জনমনে কৌতূহল
আবার আলোচনায় রাষ্ট্রপতি পদ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সম্ভাব্য পদত্যাগ’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে কিছুটা গুঞ্জন। ফলে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, আসলেই কি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন? আর তিনি পদত্যাগ করলে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতিই বা কে হচ্ছেন? তবে মহলবিশেষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন গুঞ্জন ছড়াতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। তাদের মতে, সংসদ অধিবেশন শেষ হলো মাত্র এক সপ্তাহ আগে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ-সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তাছাড়া ক্ষমতাসীন বিএনপির মধ্যেও এ নিয়ে আলোচনা নেই।
দলটির নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বিএনপির মধ্যেই বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা রয়েছেন, যারা এই পদের জন্য যোগ্য। দলের বাইরে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে এলে বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশ হবেন বলেও মনে করেন তারা।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাকে কেন্দ্র করে আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই মূলত রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটে।
বুধবার দেওয়া পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসাবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।’ এই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর বুধবার বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা যুগান্তর অফিসে ফোন করে ‘আদৌ এ ধরনের সম্ভাবনা আছে কি না’ জানতে চান। সঙ্গে নেতারা এও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাউকে নির্বাচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি বিএনপি থেকেই হবে। এ প্রসঙ্গে তারা প্রবীণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও ড. ওসমান ফারুকসহ অনেকের নাম উল্লেখ করেন। তারা বলেন, শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ থাকলে খন্দকার মোশাররফ হোসেনেরই রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ছিল। তাকে না করা হলে অন্য যে কোনো প্রবীণ নেতাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হতে পারে। তবে অতীতে দলের বাইরেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার একাধিক নজির রয়েছে। আওয়ামী লীগের পছন্দে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। অন্যদিকে বিএনপি রাষ্ট্রপতি করেছিল অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে। সে হিসাবে বিএনপির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নাসিমুল গনির নাম আলোচনায় আসা স্বাভাবিক বলেও মনে করেন কেউ কেউ।
বিএনপির অন্তত ৪ জন মন্ত্রী প্রায় অভিন্ন সুরে যুগান্তরকে বলেন, সরকারের ভেতরে আপতত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনো আলোচনা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্ট নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি তারা। তবে কেউ কেউ এই পোস্টে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন সময় আন্দোলন চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। তবে রাজনৈতিক কৌশল ছাড়াও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপি এই পদে পরিবর্তন চায়নি। দলটির নেতারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ থাকলে বিগত বাজেট অধিবেশনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। কিন্তু এখন হঠাৎ করে তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে কেউ মনে করেন না। তবে দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে রাষ্ট্রপতির প্রতি বর্তমান সরকারের পুরোপুরি আস্থা রয়েছে, সেটিও আবার সবাই মনে করেন না।
