Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

মুক্তি চান ভোগান্তির শিকার ব্যক্তিরা

‘বি কোম্পানি’র নামে খুলনায় নীরব চাঁদাবাজি

Icon

আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

‘বি কোম্পানি’র নামে খুলনায় নীরব চাঁদাবাজি

খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র নামে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। ফেসবুকে একাধিক আইডি রয়েছে এই সন্ত্রাসী গ্রুপের। সেখানে নিয়মিত তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে আপডেট করা হয়।

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তারা ব্যবসায়ীসহ জনগণকে কোনো ধরনের চাঁদা না দিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে বলে। আবার তাদের সদস্যরাই করছে নিয়মিত চাঁদাবাজি। বি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর নামে এই পেজগুলো চালানো হয়। গ্রেনেড বাবু দেশের বাইরে থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি ‘নবাবের বি কোম্পানি’ নামে একটি আইডি থেকে সতর্কতা জারি করা হয়।

ওই পেজের পিন পোস্টে বলা হয়েছে-বি কোম্পানির নাম ব্যবহার করে দুষ্কৃতকারীরা সাধারণ ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির মতো জঘন্য কাজ করছে। আপনারা এমন কিছুতে ভুক্তভোগী হলে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের সহায়তা নেবেন।

এদিকে এমন সতর্কতার পাশাপাশি খুলনা মহানগরজুড়ে ‘বি কোম্পানি’র নামে নীরব চাঁদাবাজির অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদার, স্ক্র্যাপ ব্যবসার পাশাপাশি ক্লিনিক, ডায়গনস্টিক সেন্টারের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে দেখে নেওয়া, হত্যা এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ভয়ে চাঁদা দিচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে অধিকাংশ ব্যবসায়ী থানায় কোনো অভিযোগ করছেন না।

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ‘বি কোম্পানি’র একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবুও গ্রুপটির প্রভাব পুরোপুরি কমেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পুরোনো সদস্যদের পরিবর্তে নতুনদের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চলছে।

খুলনার শেখপাড়া এলাকার স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’ ওরফে রনি চৌধুরীর ‘বি কোম্পানি’র সহযোগী হিসাবে পরিচিত লিটন মীর ওরফে কসাই লিটন এলাকায় নিয়মিত চাঁদা আদায় করত। গত ১১ জুন ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর ‘বি কোম্পানি’র নতুন একটি গ্রুপ ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনদিন ওই মার্কেটটি বন্ধ অবস্থায় ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রথমে পরিচিত একজনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। পরে বলা হয়, এলাকায় শান্তিতে ব্যবসা করতে হলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হবে। নইলে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে।

নগরীর টুটপাড়া এলাকার একটি ক্লিনিকের ম্যানেজারকে মঙ্গলবার দুপুরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটস অ্যাপে ফোন দিয়ে ২ লাখ টাকা গুছিয়ে রাখতে বলেন একজন। নিজেকে তিনি গ্রেনেড বাবুর দল বি কোম্পানির সদস্য হিসাবে উল্লেখ করেন।

গত ৭ জুলাই দুপুরে রয়্যাল মোড়ে অবস্থিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজারকে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে বি কোম্পানির ডান হাত হিসাবে উল্লেখ করেন। তিনি একটি হোয়াটস অ্যাপ নম্বর চান যাতে গ্রেনেড বাবুর সঙ্গে কনফারেন্স করে কথা বলিয়ে দিতে পারেন। এর দুদিন পর ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করেন। যে নম্বর থেকে ফোন করেছেন ট্রু কলারে নাম ওঠে হালিম। সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, হালিম নামে সোনাডাঙ্গা এলাকায় নবাবের এক সদস্য রয়েছে। যার বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও হত্যা মামলা রয়েছে। নগরীর পুরাতন রেল স্টেশন এলাকায় এক লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ করেন ওয়াসার এক ঠিকাদার।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এমএম শাকিলুজ্জামান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চায় না। এরপরও আমাদের কাছে যারা অভিযোগ দেয় সেইসব মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে আমরা ইতিমধ্যে কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করেছি। পুলিশ বাকিদের ধরতে তৎপর রয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম