জুলাই জাদুঘর তৈরির পেছনের গল্প
Advertisement
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই জাদুঘর কোন ভাবনা থেকে কীভাবে আজকের চেহারায় এসে দাঁড়াল, উদ্বোধনের আগে কোন কোন জিনিস বাদ পড়ল, সামনে এই জাদুঘর নিয়ে কী বা করা যায়-এসব নিয়ে প্রথমবার যুগান্তরে লিখেছেন সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, যিনি এ জাদুঘরের আর্টিস্টিক ডিরেক্টরের ভূমিকাও পালন করেছেন
আমরা জীবন দিয়ে এক বছরের মধ্যে জুলাই জাদুঘর দাঁড় করিয়েছি। যখন প্রথম আমাকে জুলাই জাদুঘরের দায়িত্ব দেওয়া হলো, তখন আমাদের সামনে কোনো পরিষ্কার পথ ছিল না। আমি ফেসবুকে লিখেছিলাম, আমার মনে হচ্ছে গভীর সমুদ্রের মধ্যে একা আমি আছি। কোথায় যাব, কী করব, কিছুই জানি না। তখন আমি দেখার চেষ্টা করলাম, আমাদের সামনে মিউজিয়ামের রেফারেন্স কী আছে! জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং আরও যা যা আছে। কিন্তু আমার পার্সোনাল ফিলিং ছিল, এগুলো যথেষ্ট এনগেজিং না। অনেক প্রদর্শনযোগ্য সামগ্রী আছে, কিন্তু সেই সামগ্রীগুলো আমাকে একটা ইমোশনাল জার্নির মধ্যদিয়ে নিয়ে যায় না। ফলে আমরা আরেকটা ওরকম জাদুঘর বানাতে চাইনি। তখন প্রশ্ন হলো আমাদের জাদুঘর কোথা থেকে শুরু হবে, কোথায় শেষ হবে, কী কী থাকবে?
এখন জুলাই জাদুঘর হয়ে গেছে। এ জাদুঘর দেখার পর ভবিষ্যতে আরেকটা জাদুঘর যদি কেউ বানাতে চায়, তার জন্য কাজটা ইজি হয়ে যাবে। সে আরও ভালো চিন্তা নিয়ে আসতে পারবে। কিন্তু আমরা যখন শুরু করেছি, তখন আমাদের সামনে ভালো কোনো রেফারেন্স ছিল না।
তখন এখানে কিছুই ছিল না, গাছতলা ছিল। গাছতলায় টেবিল নিয়ে আমরা কয়েকজন বসে অফিস করতাম। আমি তানজিম ওয়াহাবকে শিল্পকলা একাডেমি থেকে জাতীয় জাদুঘরে ডিজি করে নিয়ে আসি এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে তাকে জুলাই জাদুঘরের ডিজিও করা হয়।
তিনি আগে বিদেশে জাদুঘরে কাজ করেছেন এবং তার পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা ছিল। আমি যে ভিশনটা দেখছি, তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আমাদের এমন একজন লোক দরকার ছিল, যার কিউরেটরিয়াল নলেজের পাশাপাশি প্রোডাকশন এবং এগজিবিশন সম্পর্কে ধারণা আছে।
তানজিমকে নিয়ে আসার পর আমরা একটা কোর রিসার্চ টিম করলাম। সেই রিসার্চ টিমে ছিলেন কবি হাসান রোবায়েত, সহুল আহমেদ মুন্না, খন্দকার রাকিব, এহসান মাহমুদ, মশফিকুর রহমান জোহান এবং শুরুর দিকে বেশ কিছুদিন সাঈদ খান সাগর। তাদের সঙ্গে ছিলেন ফটোগ্রাফার ও কিউরেটর শামসুল আলম (হেলাল), হাদী উদ্দিন এবং সহন।
কিছুদিন পরে গবেষক হিসাবে যোগ দেন কবি রুম্মানা জান্নাত, ফান্তাসির মাহমুদ, মালিহা নামলাহ এবং হাসান ইনাম। আরও পরে যোগ দেন জুবায়ের ইবনে কামাল, আবু বকর সাঈম এবং সাবিহা নাহলা। হাসান ইনাম এবং আবু বকর সাঈম জুলাই শহীদদের স্মারক সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন। এ কাজে পরে যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শহীদ সৈকতের বোন সেবন্তী। জুলাই আন্দোলনের বেশির ভাগ আর্কাইভাল ফুটেজ জাদুঘরকে সরবরাহ করেছে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। জাদুঘরের অনেক ডকুমেন্টারিতে ব্যবহৃত হয়েছে এই ফুটেজ।
গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন আল হেলাল সম্রাট, তানভীরুল ইসলাম। আর যাদের নাম না বললেই নয়-পাঠশালা ও চারুকলার একদল তরুণ ছেলেমেয়ে আমাদের দারুণ সহযোগিতা করেছে। আমরা প্রতিদিনই বসতাম। ওই মিটিংগুলোতে প্রতিদিনই আলোচনা হতো-জাদুঘরে আমরা কী দেখাব, কোথায় থেকে গল্পটা শুরু করব, কতদূর পর্যন্ত যাব।
একদিন অনেক আলোচনার মধ্যে আমি একটা প্রশ্ন তুললাম-আমরা কি শুধু জুলাইয়ের ছত্রিশ দিনের গল্প বলব? নাকি এ ছত্রিশ দিনকে একটা দীর্ঘ টাইমলাইনের পরিপ্রেক্ষিতে দেখব? এ প্রশ্নটা এসেছে, কারণ আমার কাছে জুলাই হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো আন্দোলন নয়। এর পেছনের পলিটিক্যাল এবং কালচারাল ইনফ্লুয়েন্সও অনেক বিস্তৃত।
আমাদের জীবনে এত বড় ঘটনা কয়েকশ বছরে খুব বেশি ঘটেনি। সবচেয়ে বড় ঘটনা মুক্তিযুদ্ধ। তারপর যদি আরেকটা ঘটনা বিবেচনা করি, আমার বিচারে সেটা জুলাই। আমি তখন বললাম, জুলাই একটা পলিটিক্যাল ঘটনা বটে, কিন্তু আমার কাছে এটা একটা সাংস্কৃতিক ঘটনাও। জুলাইয়ের স্লোগান এবং হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরের স্লোগানগুলো দেখেন। মানুষ শুধু একটা সরকার পরিবর্তনের কথা বলছিল না, তারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছিল।
হ্যাঁ, আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য সরকার ছিল এটা। গুম, খুন, হিটলারি কায়দার নির্যাতন-এমন কোনো কাজ নেই, যা তারা করেনি। কিন্তু মানুষ বিশ্বাস করেনি যে, এ সরকার শুধু নিজের ক্ষমতায় এসব করেছে। মানুষ পরিষ্কার জানত, এ ক্ষমতাটা সে একটা আধিপত্যবাদী শক্তির কাছ থেকে পেয়েছে। ফলে জুলাইয়ে মানুষ জানত সে কার সঙ্গে লড়াই করছে। বিজয়ের পর মানুষের স্লোগানগুলোর বেশির ভাগই ছিল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।
ফলে আমি বললাম, জাদুঘরে এ রিফ্লেকশনটা আসতে হবে। শুধু ছত্রিশ দিনে কী ঘটেছে, তা দেখানো পর্যাপ্ত নয়। তখন আমরা ঠিক করলাম-লেটস স্টার্ট ফ্রম একাত্তর। পরবর্তী সময়ে এখানে আরও রিসার্চ হবে। জুলাই এবং ষোলো বছরের গল্প তো মহাসাগরের মতো। একদিনে এর সব তুলে ধরা যাবে না। নিয়মিত কিউরেশনের মধ্য দিয়ে এখানে কনটেন্ট যুক্ত করা চলমান থাকবে। পাশাপাশি আমাদের শত শত বছরের রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগ্রামের ইতিহাসও নিয়ে আসা হবে।
তিতুমির, ফরায়েজি আন্দোলন, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী, মুজিব, জিয়াউর রহমান, ওসমানী, সেক্টর কমান্ডার, স্বাধীনতাযুদ্ধ, জিয়াউর রহমানের শাসনামল, এরশাদের স্বৈরশাসন, বেগম খালেদা জিয়া-সব গল্পই আসবে। আমাদের সব সময়ের পরিকল্পনা ছিল, জুলাই জাদুঘর যেন একবার দেখে শেষ হয়ে যাওয়া জাদুঘর না হয়। এখানে ক্রমাগত নতুন নতুন প্রদর্শনী এবং কনটেন্ট ঢুকবে, যাতে মানুষ বারবার এটা দেখতে পারে।
পাশাপাশি আরেকটা বড় পরিকল্পনা ছিল এটাকে আমাদের কালচারাল এবং পলিটিক্যাল ডিসকোর্সের একটা কেন্দ্রস্থলে পরিণত করা। এজন্য প্রতি উইকেন্ডে মিউজিক্যাল প্রোগ্রামের পাশাপাশি পাবলিক টক আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলাম। পাবলিক টক শুনলেই বোরিং কিছু একটা মনে হয়। কিন্তু এটা যদি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিকল্পনা করা যায়, দারুণ ইমপ্যাক্টফুল হতে পারে।
যেমন ধরেন, যখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খুনি ধরা পড়ল, তারপরের উইকেন্ডে যদি তানভীর জোহাকে পাবলিক টকের স্পিকার বানানো হয় এবং সে যদি ব্যাখ্যা করে কীভাবে মোজাফফরের ফোন কলের ট্রেইল ধরে তাকে ধরা হয়েছে, সে এত দিন কীভাবে দেশে লুকিয়ে ছিল, ওয়ান-ইলেভেনের মাসুদের সঙ্গে তার যোগাযোগ কেমন ছিল-আপনি কিন্তু আগ্রহী হয়ে শুনতে বসে যাবেন। আবার ব্যারিস্টার আরমানের গুম থেকে ফিরে আসার দিন তাকে স্পিকার করলে তার গল্প শুনতে মানুষ আসবে। আবার ষোলোই ডিসেম্বরে বিজয়ের গানের পর জেনারেল ওসমানী এবং আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান নিয়ে পাবলিক টক হলে মানুষ উপচে পড়বে।
ঢোকার প্রথম মুহূর্তটা কেমন হবে: আমি দায়িত্ব ছেড়ে আসার পর একদিন তানজিমের সঙ্গে গল্প করতে করতেই বললাম-জুলাই জাদুঘরে ঢোকার মুখে যে মাঠটা আছে সেখানে জুলাই জাদুঘরের একটা সাইন বা লোগোর মতো কিছু থাকা উচিত। তার পাশে থাকবে আবু সাঈদের একটা লাইন-ড্রয়িং স্কাল্পচার, অনেকটা ডুডলের মতো। পুরোপুরি আবু সাঈদের ছবি না, আবার দেখলেই বোঝা যাবে-এটা আবু সাঈদ। আর তার নিচে লেখা থাকবে-‘বাকিডি যায় না।’ এই ‘বাকিডি যায় না’ আমার কাছে একটা ঐতিহাসিক লাইন। ‘গুলি করি একটা।’ ‘একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।’ এই বাকিডি কে? আমার কাছে এই বাকিটা হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ।
আমি চেয়েছিলাম, একজন মানুষ যখন প্রথম জুলাই জাদুঘরে ঢুকবে, আবু সাঈদের ওই ডুডল স্কাল্পচার আর ‘বাকিডি যায় না’-এই দুইটা দেখেই যেন জুলাইয়ের পাওয়ারটা ফিল করে। তার নিচে থাকবে-‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। সময়ের অভাবে এটা শেষ পর্যন্ত করা হয়নি। কিন্তু আমি এখনো মনে করি, এটা ইমিডিয়েটলি করে ফেলা উচিত। জুলাই জাদুঘরে ঢোকার প্রথম জিনিসটাই এটা হওয়া উচিত।
সিনেমা বা একটা উপন্যাসের শুরু এবং শেষ কোথায় হবে এটা যেমন সবচেয়ে কঠিন একটা সিদ্ধান্তের ব্যাপার, মিউজিয়াম নিয়েও আমরা সেই অবস্থায় পড়লাম। আমরা প্রথম থেকেই একমত হয়েছিলাম যে এই মিউজিয়াম জাস্ট কিছু স্মারক আর ছবিতে ঠাসা র্যানডম কোনো কিছু হবে না। আমরা চেয়েছি এটা একটা ইমোশনাল জার্নির মতো হোক। অনেক দিন স্ট্রাগল করার পর হঠাৎ কোত্থেকে মাথায় নাজিল হলো-জাদুঘরের শুরু হবে ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ দিয়ে। আর জাদুঘরের শেষ হবে হাসান রোবায়েতের কবিতা ‘তোমরা হয়তো যাইবা ভুলে/খুনী হাসিনার ইতিহাস/সেই মায়ে রাখবো মনে/যে ছুঁইছে পোলার লাশ’। টিমের সবাই এক বাক্যে রাজি হলো। অর্থাৎ আপনি যখন ঢুকছেন, তখন বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ যাত্রার মধ্যে ঢুকছেন। আর যখন বের হচ্ছেন, তখন শহীদের মায়ের কষ্টটা বুকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ আমরা শুরু করলাম একাত্তর থেকে। এখানে আমাদের একটা জিনিস খুব পরিষ্কার ছিল-ইতিহাসকে আমরা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে দাঁড় করাব না। ইতিহাসে যার যে ভূমিকা, সেটা সেভাবেই বলব।
শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণসহ স্বাধীনতার আগের তার যে ঐতিহাসিক ভূমিকা, তা আমরা রেখেছি। আবার ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাও রেখেছি। কারণ একটা ইতিহাসকে সামনে আনার জন্য আরেকটা ইতিহাসকে মুছে ফেলার কোনো প্রয়োজন নেই। একইভাবে শেখ মুজিবের একাত্তরের আগের ভূমিকা আর একাত্তরের পরের শাসনকালকে আমরা এক জিনিস হিসাবে দেখিনি।
স্বাধীনতার পরে মানুষের যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ছিল, বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরের মধ্যে সেই আকাঙ্ক্ষা কীভাবে ধাক্কা খেল, কীভাবে একটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের দিকে দেশ গেল এবং শেষ পর্যন্ত বাকশালের মধ্য দিয়ে একদলীয় ব্যবস্থায় পৌঁছাল-তাও এ ইতিহাসের অংশ।
এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ, বাংলাদেশের ফ্যাসিজমের জেনেসিসটা বুঝতে হলে বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরের দিকে তাকাতে হবে। হাসিনার ষোলো বছরের ফ্যাসিজমকে আলাদা কোনো ঘটনা না। এর ডিএনএ আমাদের ইতিহাসের আগের অধ্যায়ের মধ্যেই আছে। তারপর আসে জিয়াউর রহমানের সময়। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একজন সামরিক শাসক হিসাবে আসেন না। তার সময় বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে একটা পরিবর্তন আসে। পরে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আবার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অধ্যায়ের সূচনা হয়।
এরপর আসে একানব্বইয়ে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে। অর্থাৎ এই ভূখণ্ডের মানুষ বারবার একটা জিনিসের জন্যই লড়েছে-সে নিজের দেশ নিজের মতো করে চালাতে চায়, নিজের ভোট দিতে চায়, নিজের সরকার বেছে নিতে চায়। সে কারও প্রজা হয়ে থাকতে চায় না।
‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ আমরা ওয়ান-ইলেভেনে এসে থামাই।
(চলবে)
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী : বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, চলচ্চিত্র নির্মাতা
