Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

বিদ্যুৎ সংকটে সংসদে দুঃখ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রীর

আগামী ১৫ দিনে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির আশ্বাস

Advertisement

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ১৫ দিনে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির আশ্বাস

Advertisement

দেশজুড়ে চলা তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একইসঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের ভুল ও অপরিকল্পিত নীতিকে দায়ী করেছেন তিনি। বর্তমান সংকটকে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশা করি। আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে তা যাতে আর না হয়-এজন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বুলবুলের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে দাবি করে নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। তার দাবি, এ ঘাটতি বিগত ৫৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিছক কথামালার আড়ালে প্রকৃত সত্য লুকাতে চাই না। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের কারণে কষ্টে আছে।’ তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতির জন্য শুধু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বাংলাদেশের জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমিও এই সংসদে দাঁড়িয়ে এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের জন্যও অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ’বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ (ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ) দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী গ্রীষ্মে মানুষকে চলতি সময়ের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলে আমরা আশাবাদী।’ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য-সংকটও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য-সংকট সামনে আসে, যার প্রভাব জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাও সংকট তৈরি করেছে।’

ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও সেই অনুযায়ী বিদ্যুৎ মিলছে না। এছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল।’

চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলায় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা সম্ভব।

তিনি জানান, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে সরকারের পুঞ্জীভূত বকেয়া রয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদন বাড়ানো যায়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত চালু করা এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম