Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

শিল্প বাঁচাতে দ্রুত গ্যাস ক্রয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মালয়েশিয়ার গ্যাস আইএসও পদ্ধতিতে আমদানির সিদ্ধান্ত

Advertisement

Icon

শাহেদ সিদ্দিকী

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মালয়েশিয়ার গ্যাস আইএসও পদ্ধতিতে আমদানির সিদ্ধান্ত

Advertisement

ক্রোয়োজেনিক লরি ট্যাংকার বা আইএসও পদ্ধতিতে বেশি দাম দিয়ে হলেও মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস ক্রয়ের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গ্যাসের ভয়াবহ সংকট থেকে দেশের শিল্প কারখানা বাঁচাতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ছয় মাস লাগতে পারে। নীতিনির্ধারক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত সপ্তাহে জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সহায়তা চেয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশীয় কোম্পানি পেট্রোনাসের একটি প্রতিনিধি দলও গত সপ্তাহে ঢাকা সফর করেন। সেই সফরেই আইএসও পদ্বতিতে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে মূল্য বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সরাসরি এই গ্যাস নিতে অনীহা প্রকাশ করেছিল। এদিকে, জ্বালানি বিভাগ বাংলাদেশের ভোলায় উত্তোলিত গ্যাস আইএসও পদ্ধতিতে মূল ভূখণ্ডে আনার চিন্তা করছে। এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের বিনিয়োগ নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সব নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে দেশের শিল্পায়নের জন্য গ্যাস সংকটকে অন্যতম বাধা হিসাবে উল্লেখ করা হয়। দেশে বিনিয়োগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে এ সময় প্রধানমন্ত্রী গ্যাসের সংকট দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন। ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, টাকা জমা দিয়েও ৫৫০টি শিল্প-কারখানা গ্যাসের সংযোগ পাচ্ছে না। সব মিলিয়ে ১৮৫৭টি শিল্প-কারখানা গ্যাসের আবেদন জমা হয়ে আছে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির কাছে।

জানা গেছে, সকালের বৈঠকের পর দুপুরে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা এক বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেও মালয়েশীয় কোম্পানি পেট্রোনাসের কাছ থেকে আইএসও পদ্ধতিতে গ্যাস আমদানির নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়। বলা হয়, সংকট কাটাতে মালয়েশিয়ার গ্যাস আমদানি করা যায়। কিন্তু এর দাম পড়বে তিনগুণের বেশি। সরকার বর্তমানে শিল্প গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট গ্যাস ৩১ টাকায় বিক্রি করছে। পেট্রোনাসের প্রতি ইউনিট গ্যাস চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত সরবরাহ করতেই ১০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। সেই গ্যাস গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, সংকট দ্রুত সমাধানে অন্যান্য যে যে পদ্ধতিতে গ্যাস আমদানি করা যায় তা করবে সরকার। মালয়েশিয়া ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আনতে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য আইএসও একেবারে নতুন একটি প্রস্তাব। পেট্রোনাসের তথ্য অনুযায়ী ২০ ফিট (প্রতিটিতে এলএনজি থাকবে ৯ টন) এবং ৪০ ফিটের (প্রতিটিতে এলএনজি থাকবে ১৮ টন) ট্যাংক জাহাজে করে বাংলাদেশে পাঠানো যায়। প্রতিটি জাহাজে ৬০০-এর মতো ট্যাংক থাকবে। লরির মাধ্যমে এই ট্যাংক চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরকারের গ্যাস পাইপলাইন বা বিভিন্ন ফ্যাক্টরি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর স্থানীয় ট্যাংকে আমদানি করা এই এলএনজি লোড করা হবে। তবে এজন্য ব্যবহারকারীর স্থাপনায় রিজার্ভ ট্যাংক এবং রিগ্যাসিফিকেশন বসাতে হবে। এজন্য অর্থ বিনিয়োগের দরকার হবে। পেট্রোনাস জানিয়েছে, ট্যাংকারে ওই এলএনজি চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে সময় লাগে প্রায় ৭ দিন।

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম চড়া। এখন পেট্রোবাংলাকে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে প্রতি ইউনিট ৬৬ টাকায়। এই চড়া মূল্যের চেয়েও অনেক বেশি পেট্রোনাসের এলএনজি। দেশের চরম গ্যাস সংকট চলছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল গত ২১ জুলাই বন্ধ হওয়ার পর এই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমেছে দৈনিক ৫১ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস। এই কারণে দেশের বেশিরভাগ শিল্প-কারখানা এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

দেশে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের সরবরাহ করা হতো ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সেখানে এখন সরবরাহ করা হচ্ছে ২১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস। তবে জমা পড়ে থাকা ১৮৫৭টি শিল্প-কারখানাকে গ্যাস দিতে হলে দৈনিক আরও ৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম