সার্জিও গোরের ঢাকা সফর
মার্কিন বিনিয়োগ এলে ৮-১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য নিয়ে চিন্তা নেই
Advertisement
এম হুমায়ুন কবির
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সার্জিও গোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত। যেহেতু তিনি এই অঞ্চলের বিশেষ দূত সেহেতু তাকে এই অঞ্চলের দেশগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। তিনি বাংলাদেশে আসার আগে শ্রীলংকা, নেপাল সফর করেছেন। সেদিক থেকে দেশগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা বোঝার জন্য এ ধরনের সফর হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করি এটি তার ঢাকায় আসারও কারণ।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, এটি বাস্তবায়নে তিনি উদ্যোগ নেবেন। যেহেতু সার্জিও গোর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সেহেতু তিনি এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের ক্ষেত্রে আগ্রহী হবেন এটাই স্বাভাবিক। সেটা কতটা হয়েছে, কোন কোন জায়গায় প্রতিবন্ধকতা আছে, বাস্তবায়নে কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে অর্থাৎ তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
তিনি রোাহিঙ্গা ক্যাম্পে গেছেন। বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের অবস্থা কি সেটি দেখেছেন, বুঝেছেন। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বেশি সাহায্য দিয়ে থাকে। তাই সার্জিও গোরের একটি সুপারিশ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে খাইয়ে, পরিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।
তিনি বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং সরকারের প্রতি মার্কিন সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। সার্জিও গোর বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও ব্যক্ত করেছেন। এর একটি বিশেষ দিক আছে। এআরটি নিয়ে বিশেষত আমদানি ও রপ্তানি এবং শুল্ক হার হ্রাস নিয়ে সবাই কথা বলেন। কিন্তু তার বাইরেও একটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ জগত বিনিয়োগের। এখানে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের নানাভাবে সহায়তা করতে পারে। আমাদের জ্বালানি খাতে একটি বড় ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্র রাখতে পারে। বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমির পুরো সমুদ্র পড়ে আছে। সেখানে কোনো খনন এখন হচ্ছে না। মার্কিন কোনো বিনিয়োগ যদি এক্ষেত্রে আসে তাহলে সেটি আমাদের জন্য সহায়ক হবে। শিক্ষা, প্রযুক্তি খাতেও মার্কিন বিনিয়োগ হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙা হবে।
সার্জিও গোর জানিয়েছেন-আগামী সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেট সেক্টরের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। পুরো বিষয়টিকে খুব ইতিবাচকভাবে দেখছি। কিন্তু এই ইতিবাচক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাইলে বাংলাদেশের দিক থেকে কথার চাইতে কাজের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির জন্য যে যে উদ্যোগগুলো দরকার তার সবটাই করতে হবে। বাণিজ্য, সুশাসন থেকে শুরু করে রেগুলেটরি সব জায়গায় যে আধুনিকায়ন প্রয়োজন তাতে মনোযোগী হতে হবে। যদি সেটি করা যায় তাহলে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনা আছে। আর মার্কিন বিনিয়োগ যদি আসে তাহলে দ্বিপাক্ষিক আমদানি-রপ্তানির ৮-১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চিন্তা না করলেও চলবে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ এলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে; অর্থনীতিকে চাঙা করে বাংলাদেশকে লাভবান করবে।
আরেকটি বিষয়ে নিশ্চিভাবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র যে বিনিয়োগের কথা বলছে তার অন্যতম উদ্দেশ্য, আমরা যেন চীনের দিকে আর না যাই বা চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা যেন আর না বাড়ে। কিন্তু সেটি মুখে বললেই হবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসে তখন বাংলাদেশও চিন্তা করবে আর কি বিকল্প আছে। তবে এটি খুব স্পষ্ট, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গে কি কি কথাবার্তা হয়েছে সেটি যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে চাইছে। কৌশলগতভাবে তারা চীনকে বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দেখে। বাংলাদেশও সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে তাদের, এটি আলোচনায় আসেনি বিশ্বাস করতে চাই। তবে, আমার ধারণা বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই আলোচনায় এসেছে।
লেখক : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং সভাপতি, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)
অনুলিখন : হক ফারুক আহমেদ
