Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

বাজারে নিত্যপণ্যের দামে আগুন

পেঁয়াজে ২৫ টাকার লাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে সবজি

Advertisement

ইয়াসিন রহমান

ইয়াসিন রহমান

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাজারে নিত্যপণ্যের দামে আগুন

Advertisement

টানা বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে আগুন লেগেছে। বন্যার প্রকৃত প্রভাব পড়ার আগেই সবজি, মাছ, মুরগি থেকে শুরু করে ডিম ও পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছে অসাধু বিক্রেতারা।

বেশির ভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার উপরে। এক সপ্তাহে কাঁচা মরিচের দাম ১০০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। এতে দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের মানুষের একবেলা হাঁড়ি চাপানোই কঠিন হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সুযোগসন্ধানী তৎপরতায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা ও পটল ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো সবজি ৮০ টাকা কেজির নিচে নেই।

বেশির ভাগ সবজির দাম কেজি ১০০ টাকা বা তার উপরে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি বেগুন ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতিকেজি ঝিঙা ও চিচিঙ্গা বাজারভেদে ৮০ থেকে ১১০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, শসা ও গাজর ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার বিক্রি হয় ৫৫-৬৫ টাকায়। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয় ২০০-২২০ টাকা। যা আগে ১২০ টাকা ছিল।

খুচরা বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়; যা তিন দিন আগেও ১৩০ টাকা ছিল। আর ১০ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ২০০-২১০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও ১৮০-১৯০ টাকা ছিল। প্রতিকেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেশি। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা। আর খাসির মাংসের দাম কেজিপ্রতি ১২০০ টাকা।

ছুটির দিন রাজধানীর কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. শাহিন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। বৃষ্টি ও বন্যা হলেই বিক্রেতারা সুযোগ পায়। বাড়ায় পণ্যের দাম। এবারও তাই হয়েছে। কিন্তু বাজারে পণ্যের কোনো অভাব নেই। তবুও বিক্রেতারা সংকটের অজুহাতে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে বৃষ্টি-বন্যার প্রভাবের কথা বলে বাড়ানো হয়েছে মাছের দামও। ৪ দিন আগেও দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০-৩৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার এই মাছ কিনতে ক্রেতার গুনতে হয় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। সেক্ষেত্রে কেজিপ্রতি বেড়েছে ৫০-৮০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, চাষের চিংড়িসহ প্রায় সব ধরনের মাছের দামই বাড়ানো হয়েছে। বাজারভেদে প্রতিকেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা। যা দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বেশি। চাষের চিংড়ির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় উঠেছে। যা এক সপ্তাহ আগেও ৮০০-১১০০ টাকা ছিল। প্রতিকেজি পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া কেজিতে ২০০ টাকা বাড়ায় এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতার গুনতে হচ্ছে ১৬০০-১৮০০ টাকা।

নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা ভ্যানচালক সাহাবুদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, বাজারে এসেছি সকাল ৯টার পর। এখন ১০টা বাজে। এই এক ঘণ্টা বাজারের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত ঘুরছি। কী কিনব বুঝতে পারছি না। সবকিছুর দাম অনেক বেশি।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, দেশে বন্যা ও বৃষ্টিতে মাঠের ফসল নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এর প্রভার এখনই পড়ার কথা নয়। বন্যার প্রকৃত প্রভাব পড়ার আগেই অস্বাভাবিকভাবে পণ্যমূল্য বাড়ানো হয়েছে। বাজারে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সারা বছর একই প্রক্রিয়ায় মূল্য কারসাজি করে ক্রেতাকে ঠকাচ্ছে। তবে এর বিপরীতে সরকারের তরফ থেকে কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া ভোক্তাকে স্বস্তিতে রাখতে তদারকি সংস্থাগুলোর কোনো গবেষণাও নেই। ফলে বাজারে নিষ্পেষিত হচ্ছেন ভোক্তা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, বাজারে অভিযান থেমে নেই। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিদিন বাজার তদারকি করা হচ্ছে। অসাধু পন্থায় দাম বাড়ালে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে পণ্যের দাম সহনীয় করা হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থে অধিদপ্তরের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম