Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এ অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ৩১ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং গ্রেফতার ১০ জনকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিকে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ‘জেনোসাইড’ (গণহত্যা) হিসাবে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এদিন বেলা পৌনে ১১টায় অভিযোগটি (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনালে শুনানি হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি এ মামলায় আনা দুটি অভিযোগ তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে আনা হয়েছে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।

শাপলা চত্বরের ঘটনাকে গণহত্যা আখ্যায়িত করে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ঘটনাটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ ছিল। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এমনকি শাপলা চত্বরে গ্রেনেড, মারণাস্ত্র ব্যবহারের জন্য মন্ত্রী-প্রশাসনের একটি বৈঠকও হয়েছিল। এর পরই শিশুসহ হেফাজতের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়। ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হোক। শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতার ব্যক্তিদের ১৬ আগস্ট হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহ, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যরা। শেখ হাসিনা ছাড়া অপর আসামিরা হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ-সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, ডিএমপির তৎকালীন ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, ডিএমপির তৎকালীন এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।

এ মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন ডা. দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান, একেএম শহিদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু। অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। এছাড়া আবদুর রাজ্জাকও গ্রেফতার আছেন। বাকিরা পলাতক। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ৬১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ছিল জেনোসাইড : সোমবার নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে একটি নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। তবে ঘটনার পর এ নিয়ে করা মামলাটির কোনো তদন্তকাজ চালানো হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত বা বিচার পায়নি হেফাজতে ইসলাম। অবশেষে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমি ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বভার নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসাবে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি জেনোসাইড তথা গণহত্যা ছিল।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম