দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে অভিন্ন প্রতিক্রিয়া
কক্সবাজার, বাগেরহাট প্রতিনিধি ও যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অনেক জল্পনা-কল্পনার পর বুধবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে অডিও বক্তব্য দেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যে তিনি দেশে ফিরে আসার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এতে দেশে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিমত থাকলেও শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তারা প্রায় অভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। কক্সবাজারে এক অনুষ্ঠানে শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিসের হাসিনা-মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ শোনা যায়। বাগেরহাটে এক বক্তৃতায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে আনা হবে অন্যায়, জঘন্য অপরাধ। অন্যদিকে যে দেশে শেখ হাসিনা অবস্থান করছেন (ভারত) সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা যা কিছু বলেছেন তা ভারত সরকার অনুমোদন করে না
কিসের হাসিনা মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কিনা। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না। শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজারের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে তিনি কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা, সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। সমুদ্রকে শুধু যোগাযোগ বা পর্যটনের ক্ষেত্র হিসাবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক গবেষণা, বন্দর, জ্বালানি, পর্যটনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে যুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে এ জেলা আরও বড় অবদান রাখতে পারে। কক্সবাজারকে শুধু দেশের মানুষের কাছে নয়, বিশ্ববাসীর কাছে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসাবে তুলে ধরতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সব এলাকাজুড়েই পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মকাণ্ড হতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রকৃতির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেই পর্যটন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।
কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিধিনিষেধের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতঃপূর্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটনের বিকাশে এসব এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এখানে মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ আরও বাড়বে।
পরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ-সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ-সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য শামীম আরা স্বপ্নাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষ মাদক কারবারিদের নির্মোহ তালিকা হবে : এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার সার্কিট হাউজে জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের শীর্ষ মাদক কারবারিদের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তিনি বলেন, মাদক চোরাকারবারি ও ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করতে একটি টাস্কফোর্স কাজ করবে। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, মাদক পাচারের জন্য শুধু স্থলপথ নয়, নদী ও সমুদ্রপথও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব রুটে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ-সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ-সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ টি এম নুরুল বশীর চৌধুরী, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক এস এম খায়রুল আলম, র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান, ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (এডিআইজি) সিরাজ আমিন এবং ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (এডিআইজি) রিয়াজ উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে আনা অন্যায় হবে: ডা. শফিকুর রহমান
আওয়ামী লীগ এ দেশের রাজনীতিকে হত্যা করে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তারা অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছে। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেনি। তাদের সামান্য অনুশোচনাও নেই। শুধু দল ভারি করার জন্য তাদের রাজনীতিতে আনা অন্যায়, জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কারও করা উচিত হবে না। শুক্রবার বাগেরহাট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সম্মানে একমত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। এই জায়গাটা সরকার যত সামাল দেবে বাংলাদেশ ততো সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। আমরা সংসদের ভিতরে অবশ্যই সহযোগিতা করছি। আর যেখানে বিরোধিতা করা দরকার সেখানে বিরোধিতা করছি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো আমরা দুই মেরুতে আছি। দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপমান করতে দেওয়া হবে না। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, এক সময় সংসদে মারামারি হয়েছে। ফাইল ছুড়ে মারা হয়েছে। আমরা সে পার্লামেন্ট চাই না। আমরা একটা সভ্য জগতের পার্লামেন্ট দেখতে চাই। এজন্য প্রথম দিন থেকে বিরোধীদল হিসাবে আমাদের ভূমিকা ছিল গঠনমূলক। এটা আমরা অব্যাহত রাখব। কোনো উসকানিতেই এ জায়গা থেকে আমরা সরে আসব না।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, বাগেরহাট ১ আসনের সংসদ-সদস্য মাওলানা মো. মশিউর রহমান, বাগেরহাট ২ আসনের সংসদ-সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট ৪ আসনের সংসদ-সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীমসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।
হাসিনাকে ফেরাতে রেড নোটিশ জারির দাবি : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার জামায়াতের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনতে বর্তমান সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সহযোগিতা নিতে হবে। যদি এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক শৈথিল্য প্রদর্শন করা হয়, তাহলে সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশের পরিবর্তে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দিয়ে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করেছে। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তিও উপেক্ষা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি পালিয়ে থেকে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে চাইলে সেটি সফল হবে না। দেশের মানুষকে ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
হাসিনার বক্তব্য ভারত অনুমোদন করে না: জয়সওয়াল
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে যা কিছু বলেছেন, তা ভারত সরকার অনুমোদন বা সমর্থন করে না। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলন আয়োজনে ভারতের ‘কোনো ভূমিকা ছিল না’ দাবি করে জয়সওয়াল বলেন, ‘ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশে বৈধভাবে গঠিত সাংবিধানিক সরকারের বিরুদ্ধে, তা ভারত সরকার অনুমোদন করে না।’
জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন। ওই আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তির কথা আগেই ভারতকে জানিয়েছিল। এ কথাও বলেছিল যে, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালে তা দুদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সে সময়েও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওই আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও হাসিনার ওই বক্তব্য দেওয়ার পর প্রতিবাদে আবারও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার। এরপর শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘ওই আয়োজন শুরুর আগেই ওই বিষয়ে আমরা আমাদের মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম। সেই কথা আরও একবার বলেছি। আয়োজনটি ছিল একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থার উদ্যোগ। তাতে সরকারের কোনো ভূমিকাই ছিল না। ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, তার কোনো কিছুই ভারত অনুমোদন বা সমর্থন করে না।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের যে কোনো ঘটনা বা গতিবিধির ওপর সর্বদা তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়। ভারত তার রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়। যে কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি অনুযায়ী উচিত পদক্ষেপ নেয়।’
