Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

প্রার্থী দিতে পারবে বিরোধী দলও

Advertisement

শহীদুল ইসলাম

শহীদুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রার্থী দিতে পারবে বিরোধী দলও

Advertisement

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় সংবিধান অনুসারে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য খুব শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। সংসদ-সদস্যদের ভোটে যেহেতু ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সেহেতু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই পাশ করবেন-এটা নিশ্চিত বলা যায়। তবে সংবিধানে বিরোধী দল থেকে এই পদে মনোনয়ন দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। নজিরও আছে। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকেও এই পদে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। যদিও তিনি বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন।

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন এবং তিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। আর ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তির কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়স হতে হবে এবং তাকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য আগে সংসদ-সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়; সংসদ-সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকলেই তিনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে বা নির্বাচিত হতে পারেন।

সংবিধানের কোথাও বলা নেই যে, রাষ্ট্রপতি পদে শুধু সরকারি দলই প্রার্থী দিতে পারবে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিরোধী দল বা অন্য কোনো সদস্যও সংবিধানে বর্ণিত একজন যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিতে পারেন। তবে ভোটাভুটিতে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে।

রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতির পরিবর্তে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার উল্লেখযোগ্য নজির রয়েছে ১৯৯১ সালে। ওই বছরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর এটিই প্রথম পরোক্ষ নির্বাচন ছিল। আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত করেছিল। বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে আব্দুর রহমান বিশ্বাস পান ১৭২ ভোট ও বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নব্বইয়ের ডিসেম্বরে ৯ বছরের স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৪০ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসন না পাওয়ায় জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। দলভিত্তিক আসন বিন্যাস অনুসারে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি, আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) ৫টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৫টি, ইসলামী ঐক্য জোট ১টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ১টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ১টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-সিরাজ) ১টি এবং স্বতন্ত্র ৩টি আসন লাভ করে।

আওয়ামী লীগ তখন ভেবেছিল জাতীয় পার্টি, জামায়াত এবং সমমনা বামদের সমর্থন পেলে রাষ্ট্রপতি পদে তারা বিজয়ী হতে পারবে। তৎকালীন জামায়াত আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের সঙ্গে দেখা করে বদরুল হায়দার চৌধুরী সমর্থন চাইলেও দলটি তাতে রাজি হয়নি। ফলে সংসদে যখন রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয় তখন দলীয় ৮৮ আসনের সঙ্গে সমমনা মাত্র ৪ জন সদস্যের ভোট পান আওয়ামী লীগ প্রার্থী। সব মিলিয়ে বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জাতীয় পার্টির সদস্যরা তখন ভোটদানে বিরত থাকেন।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোর বেশির ভাগই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিরোধী দল প্রার্থী দেয়নি অথবা মনোনয়ন পর্যায়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হয়ে গেছে। ফলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনকে সংসদীয় আমলে রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের অন্যতম নজির হিসাবে দেখা হয়।

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে সংসদ-সদস্য হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। এর উদাহরণ হলো সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এবং সদ্যবিদায়ি মো. সাহাবুদ্দিন। এই তিনজন কখনো জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন না। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ওই বছরের নভেম্বরে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভোট হয়। তাতে আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করার পর বিএনপি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও সংসদ-সদস্য ছিলেন না। এই তিন রাষ্ট্রপতিই সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদে বিরোধী দল চাইলে রাষ্ট্রপতি পদে নিজস্ব প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। তবে বর্তমান বিরোধী দল এই পদে কাউকে মনোনয়ন দেবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত দল এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলের কোনো ফোরামেই এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম