প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিটিএমএ'র বৈঠক
বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সচিবালয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তার ত্রাণ তহবিলের জন্য চেক হস্তান্তর করছেন বিটিএমএ-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি শামীম ইসলামসহ অন্যরা -সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বস্ত্র খাতের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটিকে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে নীতি গ্রহণ করবে।
বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে বিটিএমএ নেতাদের এ আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিটিএমএর সহসভাপতি শামীম ইসলাম, সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক সৈয়দ এনায়েত কবির, ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার, বর্তমান পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, বাদশা মিয়া ছাড়াও আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া, মুন্নু ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। বৈঠকে উপস্থিত বিটিএমএ-এর নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার টেক্সটাইল খাতের বিকাশে রপ্তানি প্রণোদনা, মূলধনী ভর্তুকি, স্বল্প সুদে অর্থায়ন, অবকাঠামোগত সহায়তা, বিদ্যুৎ ও করের সুবিধা, প্রযুক্তি উন্নয়নসহ ব্যাপক নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় সুতার আমদানি বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৮ হাজার ৬৫২ কোটি টাকার কটন সুতা আমদানি হয়েছে। অথচ এই পরিমাণ সুতা দেশে উৎপাদন করলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো।
বিটিএমএ নেতারা জানান, বাংলাদেশে সুতা ডাম্পিং ও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত করছে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ প্রতিযোগী সক্ষমতা হ্রাস করছে। সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করবে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে টেক্সটাইল শিল্পের সার্বিক অবস্থা জানানো হয়েছে। তিনি এ খাতের সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আছেন। সমস্যাগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে আগামী সপ্তাহে আবার বৈঠকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এত ত্বরিতগতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা আগে দেখা যায়নি, যেটা প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দেখা গেছে। তিনি মনে করেন, সরকারের সহায়তা পেলে এই খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
রাসেল বলেন, আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকার টেক্সটাইল শিল্পের সমস্যাগুলো সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধানের আশা করা যুক্তিযুক্ত হবে না। তবে বর্তমান সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল আনা হচ্ছে। এতে গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে। বিকল্প জ্বালানির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন।
সাংবাদিকদের শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বন্ধ ও অর্ধবন্ধ কারখানা চালু করা গেলে তাৎক্ষণিক ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব। এগুলো চালু করতে হলে বাংলাদেশে ডাম্পিং বন্ধ করতে হবে। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী এক মাসের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করবেন।
এদিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিএমএ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাইমারি টেক্সটাইল ও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য সমন্বিত শুল্ক-কর কাঠামো, আর্থিক সহায়তা এবং রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান ঋণের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ; সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সহজতর প্রক্রিয়া গ্রহণ, প্রকল্পভিত্তিক সিআইবি মূল্যায়ন এবং বন্ধ বা আংশিক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিআইবি সংক্রান্ত শিথিলতা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মূলধনী সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য একটি ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস মেকানিজম চালু করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, কাস্টমসসহ অন্যান্য সরকারি সেবা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিটিএমএর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ৫ কোটি টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়। ইতঃপূর্বে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিটিএমএর পক্ষ থেকে এক লাখ সেট স্কুল ড্রেস সরবরাহের জন্য ৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়।
