আজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নানা চড়াই-উতরাইয়ের পর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে বিএনপি। ২০০৭ সালের পর এবারই প্রথম সুসময়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের সুযোগ পেয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বিএনপি। টানা ৪১ বছর বিএনপির হাল ধরে রাখার পর গত বছরের ডিসেম্বরে দলটির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরলোকগমন করেন। তার মৃত্যুর পর শক্তভাবে দলের হাল ধরেন বর্তমান চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রথমবার সরকারে, অন্যদিকে দলের প্রধান হিসাবেও তার সময়ে এটি প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে বাণীও দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সুদিন হলেও ক্ষমতায় আরোহণের পর বিএনপির সামনে এখন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই দলটির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতোমধ্যে ৬ মাসের বেশি পার করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। দলটি ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সরকার সংকটের মধ্যে পড়ে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে হয়। এরপর শুরু হয় তীব্র গ্যাস সংকট। এক মাসের বেশি বাসা-বাড়ি, ফিলিং স্টেশন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মক ব্যাহত হওয়ায় সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখতে হচ্ছে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও। এ দুই সংকটের বাইরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বাজারব্যবস্থা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলেও পুরোপুরি সফলতা এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ছিল। বর্তমান সরকারের আমলে কিছুটা উন্নতি হলেও পরিস্থিতি শতভাগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে কেউ মনে করছেন না। প্রায় প্রতিদিনই ছিনতাই, খুন ও মব-সন্ত্রাসের ঘটনা সামনে আসছে, যা শক্ত হাতে দমন করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ক্ষমতায় আসার পর দলের নেতাকর্মীদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার যেন দলের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে এবং মানুষ ক্ষুব্ধ না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় আসছে। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব হত্যাকাণ্ড এবং বিগত দেড় দশকের গুম-খুনের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা বিএনপির অন্যতম দায়িত্বও বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ হিসাবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো শিথিলতা বা বিলম্ব দেখা দিলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারত ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো প্রভাবশালী শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করাও সরকারের সামনে বড় পরীক্ষা। এছাড়া বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোর কিছু কিছু বাস্তবায়ন শুরু হলেও অধিকাংশ দৃশ্যমান নয়। এছাড়া সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে নিজস্ব ধারায় রাজনীতিতে সক্রিয় রাখাও বিএনপির চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
তবে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, সামনে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেটি মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা বিএনপির আছে। তিনি বলেন, একটা রাজনৈতিক দল সরকারে আছে, এখানে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে। তবে সরকারের কাজ হচ্ছে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণ ও দেশের পক্ষে কাজ করা, সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করা। তার মতে, চ্যালেঞ্জ আসবেই এবং সেটি মোকাবিলা করাই একটি সরকারের কৃতিত্ব। সেই দক্ষতা ও সক্ষমতা সরকারের আছে।
তিনি বলেন, বিএনপি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় থেকে মানুষ মনে করে বিএনপি জনগণের সপক্ষে এবং জনগণের স্বার্থে দুমুঠো ভাত-ডালের ব্যবস্থা করে। জনগণ প্রত্যাশা করে, দুমুঠো ভাত আর বস্ত্র-বাসস্থানের-সেজন্য আমরা কাজ করছি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো অগ্রগতি নেই, বরং দেশজুড়ে চরম অবনতি চলছে। বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সরকার আইনকানুন ও সংবিধান মানার তোয়াক্কা করছে না এবং দেশ এক প্রকার স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সরকারের ব্যর্থতা ও বর্তমান অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বিএনপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি এই সংকট ও চ্যালেঞ্জ উত্তরণ ঘটিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো ভূমিকা রাখবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মতে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। জনগণ ভোট দিয়ে সংসদে নিয়েছে। এত বেশি ভোট দিয়েছে যে, দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়েছে বিএনপি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী এ সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের সব দায়িত্ব এখন তাদের ওপর। যুগান্তরকে তিনি বলেন, বিএনপি জনপ্রিয় দল এবং জনগণের জন্য কাজ করছে। এর মধ্যেও সম্প্রতি জ্বালানিসহ দলটির নেতাকর্মীদের নানা কর্মকাণ্ড জনপ্রিয়তাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এখন সরকারকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে সরকারের সামনে যেমন প্রত্যাশার চাপ রয়েছে, তেমনই স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার অবসানের পর দেশ পরিচালনায় বেশকিছু নতুন চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো-রাজনীতিতে ইতিবাচক স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার পরিধি আরও শক্তিশালী করা। সমাজে পুরোপুরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নিশ্চিত করা।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর যুগান্তরকে বলেন, জিয়াউর রহমান থেকে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের সুচিন্তিত নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার ফলেই দেড় দশকের সংকট কাটিয়ে বিএনপি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারেক রহমানের সামনে সুযোগ রয়েছে আগামী অন্তত এক দশক দেশের নেতৃত্ব দিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করার। তবে এই সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলকে সুসংগঠিত রাখা এবং বেপরোয়া নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেকে জনতার কাতারে নিয়ে গেলেও অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যে সেই উপলব্ধির ঘাটতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী জন-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দুর্নীতি বন্ধ ও প্রশাসনকে জনমুখী করাও সরকারের মূল পরীক্ষা। এছাড়া দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে তৃণমূল পর্যন্ত শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, নইলে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় যাওয়া কঠিন হবে। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে তার নেতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পড়বে।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের বিএনপির সংসদ-সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম মনে করেন, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে সামনে সরকারের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজনীতিতে বিরাজমান শূন্যতা দূরীকরণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করার দায়িত্ববোধ মাথায় রেখে সব মত ও পথের রাজনীতির সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল- বিএনপি গঠন করেন। একদল বিপদগামী সেনা সদস্যের হাতে তিনি নিহত হওয়ার পর প্রথমবার সংকটে পড়ে বিএনপি। তখন বিচারপতি আবদুস সাত্তার কিছুদিনের জন্য নেতৃত্বে এলেও পরে দলের হাল ধরেন বেগম খালেদা জিয়া। তার যোগ্য নেতৃত্বে বিএনপি একাধিকবার ক্ষমতায় আসে এবং বিরোধী দলের ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা দখলের পর দ্বিতীয়বার এবং ওয়ান-ইলেভেনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃতীয়বারের জন্য দলটি সংকটের মুখোমুখি হয়। তৎকালীন চেয়ারম্যান খালেদা জিয়াসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতাকে মামলা দিয়ে কারাগারে নেওয়া হলে দলটি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনের মধ্যে দলটি বারবার অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলা করে। এরশাদের শাসন আমলে ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দল ভাঙার নানামুখী চক্রান্ত সত্ত্বেও খালেদা জিয়ার দূরদর্শী দিকনির্দেশনা এবং লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের সাংগঠনিক নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকে। সেই কঠিন ও প্রতিকূল সময়ে দেশে অবস্থান করে দলের সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভূমিকাও অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল।
গত দেড় দশকের বেশি সময় বিএনপির রাজনীতি ছিল মূলত সরকারবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক। সেই সময় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গুম, খুন, মামলা, গ্রেফতার ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। এরপর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিএনপি জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন অভ্যন্তরীণ ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো দূরদর্শিতার সঙ্গে কাটিয়ে উঠে দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষা, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য।
আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে উদ্ধার করার জন্য সরকারের প্রথম ছয় মাসে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও সব ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনুযায়ী গতি এসেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ-গ্যাস, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক গতি ও আইনশৃঙ্খলা-এসব খাতে জনসাধারণের প্রত্যাশা এখনো অনেক বেশি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা, এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকারের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের আচরণও বিএনপির জন্য বড় পরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির সামনে এখন আরেকটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বিএনপি ইতোমধ্যে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে।স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কোন্দল, একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের দ্বন্দ্ব সামলানো কঠিন হতে পারে।
এছাড়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে থাকাকালে বিএনপির অন্যতম রাজনৈতিক আকর্ষণ ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা। সে সময় দলটি রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, জবাবদিহি ও সুশাসনের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি আর সরকারে থেকে বাস্তবায়ন করা এক বিষয় নয়। প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি এবং রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাত সামলে সংস্কারের গতি ধরে রাখাই হবে বিএনপির বড় পরীক্ষা।
বিএনপির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দল ও সরকারের মধ্যে ভারসাম্য রাখা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকারের প্রধান এবং বিএনপির চেয়ারম্যান। ফলে সরকার পরিচালনার সিদ্ধান্ত ও দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সমন্বয় যেমন প্রয়োজন, তেমনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণও জরুরি বলে মনে করেন রাজনীতিবিদরা।
পাঁচ দিনের কর্মসূচি
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আজ ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
৫ সেপ্টেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া সারা দেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকরা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

