Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

আলী খামেনির জানাজায় তেহরান জনসমুদ্র

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আলী খামেনির জানাজায় তেহরান জনসমুদ্র

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় লাখো মানুষের ঢল। কালো পোশাক পরে প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা হাতে প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান তারা। রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় -এএফপি

Advertisement

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তেহরানে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছয় দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতার দ্বিতীয় দিন রোববার জানাজাস্থল তেহরানের ইমান খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ এবং এর আশপাশের এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কালো পোশাক পরে লাখো নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হন। তাদের অনেকেরই হাতে প্রয়াত নেতার ছবি দেখা গেছে।

জানাজায় সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন আলী খামেনির তিন ছেলে-মাসুদ খামেনি, মাইসাম খামেনি ও মুস্তফা খামেনি। চার মাসের বেশি সময় পর তারা জনসমক্ষে এলেন। তবে ‘অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে’ তাদের আরেক ভাই এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি।

ভোর থেকেই লোকজন জানাজাস্থলে আসতে শুরু করেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, স্থান সংকুলান না হওয়ায় জানাজা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই মসজিদ কমপ্লেক্সটির সব ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে মসজিদের আশপাশের সড়ক ও উন্মুক্ত স্থানগুলোয় অবস্থান নেন জানাজায় আসা লোকজন। তারা গরম উপেক্ষা করে জানাজায় অংশ নেন। মসজিদ চত্বরে যারা প্রবেশ করতে পেরেছিলেন, গরমের মধ্যে তাদের জন্য বিশেষ উপায়ে পানি স্প্রে করা হয়।

বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা শুরু হয়। ৯৭ বছর বয়সি ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তাবরিজি জানাজা পড়ান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি জানাজায় অংশ নেন। আরও ছিলেন ইরানের ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সর্বাধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ভাহিদি। তিনি দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এলেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গ্র্যান্ড মোসাল্লা এবং আশপাশের এলাকায় জড়ো হওয়া ইরানিদের অনেককে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। অনেকে বুক চাপড়ে মাতম করেন। শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ইরানের কেবল মেট্রোরেল ব্যবস্থায় ৭০ লাখ যাত্রীর যাতায়াত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহন এবং হেঁটে আরও লাখ লাখ মানুষ জানাজায় এসেছেন। শোক ও শ্রদ্ধা জানানোকে ঘিরে বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি তেহরানে পৌঁছেছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় পরিবারের কয়েক সদস্যসহ নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। চার মাসেরও বেশি সময় পর তার দাফন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। ওই হামলায় ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও আহত হন।

ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ তেহরানের কেন্দ্রস্থলে এক বিশাল শোক মিছিল বের হবে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসাবে আলী খামেনির লাশ ইরানের ধর্মীয় শিক্ষার শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে লাশটি বিমানে ইরাকে নেওয়া হবে। বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। পরদিন বৃহস্পতিবার আলী খামেনির লাশ আবার ইরানে আনা হবে। সেখান থেকে তার জন্মশহর মাশহাদে তাকে কবর দেওয়া হবে।

কর্তৃপক্ষ আগামী দিনগুলোয় বড় ধরনের শোভাযাত্রার আয়োজন করে লাখ লাখ মানুষকে সমবেত করার পরিকল্পনা করেছে। তাদের জন্য রয়েছে পরিবহণ, খাবার ও আবাসনের ব্যবস্থাও। লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরাইলের হামলার মধ্যে এ শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান ইরানিদের : ইরানের রাজধানীতে সমবেত লাখ লাখ শোকাতুর রোববারও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা স্লোগান দেন। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মৃত্যু কামনা করেন। তবে শ্রদ্ধা জানাতে আসা ৪২ বছর বছরের নার্স জিব্বা নাদেরি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যা-ই নির্দেশ দিন না কেন, ইরানিদের তা মেনে চলতে হবে।

আলজাজিরা জানায়, গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাগানো নানা পোস্টার ও গ্রাফিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরোধিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জানাজার আগে একটি শোক অনুষ্ঠান হয়। এটি পরিচালনা করেন ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ রাসুলি। তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ এবং ‘ইসরাইল নিপাত যাক’ স্লোগান তুললে উপস্থিত জনতা এতে সাড়া দেন।

৭০ দেশের প্রতিনিধি, হরমুজে ছাড় দেবে ইরান : আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেওয়ায় বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, এসব দেশের অংশগ্রহণ ইরানের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে ‘চিরস্থায়ী স্মৃতি’ হয়ে থাকবে। রোববার গালফ নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সম্মান জানাতে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এসেছেন। এর মধ্যে আমাদের বিশ্বস্ত আরব ভাইয়েরাও আছেন। তাদের এ উপস্থিতি ইরানকে আনন্দিত করেছে।’

এদিকে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নতুন করে সেবা ফি আরোপ করতে যাচ্ছে তেহরান। তবে চলমান সংকটে যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, সেগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম