Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

সংকট থাকবে আরও ৫ দিন

নিম্নমানের এলএনজিতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত

Advertisement

শাহেদ সিদ্দিকী

শাহেদ সিদ্দিকী

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নিম্নমানের এলএনজিতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত

Advertisement

প্রায় এক মাস বড় ধরনের গ্যাস সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। এর মধ্যেই নিম্নমানের এলএনজিতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে একটি কোম্পানি। গত এক মাস রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) নিম্নমানের এলএনজি আমদানি করছে জানিয়ে তারা বলেছেন, এ ধরনের এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন করা যাচ্ছে না। কমে যাচ্ছে টার্মিনালের সক্ষমতা। সোমবার সামিট গ্রুপ সঠিক মানের এলএনজি আমদানির তাগাদা দিয়ে পেট্রোবাংলাকে তিন পৃষ্ঠার একটি চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে তারা এ অভিযোগ তুলে ধরে। 

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বাইরে এলএনজি আমদানির কোনো সুযোগ নেই। সামিটের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। 

এদিকে, এলএনজি কার্গো না থাকায় গত ৪ দিন ধরে অলস বসে আছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল। অন্যদিকে, ফিল্টারিং সমস্যার কারণে এলএনজি সরবরাহে বারবার হোঁচট খাচ্ছে সামিট গ্রুপের টার্মিনাল। এ কারণে সারা দেশে আবারও গ্যাস সরবরাহে ধস নেমেছে। 

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, সামিটের টার্মিনালে রিগ্যাসিফিকেশন সমস্যার কারণে মঙ্গলবার সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ ভয়াবহভাবে কমে যায়। এদিন বিকাল ৪টায় সরবরাহ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০৭ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে দুই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ হয়েছে ৪৪ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে সারা দেশে আবারও শত শত শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শিল্পের বাইরে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন গ্রাহকের দুর্ভোগও ছিল চরমে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিল্পকারখানায় গ্যাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির অফিসে মঙ্গলবার হাজির হন নাসির গ্লাস, প্রাণ ও মোশাররফ কম্পোজিটসহ বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাদের দাবি-ফ্যাক্টরি চালাতে গ্যাস লাগবে। নইলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। 

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, গ্যাসের জন্য বিভিন্ন কোম্পানি তিতাস অফিসে ধরনা দিচ্ছে। তারা ফ্যাক্টরির উৎপাদন করতে পারছে না। 

এবার নতুন আতঙ্ক নিম্নমানের এলএনজি : সামিট গ্রুপের টার্মিনাল বা এফএসআরইউ সোমবার থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ফিল্টারিং সমস্যার কারণে ২-৩ বার উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে। তাদের দাবি, কার্গো বা জাহাজ থেকে নিম্নমানের এলএনজি খালাস করে ঠিকমতো রিগ্যাসিফিকেশন করা যাচ্ছে না। যে কারণে ১৭ এবং ১৮ আগস্ট টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ৩৪ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়।

পরিষ্কার করা হয়েছে টার্মিনালের ফিল্টার। অথচ এই টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫৫ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা যায়। শুক্রবার রাত থেকে সামিটের টার্মিনালে এখন বিটল এশিয়ার একটি কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করা হচ্ছে। সামিট গ্রুপের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নিম্নমানের এলএনজির ব্যাপারে পেট্রোবাংলাকে জানিয়ে বলা হয়েছে, সাধারণত ৩ মাস অন্তর এফএসআরইউর ফিল্টার পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে কার্গোর এলএনজির মান বেশ খারাপ। এ কারণে এখন ২-১ দিন পরপর ফিল্টার পরিবর্তন বা পরিষ্কার করতে হচ্ছে। এতে করে কমে যাচ্ছে গ্যাসের সরবরাহ। দেশে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পুরোদমে সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। 

সামিটের চিঠিতে আরও বলা হয়, ৮ জুলাই অ্যাঙ্গোলা এবং ১৩ ও ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি লোড করে কার্গো। এই তিন কার্গো স্পট মার্কেট থেকে কেনা। ১৭ আগস্ট ও ১৮ আগস্ট সামিট গ্রুপের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি অব বাংলাদেশের (জিটিসিএল ও আরপিজিসিএল) হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েছে। সেই মেজেসে বলা হয়েছে, রিগ্যাসিফিকেশনে ময়লা থাকায় টার্মিনালের সরবরাহ কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে সামিট। এ কারণে সোমবার একদিনে ৩ বার ফিল্টার পরিষ্কার করা হয়। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত এলএনজিতে ৮৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত মিথেন, ইথেন ৯ দশমিক ২ শতাংশ, প্রোপেন ৩ শতাংশ ছাড়াও বিউটেন এবং নাইট্রোজেন থাকতে হবে। তবে এ সব উপকরণের পরিবর্তে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি থাকলে এলএনজি টার্মিনালে রিগ্যাসিফিকেশনে সমস্যা হবে। এ ব্যাপারে বারবার চেষ্টা করেও আরপিজিসিএলের ব্যবস্থাপকের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চদামে এলএনজি কার্গো কিনছে। প্রতিটি কার্গোর এলএনজি কিনতে সরকারকে ব্যয় করতে হচ্ছে ৯৫০ কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্টরা জানান, মানসম্মত এলএনজি সরবরাহ না করলে দেশের দুই টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে না। 

গ্যাসের দুর্ভোগ কাটবে কবে : বর্তমানে দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৪৪ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট থেকে ১০ কোটি ঘনফুটের কম। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে এসেছে। এটির জন্য কোনো কার্গো নেই। বুধবার দুপুরে এটি বন্ধ হয়ে যাবে। তখন সরবরাহ আরও কমবে। ২৩ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের জন্য বিপি সিঙ্গাপুরের একটি কার্গো আসবে। এরপরের জন্য স্পট মার্কেট থেকে কার্গো কিনতে সরকার আবারও দরপত্র ডেকেছে। কাল-পরশু এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জ্বালানি বিভাগ। 

অন্যদিকে, গ্যাস প্রক্রিয়ায় ময়লা জমার কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। তাই সামিটের টার্মিনালের পুরো সক্ষমতার সরবরাহ কত দিন দিতে পারবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের এলএনজির কারণে সামিটের টার্মিনাল থেকে আপাতত দৈনিক ৩৫ থেকে ৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও তাদের টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫৫ কোটি ঘনফুটের বেশি এলএনজি সরবরাহের সক্ষমতা আছে। বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা কাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে কেউ এই ব্যাপারে মুখ খুলছে না। 

শিল্পকারখানা শুকিয়ে মরছে : সারা দেশের লোডশেডিং সামাল দিতে বিদ্যুৎ খাতে এখনো গ্যাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় বিদ্যুৎ খাতের জন্য ২০৭ কোটি ঘনফুটের মধ্যে ৯৫ কোটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শিল্পে এখনো তুলনামূলক কম গ্যাস বরাদ্দ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, সারখানা বাদে অন্য সব গ্রাহকের জন্য (শিল্প, বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক, চা বাগান এবং সিএনজি স্টেশন) মঙ্গলবার গ্যাস বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ১২৪ কোটি ঘনফুট। এ মধ্যে তিতাস এলাকার গ্রাহকদের (সার ও বিদ্যুৎ ছাড়া) গ্রাহকদের জন্য রাখা হয়েছিল ৯৭ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট গ্যাস। তিতাস গ্যাস কোম্পানি জানিয়েছে, ৯৭ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত পক্ষে তিতাস পেয়েছে ৮৩ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস। বাকি গ্যাস সার ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তিতাস এলাকায় ৪ হাজার ৬০০ শিল্প এবং ক্যাপটিভ গ্রাহক আছে। 

এদিকে, সারা দেশে বৃষ্টির কারণে দেশে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ১৬৩ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৫ মেগাওয়াট। এ সময়ে লোডশেডিং ছিল ২৪৮ মেগাওয়াট।


Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

৯ মাসে ৬৬ হত্যা, আতঙ্কের নগরী খুলনা

৯ মাসে ৬৬ হত্যা, আতঙ্কের নগরী খুলনা

ঋণের জটিল ফাঁদ

ঋণের জটিল ফাঁদ

একান্ত সাক্ষাৎকারে আইজিপি জনবান্ধব পুলিশ গড়াই প্রধান লক্ষ্য

জনবান্ধব পুলিশ গড়াই প্রধান লক্ষ্য

মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার সাংবাদিক ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর গুলি করে হত্যা

ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর গুলি করে হত্যা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম