Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

বিচার নয়, নিজের কৃতিত্বের দাবি সাহাবুদ্দিনের

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিচার নয়, নিজের কৃতিত্বের দাবি সাহাবুদ্দিনের

Advertisement

বিচারের মুখোমুখি নয়, বরং নিজেকে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার অন্যতম কারিগর বলে দাবি করেছেন সদ্য বিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করেছি, শপথ পড়িয়েছি, সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি। এখন দেশে গণতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে-এটা আমারও কৃতিত্ব।’

তার দাবি, সংবিধান মেনেই তিনি সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সময়মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভূমিকা রেখেছেন। বিএনপি ও সশস্ত্র বাহিনী সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ফিরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টেলিফোনে যমুনা টেলিভিশনের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় সাহাবুদ্দিন জানান, নির্ধারিত মেয়াদের ২১ মাস আগেই পদত্যাগ করতে হলেও তা ছিল কেবল অসুস্থতার কারণে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা বিব্রতকর প্রশ্ন। অসুস্থতার কারণেই চলে গেলাম। এর বেশি কিছু বলার নেই।’ তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির পদে আসাটাও ছিল অনেকটা অপ্রত্যাশিত, বিদায়টাও নাটকীয়। দায়িত্ব পালনকালে তিনি তিনটি ভিন্ন সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে দায়িত্ব পালন করলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই পদে বহাল ছিলেন।

সাহাবুদ্দিনের দাবি, বিএনপি সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বলেই নির্বাচন পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হয়েছে। একইভাবে সশস্ত্র বাহিনীও গণতন্ত্রের পক্ষে থাকায় রাজনৈতিক উত্তরণ সহজ হয়েছে।

লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার অভিযোগও নাকচ করেছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত। বাংলাদেশ থেকেই পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় কথা বলা যায়। তাহলে লন্ডনে গিয়ে কেন কথা বলব’।

গত ডিসেম্বরে যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেছিলেন সাহাবুদ্দিন। তখন তিনি অভিযোগ করেছিলেন, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে পদত্যাগের পর এ বিষয়ে আর বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি; বরং তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পেছনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর জুলাই আন্দোলনের নেতাদের দল এনসিপি তার বিচারের দাবি তুলেছে। এ বিষয়ে সাহাবুদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত বিচারযোগ্য নয়। আমি সংবিধান অনুযায়ী সব করেছি। তাহলে আমার বিচার কেন হবে?

নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও জানান সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামের একটি স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে হঠাৎ ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও এ বিষয়ে সরকারের কাছে এখনই কোনো প্রত্যাশা রাখতে চান না।

বঙ্গভবনে তিন বছর তিন মাসের দায়িত্ব শেষ করে এখন গুলশানের বাসায় উঠছেন সাহাবুদ্দিন। অবসরে তিনি একটি বই লেখার পরিকল্পনা করেছেন। সেখানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, আওয়ামী লীগের পতন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অভিজ্ঞতা, নির্বাচন এবং বিএনপি সরকারের শুরুর দিনগুলোর বর্ণনা তুলে ধরবেন বলে জানান।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম