। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব গ্রহণ না করতে বলেছেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম