Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

Advertisement

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

Advertisement

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও হইচই হয়েছে। বিরোধী দলের এক সদস্যের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ঘিরে প্রায় ১৪ মিনিট হইচই চলে। এতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে থাকলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম কয়েক দফা তাদের বসতে বলেন। তোপের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেন। এরপরও চলতে থাকে হইচই। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হলে বিরোধীদলীয় নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন স্পিকার।

বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্নোত্তর-পর্বে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। ঘটনার সূত্রপাত পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ-সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের একটি সম্পূরক প্রশ্ন নিয়ে। জামায়াতের ওই সংসদ-সদস্য বলেন, ‘দিনদুপুরে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই ও রাহাজানি হচ্ছে। নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে। সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ-সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হলেও আসামিদের গ্রেফতার না করে উলটো বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে।’ তিনি জানতে চান, প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই-রাহাজানি এবং সংসদ-সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শাহবাগে গিয়ে বক্তৃতা দেওয়া আর সংসদে বক্তৃতা দেওয়া এক কথা নয়।’ তার এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা দাড়িয়ে তুমুল হইচই শুরু করেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কাউকে উদ্দেশ করে বলিনি। আমি তো আপনারা কথা বলার সময় কথা বলিনি।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ইয়েস, আই উইথড্র, আই উইথড্র, আই উইথড্র।’ এতেও বিরোধী দলের সদস্যরা শান্ত না হওয়ায় স্পিকার তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা অনুগ্রহ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনবেন।’ কিন্তু স্পিকারের এই অনুরোধের পরও হইচই চলতে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে স্পিকার বলেন, ‘আজ একে অপরকে কথা বলার সুযোগকে যেভাবে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখেছি, এটা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ না। আমি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আপনাদের বলব, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি পড়ুন। স্পিকার যখন কথা বলেন, তখন সবাইকে বসে শুনতে হয়। এই আইন-নীতি যদি না মানেন, ভঙ্গ করেন, তাহলে এই সংসদ বেশিদিন চলবে না।’ এরপরও হইচই চলতে থাকলে স্পিকার বলেন, ‘স্পিকারের কথা বলার সময় যে জোশটা আপনারা দেখাচ্ছেন, এটা সংসদীয় কাজ নয়।’

এ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার যে শব্দচয়নে তাদের আপত্তি, আমি সংক্ষেপে জবাব দিতে পারব। আমি মিন করেছি, এটা জাতীয় সংসদ। আমাদের এখানে প্রশ্ন যেমন স্পেসিফিক করতে হয়, এই সংসদে সম্পূরক প্রশ্নও একইরকম করতে হবে। এমপির মামলায় আসামি গ্রেফতার হয়নি-এমন অভিযোগ করলে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। কোথায় ছিনতাই হয়েছে এবং সেই ঘটনায় আসামি গ্রেফতার হয়নি, তারও স্পেসিফিক তথ্য প্রয়োজন। সেজন্য বলছি, এটা মহান জাতীয় সংসদ। বাইরের বক্তৃতা এখানে চলবে না।’

এরপর স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে ফ্লোর দিলে তিনি বলেন, ‘নতুন করে কিছু শব্দ উচ্চারণ শুরু করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উনি নিজেকে কী মনে করেন? তিনি শুরু থেকেই সংসদে দুঃসাহস দেখিয়েছেন। তিনি প্রথম থেকেই বিরোধীদলীয় সদস্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেন। আমরা তার ছাত্র হিসাবে এখানে আসিনি। উনি শিক্ষক হলে তিনি ইউনিভার্সিটি খুলুন, সেখানে উনি বক্তব্য দিতে পারবেন। তার কথাবার্তা সংসদীয় ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি। তাকে অবশ্যই দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে হবে।’

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার বলেন, ‘বিগত ৪০ বছর এই জাতীয় সংসদে আছি। অতীতে অনেক খারাপ রেকর্ড আছে। আমরা বলতে পারি, অতীতের তুলনায় আমরা ভালো সংসদ পেয়েছি। আমি উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ জানাব।’

এর আগে কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্ন বুঝতে পারেননি দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো না পল্টনের বক্তৃতা হলো, বুঝতে পারিনি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে সংসদে তখনও একদফা হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কীসের বাক্স্বাধীনতা।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গানবাজনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটা কালচারাল জেলা। সেই জেলায় গানবাজনা, সিনেমা নাকি বন্ধের মতোই। এই ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন রিস্টোর করতে পেরেছেন কি না। আইনের শাসন, সেটি প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না। নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।’ জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি হয়নি, সেটা তো দৃশ্যমান।’ এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পল্টনে বক্তব্য দেওয়া আর সংসদে বক্তব্য দেওয়া এক কথা না। এখানে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দিয়ে কথা বলতে হবে।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম