Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

৩ বছরে বন্ধ ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা

Advertisement

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

৩ বছরে বন্ধ ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে ৪০০’র বেশি গার্মেন্টস (পোশাক) কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বৃহস্পতিবার মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে বেশ কিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কারণ তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে সৃষ্ট তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি। বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ। 

পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা প্রদান। ইউরোপে বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সুবিধার পাশাপাশি অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের (নিট, ওভেন ও সোয়েটার) অন্তর্ভুক্ত সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা প্রদান। তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা হিসাবে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ প্রণোদনা প্রদান।

দাম সহনীয় রাখতে সমন্বিত বাজার তদারকি চলছে : মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে এবং ভেজাল ও নকল পণ্য বাজারজাতকরণ বন্ধে দেশব্যাপী সমন্বিত বাজার তদারকি চলছে। মন্ত্রী এ সময় ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের পণ্য বাজারজাতকরণ বন্ধ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের আওতায় বাজারে ভেজাল প্রতিরোধ, অসাধু ব্যবসা দমন এবং তদারকি কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। 

এআরটি থাকায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে : সেলিমুজ্জামান মোল্যার এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড(এআরটি) স্বাক্ষরিত থাকায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের হার ১০% নির্ধারণ করা হয়। ফলে বাংলাদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।

ভূমিকম্পসহ বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক : নিলুফার চৌধুরী মনির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার এক লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি প্রশিক্ষিত ভিত্তি গড়ে তুলছে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। 

ভেজালবিরোধী মোবাইল কোর্ট : মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ১৮০ দিনে ৫০০টি ভেজালবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুই কোটি ৪০ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা : মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে পাঁচ লাখ মে.টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

বর্তমানে দেশে খাদ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে : মো. মশিউর রহমান খানের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি খাদ্য গুদামসমূহে ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৭ মে.টন খাদ্যশস্যের মজুত রয়েছে। মজুত তথ্য ও নিরাপত্তা মজুত অনুযায়ী বর্তমানে দেশে খাদ্য উদ্বৃত্ত আছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে : মো. আব্দুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের অর্থবছরের চেয়ে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও বেড়েছে। বর্তমানে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং বাকি অংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। 

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও চীনের বড় দুটি ঘাটতি রয়েছে। তবে বিষয়টি শুধু দেশভিত্তিক না দেখে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের সামগ্রিকভাবে রপ্তানি বাড়ানো দরকার, এজন্য সক্ষমতাও বাড়ানো দরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের আরও কয়েকটি খাতে রপ্তানি সক্ষমতা রয়েছে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকেও কিছু বাধা রয়েছে। একইভাবে গত দুবছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, আগামী দিনে ভারতে যাতে আমাদের রপ্তানি আরও বাড়ানো যায়। 

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে : বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে এবং খুব শিগ্গিরই দেশটিতে কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরকার দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম