Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

দুই যুদ্ধের ছায়ায় দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন শুরু

যোগ দিচ্ছে না বাংলাদেশ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুই যুদ্ধের ছায়ায় দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন শুরু

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ১১ সদস্যের ব্রিকস সম্মেলন আজ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মণ্ডপমে শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের রাজধানীতে পৌঁছান। সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না।

রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তির প্রচারিত ফুটেজ অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে পুতিন নয়াদিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছালে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং তাকে স্বাগত জানান। বিভিন্ন দেশের নেতাদের স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লির সড়কে সড়কে মোদির হাস্যোজ্জ্বল পোস্টার লাগানো হয়েছে। শুক্রবার পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের ফাঁকে আজ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

যুগান্তরের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, সকালে পুতিন দিল্লিতে পৌঁছানোর পর মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই নেতার বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ একাধিক বিষয়ে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রুশ প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার বাইরে আয়োজিত কোনো ব্রিকস সম্মেলনে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। ফলে পুতিনের দিল্লি সফরকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বাধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্কনীতির প্রভাবের মধ্যে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার মোদি ও পুতিনের বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি উঠে এসেছে। জ্বালানি, প্রযুক্তি, ওষুধ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন।

ব্রিকস নামটি এসেছে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নামের আদ্যক্ষর থেকে। আল জাজিরা জানায়, ২০০৯ সালে একটি ফোরাম হিসাবে এটি আত্মপ্রকাশ করে। পশ্চিমা শক্তির আধিপত্যাধীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে উদীয়মান প্রধান অর্থনীতির দেশগুলো এটি গড়ে তুলেছিল। পরে জোটের পরিধি সম্প্রসারিত হয়। এতে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যে সংঘাত শুরু হয়, সে বিষয়ে এ তিনটি দেশের অবস্থান একে অপরের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ভারতের ‘অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর হর্ষ ভি পন্ত বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ব্রিকস সম্মেলনের এবারের আসরে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতই হবে আলোচনার প্রধান ও স্পর্শকাতর বিষয়।’ পন্ত বলেন, ‘গত বছর পর্যন্ত ব্রিকসের যে সম্প্রসারণকে একটি সাফল্য হিসাবে দেখা হতো, আজ তা-ই ব্রিকসের জন্য বড় এক সীমাবদ্ধতা বা প্রতিবন্ধকতা হিসাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।’

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানান, ভারত ও রাশিয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করছে। রাশিয়া ভারতের জন্য এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি সু-৫৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারতের নতুন বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে।

এনডিটিভি অনলাইন জানায়, সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে পুতিনের আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে আসছেন শি জিন পিং। সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট সিসি, প্রেসিডেন্ট রামাফোসা, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো (ইন্দোনেশিয়া), প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী অংশ নেবেন।

এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক নগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রধান ঝাও জিয়াই যোগ দেবেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম