Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

কাঁদলেন মেসি, কাঁদালেন হতাশ আর্জেন্টিনা

Advertisement

Icon

ইশতিয়াক সজীব

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাঁদলেন মেসি, কাঁদালেন হতাশ আর্জেন্টিনা

Advertisement

ফুটবল তাকে সব দিয়েছে। যশ, খ্যাতি, ঐশ্বর্য। কানায় কানায় পূর্ণ তার ক্যারিয়ার। কিন্তু শেষটা হলো না রূপকথার মতো। বিশ্বকাপের আঙিনা থেকে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের প্রস্থান হলো ভেজা চোখে হৃদয় ভাঙা হাহাকার ও হতাশা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের রবিবাসরীয় ফাইনাল শেষে পরাজিত রাজা লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরে যখন সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন

বিজয়ী যুবরাজ লামিনে ইয়ামাল, আড়ালে হয়তো মুচকি হাসছিলেন ফুটবল-বিধাতা। ঘটনাচক্রে ১৯ বছর আগে ইয়ামালকেই বাথটাবে গোসল করিয়েছিলেন মেসি। জীবনের আঙিনায় তাদের প্রথম সাক্ষাতের ছবিটা যেমন ভাইরাল হয়েছিল, ফুটবলের সবুজ গালিচায় প্রথম ও সম্ভাব্য শেষ সাক্ষাতের পর আলিঙ্গনের ছবিটাও এখন ভাইরাল। পরে সেটি ছাপিয়ে যায় পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মেসির কান্নার ছবি। 

ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলের হার দিয়ে শেষ হয়েছে ৩৯ বছর বয়সি মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়। শেষ বাঁশি বাজার পর মাথা নিচু করে বেদনা ও বোবা কান্না লুকানোর চেষ্টা করলেও রানার্সআপের রুপালি পদক গলায় ঝুলিয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন মহানায়ক। গ্যালারিতে ‘মেসি, মেসি’ গর্জন উঠতেই তার দুচোখ বেয়ে ঝরে নোনা জলের ধারা। স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয় ছাপিয়ে ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন বুকভাঙা এই কান্নাই কি আর্জেন্টিনার আকাশি নীল-সাদা জার্সিতে মেসির শেষ দৃশ্য? বিষাদে আচ্ছন্ন মহানায়ক নীরব থাকায় প্রশ্নটা করা হয়েছিল কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। এত কাছে এসেও টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে না পারার দুঃখে কাতর আর্জেন্টিনা কোচ নিজেও কাঁদছিলেন। মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্কালোনি বলেন, ‘লিওর সঙ্গে এখনো কথা হয়নি। তবে আমি নিশ্চিত, সবাই তাকে নিয়ে গর্ববোধ করবে। কারণ, সে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। ৩৯ বছর বয়সেও লিও অবিশ্বাস্য। তাকে নতুন করে আবিষ্কার করার মতো কিছু নেই। সে যতদিন চাইবে ততদিন খেলবে।’

মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটবে। গত পরশু রাতের ফাইনালে নিষ্প্রভ থাকলেও জাদুকরী ফুটবলে কয়েকটি প্রজন্মকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা মানুষটি জিতেছেন সম্ভাব্য সব কিছু। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকাসহ রেকর্ড ৪৮টি শিরোপা ও আটটি ব্যালন ডি’অর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ১২৫ গোল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপেও মেসি করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ গোল। ৩৯ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে আট গোল ও চার অ্যাসিস্টে কার্যত একাই দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু শেষ দৃশ্যে মেটলাইফ স্টেডিয়াম তাকে আরেকবার কাঁদাল। এই মাঠেই ১০ বছর আগে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে কাঁদতে কাঁদতে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। পরে অভিমান ভুলে ফিরে একের পর এক নতুন ইতিহাস গড়লেও এবার হয়তো সত্যিই থেমে যাবেন মহানায়ক। ২১ বছরের সোনায় মোড়ানো ক্যারিয়ারে সব কিছু জেতার পরও সম্ভাব্য শেষ দৃশ্যে তার এমন কান্নাই বলে দেয়, আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য তার আবেগ কতটা 

গভীর। ইয়ামালের হাতে মুকুট তুলেও আধুনিক ফুটবলের রাজার আসন মেসির দখলেই থাকবে। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির দুই সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ থিয়েরি অঁরি ও জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ এবারের বিশ্বকাপে ধারাভাষ্য দিয়েছেন। মেসিকে কাঁদতে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে ফরাসি গ্রেট অঁরি বলেন, ‘লিও তো জীবনে সব কিছু জিতেছে। তারপরও কান্না কেন? কারণ, দেশের প্রতি ওর ভালোবাসা অতুলনীয়। নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া এই মানুষটির বিপক্ষে আপনি বাজি ধরতে পারেন না। লিওর কারণেই ফুটবল এত সুন্দর।’ প্রায় একই সুরে সুইডিশ গ্রেট ইব্রা বলেন, ‘আমি জানি, শিরোপা জিততে না পেরে সে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে। তবে আমরা এই বিশ্বকাপে ওকে মনভরে উপভোগ করেছি। একা হাতে দলকে যেভাবে সে ফাইনালে তুলেছে, তা সত্যিই জাদুকরী। লিওর খেলা দেখাটাই আমাদের আনন্দ। যেদিন সে খেলা ছেড়ে দেবে, অনেকে ফুটবল দেখা ছেড়ে দেবে।’


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম