Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

স্থায়ী কমিটির সভাপতি নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম না দিলে স্থায়ী কমিটির সভাপতি নয় : সরকারি দল * জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার চায় বিরোধী দল

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্থায়ী কমিটির সভাপতি নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

Advertisement

মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব হারে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল। অন্যদিকে সরকারি দল বলেছে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে নাম না দিলে তাদের সভাপতি পদ দেওয়া হবে না। রোববার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মধ্যে এ বিতর্ক হয়। 

তাদের এমন অবস্থানের মুখে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা এবং প্রয়োজনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের ‘ক্লোজ ডোর’ আলোচনার অনুরোধ করেন। এদিন সংসদীয় কমিটি গঠনের কথা থাকলেও বিতর্কের পর নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে চারটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সংবিধান সংশোধন করতে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলকে ওই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে বিরোধী দল কারও নাম দেয়নি। তারা এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, জুলাই সনদ অনুযায়ী তারা সংবিধান সংস্কার চায়। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তারা সদস্য দেবে না। 

গতকাল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের নাম দেওয়ার বিষয়টি তোলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।

বিরোধীদলীয় উপনেতার সঙ্গে কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটিতে নাম দেওয়ার জন্য আগে তাদের (বিরোধী দল) আহ্বান করেছিলাম। তারা আজকে বলেছেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তারা থাকবেন। এ কারণে সংবিধান সংশোধন কমিটি পুনর্গঠন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন সংক্রান্ত কমিটিগুলো উত্থাপন করতে চাই না। এ পর্যায়ে তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতাকে সংসদে কথা বলার সময় দেওয়ার জন্য স্পিকারকে অনুরোধ জানান। 

এরপর বিরোধী দলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংসদ-সদস্যদের সংখ্যা অনুসারে সংসদীয় কমিটিতে সদস্য এবং অন্যান্য বিষয় বণ্টন হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। ২৬ শতাংশ সদস্য পেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কমিটিগুলোর সভাপতিরও ২৬ শতাংশ বিরোধী দল থেকে হবে। কিন্তু যে কয়টি কমিটি চূড়ান্ত হয়েছে, সেখানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো সভাপতি এখন পর্যন্ত হয়নি। আমরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেই কিন্তু এখানে আসছি। সুতরাং আমরা এই সংসদে বৈষম্য প্রতিষ্ঠিত হোক চাই না। 

জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বিগত দিনে কখনো বিরোধী দল থেকে কোনো কমিটির সভাপতি করা হয়নি। জিয়াউর রহমান পাবলিক কমিটির (সরকারি হিসাবসংক্রান্ত কমিটি) সভাপতি করেছিলেন। ইতোমধ্যে এটা বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সব সমস্যার সমাধান করতে চাই। সংবিধান সংশোধনও ঐকবদ্ধভাবে করার ইচ্ছা ছিল। বিরোধীদলীয় উপনেতার সঙ্গে কথা হয়েছে উল্লেখ করে চিপ হুইপ বলেন, বিগত দিনে যে রেওয়াজ নাই, আমরা সেটা (সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ) দিব না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে দাঁড়ি, কমাসহ সেভাবে বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করলে তারা যেভাবে চেয়েছে সেভাবে সভাপতি দিতে রাজি।

পরে তাহের বলেন, ‘আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হচ্ছে সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আমরা অংশ নেব না। আমরা মনে করি, একটি কমিটিতে জয়েন করানোর জন্য আমাদের ওপর শর্তারোপ করে জবরদস্তিমূলক কথাবার্তা আমরা সঠিক মনে করি না। ’

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদে একজনের নাম দিতে বলা হয়েছিল। এজন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়নি। সরকারি দল এই অফার করেছিল। কিন্তু বিরোধী দল বলেছিল এ পর্যায়ে তারা ডেপুটি স্পিকারের পদ নেবে না। তিনি বলেন, তখন আমরা ভাবলাম জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে অর্থাৎ সংবিধান সংশোধিত হলে সেই অনুযায়ী আমরা যাব। সংবিধান সংশোাধন কমিটি করার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে সমৃদ্ধ সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হবে। সেটা পাশ হলে তারপরে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হবে। 

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অন্য কমিটিগুলো সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দল সভাপতি পাবেন। সেজন্য তো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হতে হবে। সংবিধান সংশোধন করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের চিফ হুইপ প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা সবই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে চাইবেন। অথচ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতায় আসবেন না, এটা বিপরীতমুখী হয়ে যায়।

চার কমিটি পুনর্গঠন : রোববার জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম কমিটিগুলো পুনর্গঠনের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে জামায়াতের সংসদ-সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের বদলে দলটির আরেক এমপি কামাল হোসেনকে যুক্ত করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে বিএনপির মো. আবদুল্লাহর বদলে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের এমপি আবদুস সালাম আজাদ এবং জামায়াতের এমপি আল ফারুক আবদুল লতিফের পরিবর্তে দলটির আরেক এমপি এনামুল হককে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। 

আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য আল ফারুক আবদুল লতিফের বদলে সংরক্ষিত আসনের জামায়াত জোটের তাসমিয়া প্রধানকে সদস্য করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে এনসিপির আতিকুর রহমান মোজাহিদের বদলে জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেমকে সদস্য করা হয়েছে।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম