Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে জনস্রোত

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি চাপে মোদি সরকার

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি চাপে মোদি সরকার

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন শহরে। বুধবার বিহারের পাটনায় পুলিশের লাঠিপেটা ও জলকামান উপেক্ষা করে রাজপথে জেন-জিরা -এএফপি

Advertisement

ভারতে প্রশ্নফাঁসের জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিরোধীদলীয় সংসদ-সদস্যদের সমর্থন পাওয়ার পর বুধবার নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তর জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শুরুতে এটি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবির আন্দোলন হলেও এখন তা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে।

বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোয় বলা হয়েছে, অনলাইনভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) নেতৃত্বে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ২০২৪ সালে মোদির পুনর্নিবাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তর ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বুধবার ৩২তম দিন প্রতিবাদী কর্মসূচি চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। এদিন কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছে।

এর আগে সোমবার প্রতিবাদকারীরা সংসদ ভবন অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। এরপর এই আন্দোলন দেশের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে এরপর দেশটির সুশীল সমাজ, অধিকারকর্মী, বলিউড তারকারা শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানান। মঙ্গলবার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। সেখান থেকে তাদের আটকের কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হলেও বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এরপর বুধবার আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরে জনস্রোত দেখা গেছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের পক্ষে কয়েকটি দেশেও বিক্ষোভ হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোট সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে রাজপথে চাপ বাড়িয়ে চলেছে।

আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অভিজিৎ দীপকে বলেন, আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আপত্তি নেই। তবে আলোচনার জন্য সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের জবাবদিহি করতে হবে। আন্দোলনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাও বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না।

এই আন্দোলনের জেরে বুধবার সংসদের ভেতর ও বাইরে তীব্র অচলাবস্থা দেখা যায়। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বাম দল, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চাসহ বিরোধী জোটের সংসদ-সদস্যরা কালো পোশাক পরে সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন। কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধীসহ শীর্ষ বিরোধী নেতারা ‘ব্ল্যাক ডে’ পালন করেন। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন রাহুল। এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার বিষয় তুলে ধরে সুপ্রিমকোর্টে একটি আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রধান বিচারপতি এদিন সেই আবেদনের জরুরি শুনানির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এর মধ্যে অনশনরত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চিয়তা দিলে আমি অনশন ভঙ্গ করতে পারি।

আন্দোলনের এতদিন পর বুধবার প্রথমবার মুখ খুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকার সংসদে এ বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। এ সময় তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন এবং আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন।

সিজিপির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দিল্লির বাইরেও এদিন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন হাজারো মানুষ।

এদিকে ছাত্র-জনতার এই আন্দোলন ঘিরে বুধবার দিল্লিতে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন, গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।

নিরাপত্তার কথা বলে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সংসদ ভবন, যন্তর মন্তর এবং সংলগ্ন এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি পরীক্ষা নিয়ে শুরু হওয়া ক্ষোভ এখন দেশের বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, যুবসমাজের বেকারত্ব, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং প্রতিবাদের অধিকার-সবকিছু মিলিয়ে যন্তর মন্তরের আন্দোলন এখন মোদি সরকারের সামনে অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও দাবি ও পালটা দাবির কারণে সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত। ফলে রাজধানীর রাজনীতি আপাতত যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম