শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিচ্ছেন -পিএমও
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আবেগময় কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত তারা কোথায় কী অবস্থায় আছেন একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দুই হাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তি এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল-এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও চাই আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের উৎসাহ দেবেন। যাতে আমরা শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধা যারা আছেন তাদের যে প্রত্যাশা দেশ ও জাতিকে নিয়ে, সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি। আপনাদের সর্বাত্মক সমর্থন যেন আমরা পাই।
অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাইয়ে শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিজে এই নিয়োগপত্র তুলে দেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন-গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা দৃষ্টিশক্তিহীন আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ, ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলম প্রমুখ।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ইশফাক আহমেদ, শাম্মী সুলতানা, আলাল আহমেদ, শহীদ আনভীর বাবা মমতাজ হোসেন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, জুলাই যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস-সচিব আতিকুর রহমান রুমন। অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস-সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
