Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

বাংলাদেশ-ভারত নৌচলাচল চুক্তি ও এমওইউ

বৈঠকে বসতে বারবার চিঠি দিল্লির, আগ্রহ কম ঢাকার

কাজী জেবেল

কাজী জেবেল

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বৈঠকে বসতে বারবার চিঠি দিল্লির, আগ্রহ কম ঢাকার

ফাইল ছবি

দুদেশের নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনে বারবার বাংলাদেশকে কূটনৈতিক চিঠি (নোট ভারবাল) দিচ্ছে ভারত। চলতি বছরে অন্তত তিনটি চিঠি দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এক চিঠিতে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে বৈঠকের জন্য সম্ভাব্য তিনটি তারিখও উল্লেখ করেছে দেশটি। তবে এখনই বৈঠকে বসার বিষয়ে আগ্রহ কম দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। সচিব পর্যায়ের ওই বৈঠক না হওয়ার কারণে নৌপ্রটোকল (পিআইডব্লিউটিঅ্যান্ডটি) চুক্তির আওতাধীন ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি’ এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ট্রান্সশিপমেন্টসংক্রান্ত চুক্তির আওতাধীন আন্তঃসরকার কমিটির সভাও হচ্ছে না। এসব সভা একইসঙ্গে হয়ে থাকে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ঢাকায় সভা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আর বৈঠক হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পর্যটকবাহী জাহাজ (ক্রুজ) চলাচল বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারত পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট করেনি। তবে পিআইডব্লিউটিঅ্যান্ডটি চুক্তির আওতায় নৌপথে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুদেশের মধ্যে ৪২ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৩ টন পণ্য নৌপথে পরিবহণ করা হয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, দিল্লির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ধীরে চলো নীতিতে এগুচ্ছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সময়সূচি নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বসার বিষয়ে আগ্রহ কম বাংলাদেশের। এমনকি বৈঠকে বসার পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও নেয়নি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এ পর্যন্ত নৌ মন্ত্রণালয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়েছে। তবে নৌ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলো তাদের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

এদিকে, আগামী ৭-৯ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ‘সাগরমন্থন : দ্য গ্রেট ওশেনস ডায়ালগ’ এ অংশ নিতে নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি। কয়েক দিনের মধ্যে নৌমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য বৈঠক হওয়ার কথা। ওই সময়ে বাংলাদেশ-ভারত নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারত নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাব্য সময়সূচির বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া যুগান্তরকে বলেন, ভারত আমাদের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ওই বৈঠকের সম্ভাব্য সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আমরা বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওই প্রস্তুতি আরও অগ্রসর হওয়া দরকার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে যেসব সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করছি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এসব বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সালের বৈঠক ঢাকায় হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এবারের দিল্লিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নৌসচিবের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। সাধারণত দুই দিনে নৌসচিব, স্ট্যান্ডিং কমিটি ও আন্তঃসরকার কমিটির বৈঠক হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে স্থলবন্দর নির্মাণসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট, উপকূলীয় জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ, পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল এবং অভ্যন্তরীণ রুটে নৌযানে পণ্য পরিবহণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকের জন্য চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল, ২৫ জুন ও ১১ আগস্ট বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। সর্বশেষ ওই চিঠির পর সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণে ঝুলে থাকা সমস্যা, দুদেশের মধ্যকার রুটগুলোর অবস্থা, আঞ্চলিক কানেকটিভিটি, স্থলবন্দরগুলোর সমস্যা, দুদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর অবস্থাসহ বেশ কিছু বিষয়ে তথ্য চেয়ে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নৌপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণে ভারতের সঙ্গে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্টস ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া (এসিএমপি), কোস্টাল শিপিং অ্যাগ্রিমেন্ট (সিএসএ), প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিঅ্যান্ডটি) এবং দুদেশের মধ্যে নৌপথে যাত্রী ও পর্যটক যাতায়াতসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এসিএমপির মাধ্যমে মূলত ভারত তার পণ্য বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দেশটির অন্য অংশে পরিবহণ করা হতো। এজন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের মাশুল পেয়ে থাকে বাংলাদেশ। নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী মালামাল আশুগঞ্জ দিয়ে পরিবহণ করার সময়ে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। এরপর আর ট্রান্সশিপমেন্ট হয়নি। সম্প্রতি দেশটির নামকরা একটি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ওই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার জন্য অনেক বিষয় এজেন্ডায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধীনের সংস্থাগুলো। এসিএমপির কিছু অংশ পর্যালোচনার প্রস্তাব করেছে চট্টগ্রাম ও মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষ। সাতক্ষীরার ভোমরা ও লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের কিছু স্থাপনা নির্মাণসহ বেশ কিছু বিষয় আলোচনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। দুদেশের মধ্যে চলাচলকারী নৌযানের ক্রুদের ল্যান্ডি পাস, বাংলাদেশি জাহাজের জন্য ভারতের অতিরিক্ত চার্জ পরিহার, ধুলিয়া-ময়া-সুলতানগঞ্জ-রাজশাহী ও আরিচা নৌপথে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা, খারাপ আবহাওয়ায় বাংলাদেশি জাহাজের জন্য শেল্টার স্থান নির্ধারণসহ বেশ কিছু এজেন্ডা নির্ধারণ করছে বিআইডব্লিউটিএ। সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজে চাকরি পাওয়া বাংলাদেশি নাবিকদের ভারতের ভিসা সহজ করার পুরোনো প্রস্তাব আবারও আলোচনায় আনতে চায় নৌপরিবহণ অধিদপ্তর।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম