গুম ও মানবাধিকার কমিশন বিল পাশ
‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বহুল আলোচিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। রোববার বিল দুটি পাশ হওয়ার আগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। দুর্বল বিল পাশ করা হবে-এ অভিযোগ এনে তারা মুখে কালো কাপড় পরে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। এর আগেই তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিল দুটি পাশের কোনো প্রক্রিয়ায় তারা থাকবেন না। তবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্যরা সংসদে থেকে বিল পাশের প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তারা তড়িঘড়ি করে বিল পাশের বিরোধিতা করেন।
রোববার জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি উত্থাপনের জন্য আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে আহ্বান জানান স্পিকার। এ সময় বিল পাশের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্বল আইন পাশ করার প্রক্রিয়ায় অংশীদার হব না। আমরা এ আইনের আলোচনায় অংশ নিচ্ছি না এবং আমরা এখন ওয়াকআউট করছি। জবাবে স্পিকার বলেন, ওয়াকআউট করার জন্য আপনাদেরও ধন্যবাদ।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাশের পরে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেটিও কণ্ঠভোটে পাশ হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিল দুটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল। পরে তা বাতিল করে সরকার।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মানবাধিকারসংক্রান্ত যে বিলটা এসেছে, সেখানে আইনের স্পষ্ট দ্বৈত প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। মানবাধিকার কমিশনকে একটা ইউনিফর্ম অথরিটি দেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যদি কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তাহলে মানবাধিকার কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে।’
শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিশেষ বিধানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনের দ্বৈত প্রয়োগ হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্রের কর্মচারী, কিন্তু তারা এ দেশের নাগরিক। একই অপরাধে একজনের জন্য সরাসরি তদন্ত করা যাবে, আরেক জায়গায় আটকে যাবে-এটা হতে পারে না।’
বিলে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সমন্বয়ে কমিশন এক বা একাধিক তদন্ত দল গঠন করতে পারবে।
গুম প্রতিরোধ বিল পাশ : মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাশ হয়েছে। গুমের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-কোনো সরকারি কর্মচারী কিংবা কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী নিজ পরিচয়ে বা সরকারের সমর্থনে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার, আটক বা অপহরণ করে এবং স্বাধীনতা হরণ করার বিষয়টি অস্বীকার করে কিংবা তার অবস্থান গোপন রাখে, তবে তা গুম বলে গণ্য হবে।
গুমের অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে এখতিয়ার সম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বরাবরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে। গুমের মিথ্যা অভিযোগের শাস্তি ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিল পাশের আলোচনায় বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ত্রুটিপূর্ণ ছিল। অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে আগের অধ্যাদেশটাকে শক্তিশালী করে এই বিলটা নিয়ে আসা হয়েছে। গুম প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এটাও শক্তিশালী করা হয়েছে। আমাদের অঙ্গীকার ও নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আমরা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলটা নিয়ে এসেছি।
