দুই কার্গো এলএনজি ও ৩ লাখ টন সার কিনবে সরকার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৯৫ কোটি ১২ লাখ টাকার বেশি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আগের চেয়েও চড়া দামে আরও দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ৭০ হাজার টন ইউরিয়া, ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি, ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিএপি এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি সার কেনা হবে। সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম পড়বে ৩৮০ দশমিক ৮৩ ডলার। আর কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড বা কাফকো থেকে দ্বিতীয় লটে আরও ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৩৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ৩৫৯ দশমিক ৫০ ডলার। এ হিসাবে মোট ৭০ হাজার টন ইউরিয়া কেনায় ব্যয় হবে প্রায় ৩২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন প্রোডিনটর্গ থেকে চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার টন এমওপি আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলার। এছাড়া কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে দুটি লটে মোট ৮০ হাজার টন এমওপি কেনা হবে। দুই চালানে ব্যয় হবে প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলার। অর্থাৎ রাশিয়া ও কানাডা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি কেনায় ব্যয় হবে প্রায় ৫৪৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপসের সঙ্গে চুক্তির আওতায় দুটি লটে ৮০ হাজার টন ডিএপি আমদানি করা হবে। প্রতিটি লটে ৪০ হাজার টন করে। এতে ব্যয় হবে যথাক্রমে ৪৪৩ কোটি ৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং ৪৪২ কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে সৌদি আরবের মাদেন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও ৪০ হাজার টন ডিএপি কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ৪৪০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এ চালানে প্রতি টনের দাম ৮৯১ ডলার। সব মিলিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিএপি কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৩২৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে দুটি লটে মোট ৬০ হাজার টন টিএসপি কেনা হবে। প্রথম লটে ৩০ হাজার টনের দাম ২৫২ কোটি ১ লাখ টাকা এবং প্রতি টনের মূল্য ৬৭৮ ডলার। দ্বিতীয় লটে একই পরিমাণ সারের দাম ২৪৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং প্রতি টনের মূল্য ৬৬৮ ডলার। দুটি লটে টিএসপি কিনতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৫০০ কোটি ২১ লাখ টাকা। ফলে ইউরিয়া, এমওপি, ডিএপি ও টিএসপি মিলিয়ে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার কেনার মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬৯৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
সারের পাশাপাশি এবার আরও চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার। সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি কার্গো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩-১৪ সেপ্টেম্বরের ৪৬তম কার্গো সরবরাহ করবে পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন। এর দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ৬২৫ ডলার। অন্যদিকে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরের ৪৭তম কার্গো সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্যের টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড। এ কার্গোর দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ২৫ ডলার। দুটি কার্গোই আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে কেনা হচ্ছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে আমদানি করা গ্যাসের স্পটমূল্য দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
এদিকে একই বৈঠকে মুরাই খালের ওপর ভেল্লাপাড়া সেতু নির্মাণকাজে ৭ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৮ টাকা ভেরিয়েশন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূল চুক্তিমূল্য ছিল ৪৮ কোটি টাকা। ভেরিয়েশনের পর সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৫ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৮ টাকা। মূল চুক্তির তুলনায় এ বৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্য খামালজাতকরণের জন্য ১৫ হাজার পিস ডানেজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই বৈঠকে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় এপিআইএস, পিএনআর, ই-ভিসা, ই-টিএ এবং সার্বভৌম ডেটা অ্যানালিটিকস প্ল্যাটফর্ম সংযোজনের জন্য বিশেষ ক্রয় পদ্ধতি গ্রহণের নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়।
