Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ

তরুণদের আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে

Advertisement

জাহিদ হাসান

জাহিদ হাসান

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তরুণদের আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে

Advertisement

দেশে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ২০২৪ সালে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি প্রতি এক লাখ তরুণের মধ্যে প্রায় ১৮ জন আত্মহত্যায় মারা গেছেন। আর ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ জনে। এক বছরের ব্যবধানে তরুণদের আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুহার বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে আত্মহত্যাকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা হিসাবে না দেখে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আত্মহত্যা সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তন’। এর সঙ্গে যুক্ত স্লোগান বা আহ্বান হলো-‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ও কলঙ্ক ভেঙে কথোপকথন শুরু করা।’

দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য হলেও বিশ্বে প্রতিবছর ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। এসব মৃত্যুর প্রায় ৭৩ শতাংশ নিু ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২১ সালে আনুমানিক ৪ হাজার ৭১৪ জন আত্মহত্যায় মারা গেছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩ জন মানুষ আত্মহত্যায় প্রাণ হারিয়েছেন।

দিবসটি সামনে রেখে বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ : তরুণদের আত্মহত্যা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা হয়। আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত বলেন, আত্মহত্যা মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এককভাবে সরকারের পক্ষে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সব পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকার পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন, ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ এবং কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো তৈরিতে কাজ করছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আঁচল ফাউন্ডেশনের লিড সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. সায়েদুল ইসলাম সাইদ বলেন, আত্মহত্যার পেছনে একক কোনো কারণ থাকে না। বিভিন্ন সমস্যা, চাপ ও সংকটের সম্মিলিত প্রভাবে একজন মানুষ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন। কেউ আত্মহত্যার কথা বললেও সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিরা অনেক সময় মানসিক অসুস্থতা বা তীব্র সংকটের মধ্যে দিয়ে যান। তাই তাদের অপরাধী না ভেবে চিকিৎসা ও সহায়তার আওতায় আনতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মহসিন আলী শাহ বলেন, আত্মহত্যা করতে চাওয়া অনেক মানুষই প্রকৃতপক্ষে বেঁচে থাকতে চান। কিন্তু তীব্র মানসিক সংকট ও বিষণ্নতার কারণে তারা এটিকে একমাত্র পথ হিসাবে দেখতে পারেন। তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর কাছে নিতে হবে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনোভাবেই তাকে অপরাধী হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না। সংকটের সময়ে তাকে একা না রেখে পাশে থাকা জরুরি।

লেখক ও গবেষক গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় ব্যবহৃত কঠোর বা আঘাতমূলক শব্দও একজন মানুষকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ডব্লিউএইচওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ বলেন, ঝুঁকি কমানো, সামাজিক সহায়তা জোরদার এবং সংকটে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খাত ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বাংলাদেশ ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের একটি বহু খাতভিত্তিক জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ জোরদার করেছে। মানসিক স্বাস্থ্য আইন-২০১৮, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি-২০২২ এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২০-২০৩০-এর ভিত্তিতে পরিকল্পনাটি তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন সামাজিক ও নীতিগত পরিবর্তনও। সংকটে থাকা মানুষের কথা বিচার না করে শোনা, দ্রুত সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করার মাধ্যমে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম