ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বিদায়ি সভায় কাঁদলেন মির্জা ফখরুল
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় সংসদ ভবনে বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -পিআইডি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাষ্ট্রপতি পদে দলের সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য সরকারদলীয় সংসদ-সদস্যদের ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে দলের শৃঙ্খলা, তৃণমূল পুনর্গঠন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুতে সংসদ-সদস্যদের সর্তকবার্তা দিয়েছেন তিনি। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভায় এমন বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুর ২টায় শুরু হয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা এ বৈঠক চলে। সভায় বিদায়ি বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি কয়েকবার কেঁদে ফেলেন। নেতাকর্মী ও সংসদ-সদস্যদের কাছে দোয়া চান।
বৈঠকে সংসদ-সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য-এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বহু বছর ধরে তিনি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি দলের হাল ধরেছেন, কখনো হাল ছাড়েননি, তাকে কারাবন্দিও করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময়ে আমাকে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে।’
মির্জা ফখরুলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ-সদস্যদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক সংসদ-সদস্যের সঙ্গে এলাকায় দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনোভাবেই এ দূরত্ব সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না।
তারেক রহমান বলেন, ‘এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এ নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে কেউ দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে না যান, সেজন্য এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।’ স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে তাকে জয়ী করতে হবে।’
কয়েকজন সংসদ-সদস্য জানান, বিগত সংসদ নির্বাচনের সময় দলের ভেতরের কিছু দ্বন্দ্বের কারণে বেশ কয়েকটি আসন হারাতে হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলের ভেতরে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদ-সদস্যদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে-কোনো অবস্থাতেই যেন দলের সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব তৈরি না হয়।
সংসদীয় সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে বিএনপির সদ্য বিদায়ি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্যের শুরুতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্মরণ করেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ-সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ সংসদের হুইপ ও দলের সংসদ-সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বৃহস্পতিবার (আজ) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমাদের দলীয় চেয়ারম্যান, সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করেছেন। আমরা সংসদীয় দলের সভায় সব সংসদ-সদস্যের কাছে তার পক্ষে ভোট চেয়েছি এবং সবাইকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।
